এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ থেকে যেভাবে ‘এন্ড্রু কিশোর’

এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ থেকে যেভাবে ‘এন্ড্রু কিশোর’

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৩ ৭ জুলাই ২০২০  

এন্ড্রু কিশোর

এন্ড্রু কিশোর

ছোটবেলা থেকে গানই ছিলো তার জীবন গানই ছিলো প্রাণ। সময়ের হাত ধরে হয়ে ওঠেন প্লেব্যাক সম্রাট। শুরুটা ৭০ দশকে এরপর গেয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি গান। কণ্ঠ দিয়েছেন উর্দু আর হিন্দি চলচ্চিত্রেও। আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন নানা সম্মাননাও। জীবনের অল্প কিছু গল্পকে বাকি রেখেই ওপারে পাড়ি জমালেন প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। 

তার বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ। মা রাজশাহীর বুলনপুর মিশন গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা মিনু বাড়ৈ। মায়ের কাছেই তার পড়াশোনায় হাতেখড়ি। রাজশাহীতে কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকাল।

মা মিনুর প্রিয় শিল্পী কিশোর কুমার। সেই শিল্পীর নামে নিজের সদ্যোজাত সন্তানের নাম রাখলেন ‘কিশোর’। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে সেই ছেলে সংগীতাঙ্গনেই পা রাখেন। তারপর স্বমহিমায় সেই ছেলে নিজের দেশে কিশোর কুমারের মতোই বিখ্যাত হয়ে উঠে। 

এন্ড্রু কিশোরের সার্টিফিকেট নাম এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। গান করতে এসে বাবা-মায়ের দেয়া পারিবারিক সেই নাম কেটে নিয়েছিলেন নিজের মতো। সেই গল্প মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে শুনিয়ে গেছেন এন্ড্রু কিশোর নিজেই।

এন্ড্রু কিশোরের ভাষ্যে, যখন ফিল্মে গান শুরু করলাম একদিন দেওয়ান নজরুল নামের একজন পরিচালক বললেন, ‘আচ্ছা এন্ড্রু, তোমার এত বড় একটা নাম। কমার্শিয়ালি কিন্তু এ নামের কোনো ভ্যালু নেই! এই নামটা শুট করতেই তো ১০ রিল ফিল্ম বেশি লাগবে। তাছাড়া পৃথিবীতে অধিকাংশ তারকাদের নাম দুই শব্দের হয়। যেমন এলভিস প্রিসলি, লতা মুঙ্গেশকার, উত্তম কুমার, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার সবারই দুই শব্দের নাম। খামোখা তুমি এই চার শব্দের নাম নিয়ে কেন ঘুরছ? লোকে তো মনে রাখতে পারবে না।

পরিচালকের সেই কথাগুলো শুনে এন্ড্রু কিশোর সিদ্ধান্ত নেন নাম ছোট করার। কিন্তু বিপদ ঘটলো চার শব্দের কোন শব্দ ফেলবেন আর কোন শব্দটা রাখবেন সে নিয়ে। 

ওই সাক্ষাৎকারে এন্ড্রু কিশোরে বলেন, আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। কিশোর যেহেতু মায়ের দেয়া ডাকনাম, সেটা তো রাখতেই হবে। আবার কুমার রাখলে কিশোর কুমারের সঙ্গে মিলে যাবে। ঝামেলা হয়ে যাবে। ক্রিশ্চিয়ানিটির কারণে ‘এন্ড্রু’টাও রাখতেই হবে। তাহলে পৈতৃক ‘বাড়ৈ’ টাইটেলটা ফেলে দিই। এটা ভেবে আমি রাজশাহীতে বাবাকে গিয়ে ব্যাপারটা জানালাম। 

এই কথা শুনে বাবা খুবই দুঃখ পেলেন। বললেন, বাপদাদার টাইটেলটা ফেলে দিবি? আমি বললাম, না বাবা, ফেলে দেয়ার ব্যাপার না। নিজের প্রফেশনের প্রয়োজনই এটা করতে হবে। সার্টিফিকেটে তো সবই থাকছে। সে থেকে কুমার আর বাড়ৈ ফেলে দিয়ে হয়ে গেলাম ‘এন্ড্রু কিশোর’।

করোনার দুঃসময়ে এপারের মায়া কাটিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় তার জন্মস্থান রাজশাহীতে মৃত্যুবরণ করেন এন্ড্রু কিশোর। সেখানে তার বোনের বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন এই সংগীতশিল্পী। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামক ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে কয়েক মাস একনাগাড়ে তার চিকিৎসা চলে। কিছুদিন আগে তিনি দেশে ফেরেন। চলে যান জন্মস্থান রাজশাহীতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ