এতো সুযোগ-সুবিধা তবুও যত্রতত্র কোরবানি

এতো সুযোগ-সুবিধা তবুও যত্রতত্র কোরবানি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩৩ ১২ আগস্ট ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা পশু কোরবানি করে থাকেন। কোরবানির পর পশু রক্ত, নাড়িভুঁড়ি যেন যত্রতত্র না ছড়িয়ে পড়ে তাই নিদিষ্ট স্থানে জবাই খানার ব্যবস্থা করেছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারো রাস্তায়, অলিগলিতে কোরবানি চলছে।

সোমবার রাজধানী ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় এক হাজার ১৫১টি স্থানে পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৪৯টি স্থান ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬০২টি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়। উত্তরে ১৮৩টি স্থানে নগরবাসীকে কুরবানি দেয়ার জন্য প্যান্ডেলও করে দেয় হয়।

শুধু তাই-ই নয়, এসব জায়গায় নগরবাসীর জন্য বেশ কিছু সুবিধাও রাখে সিটি করপোরেশন। যার মধ্যে ছিল পর্যাপ্ত পানি, স্যাভলন, ব্লিচিং পাউডার, বর্জ্য অপসারন ব্যাগ, ছোট ছোট ভ্যান গাড়ি, কসাই ও পরিচ্ছন্ন কর্মী। এমনকি কোরবানি জন্য কসাই খরচের ২৫ শতাংশ দেয়াসহ গাড়ি দিয়ে বাড়িতে মাংস পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। কিন্তু এতো সুবিধা দেয়ার পরও নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে নিজ বাড়ি ও গলির মধ্যে কোরবানি করেন নগরবাসী।

নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি কেনো দেয়া হচ্ছে না? জানতে চাইলে ধানমন্ডির বাসীন্দা বেলাল চৌধুরী বলেন, বাড়ির সামনে কোরবানি দিছি আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী দেখতাছে এটাইতো আনন্দ। 

কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা সামসুজ্জামান বলেন, মানুষ আধুনিক হয়েছে এটা বিষয় না। নিজের বাড়ির সামনে কোরবানি দেয়া এদেশের কালচার, সেটাই বড় বিষয়।

ঢাকার মোহাম্মদপু্র, তেজগাঁও, ফার্মগেট, সেগুনবাগিচা, মুগদা, এলিফেন্ট রোড, আজিমপুর ঘুরেও একুশ শতকের আধুনিক যুগের অধিকাংশ মানুষের মুখেই এমনই আদিম মন্তব্য পাওয়া যায়।   

এদিকে কুরবানির পর রাস্তায় অলিগলিতে জবাইকৃত পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ছে। যা অপসরণে পরিচ্ছনকর্মীদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনকি অপসারন অযোগ্য রক্ত মিশ্রিত পানি, গোবর ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকার প্রায় প্রতিটি রাস্তায়।

হিসাব বলছে, ঈদুল আজহায় ঢাকায় পাঁচ লাখের মত পশু কোরবানি হয়। এ থেকে উৎপন্ন বর্জ্য সরিয়ে নিতে মাঠে রয়েছেন দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৮ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/টিআরএইচ