এবারো কোটি টাকা লিচু বিক্রির আশা 

এবারো কোটি টাকা লিচু বিক্রির আশা 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪২ ৩০ মে ২০২০   আপডেট: ১২:৪৯ ৩০ মে ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জ্যৈষ্ঠ মাসের রসালো পাকা লিচু গাছে গাছে ঝুলছে। লিচু বাগানগুলো এখন মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে শুধু পাকা লিচু আর লিচুর সমাহার। 

এ অঞ্চলে উৎপাদিত লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হলেও চলতি মৌসুমে করোনাভাইরাসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের বাগানের লিচু শুধু সিলেট অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে। লিচুর ভালো ফলন হওয়ায় চাষিরা আশাবাদী চলতি মৌসুমেও তারা দেড় কোটি টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবেন। 

সুনামগঞ্জের ছাতকের নোয়ারাই ইউপির মানিকপুর, গোদাবাড়ী, বড়্গল্লা, চানপুর, রাজারগাও কচুদাইড় গ্রামে রয়েছে রসালো ফল লিচুর বাগান। দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানীয়া গ্রামেও লিচু বাগানের বিস্তৃতি ঘটেছে। চলতি বছরেও লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। 

তবে ছাতকের মানিকপুর গ্রামে প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ শুরু হয়। আর এখান থেকেই আশপাশের গ্রামের মানুষ লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, শত বছর আগে গৌরীপুরের জমিদারের কাছারিবাড়ী ছিল মানিকপুর গ্রামে। বর্তমানে ওই বাড়িটিতে মানিকপুর জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। জমিদারের নায়েব হরিপদ রায় ও শান্তিপদ রায় কাছারি বাড়িতে কয়েকটি লিচু গাছ লাগিয়েছিলেন। বিশাল আকারের  লিচু গাছগুলো এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কাছারি বাড়িতে। কাছারি বাড়ির এসব লিচু গাছ থেকে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে ২/১ টি করে গাছ লাগিয়েছিলেন গ্রামের লোকজন। 

এ গাছগুলোতে লিচুর ভালো ফলন হওয়ায় এবং ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় লিচু চাষে গ্রামের অনেকেই আগ্রহী হয়ে পড়েন। বাণিজ্যিকভাবে কয়েকজন লিচু উৎপাদন শুরু করেন।

২০১৪ সালে বাগান মালিকরা কোটি টাকার লিচু বিক্রি করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এ থেকেই লিচুর গ্রাম হিসেবে মানিকপুর পরিচিতি লাভ করে। পর্যায়ক্রমে আশ-পাশের গ্রামগুলোতেও বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়। 

মানিকপুর গ্রামের লিচু চাষি মতিউর রহমান, রবি মিয়া, আরব আলী, শুকুর আলী, আবু তাহের রইছ মিয়া, আলী হোসেন, জামাল উদ্দিন, বাদল মিয়া, গোদাবাড়ী গ্রামের বাচ্চু মিয়া, রুস্তুম আলী, আনর মিয়া, ফরিদ মিয়া। 

মানিকপুর গ্রামের লিচু চাষি আবু তাহের রইছ মিয়া জানান, বাড়ির আঙ্গিনায় রোপণকৃত লিচু গাছের লিচু বিক্রি করে তাদের কিছুটা আয় হলে তারা লিচুর বাগান করতে আগ্রহী হন। লিচুর ভালো ফলনের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নেন বলে তিনি। জমিদারের কাছারি বাড়ির লিচু গাছ থেকেই চারা সংগ্রহ করে লিচুর বাগান করেছেন। প্রতিবছরই এখানে লিচুর ভালো ফলন হচ্ছে। কয়েকটি গ্রামের বাগান মালিকরা লিচু বিক্রি করে প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় কোটি টাকা আয় করেন। 

গোদাবাড়ী গ্রামের আনর মিয়াসহ অনেকেই জানান, বাগানের লিচু চামচিকা পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে তাদের প্রচুর কষ্ট করতে হয়। বিদ্যুতায়নের আগে বাগানের অর্ধেক লিচু চামচিকা, বাদুড় ও পোকামাকড় নষ্ট করে ফেলতো। দু বছর বিদ্যুৎ আসার কারণে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যাবহার করে পোকামাকড়, চামচিকা, বাদুড়, কটকটি ইত্যাদি প্রাণি তাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। 

ফরিদ মিয়া জানান, ছাতকের বাগান গুলোর লিচু সুমিষ্ট হলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের লিচুর চেয়ে আকারে অনেকটা ছোট। কয়েকবছর আগে স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল এখানের লিচু চাষিদের উন্নত জাতের লিচুর চারা দিয়েছিলেন। এসব চারা থেকে এখানে বড় আকারের লিচুও ফলন হচ্ছে।

লিচু চাষি জামাল উদ্দিন জানান, বাগানে চাষকৃত লিচু বাজারজাত করতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। রাজারগাঁও থেকে চৌমুহনী বাজার রাস্তার একটি ব্রিজ ধসে পড়ায় এখানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। লিচু নিয়ে দোয়ারা উপজেলার বালিউরা বাজার হয়ে তাদের ছাতক শহরে আসতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। 

দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, লিচু চাষে মানুষকে আগ্রহী করতে অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এখানের অধিকাংশ লিচু চাষিরা তার পরামর্শে লিচু বাগান করেছেন। এ অঞ্চলের মাটি লিচু চাষের উপযোগী বিধায় তিনি সবসময় লিচু চাষে উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহার ও লিচু চাষে চাষীদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, এ উপজেলায় পূর্ব থেকেই লিচুর ফলন ভাল হত। এবারও লিচুর ফলন ভাল হয়েছে। এছাড়াও এখান উন্নতজাতের লিচুর চাষ হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি বিভাগ লিচু চাষিদের সবধরনের সহযোগিতা ও পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে