এগিয়ে যেতে হবে আমাদের

মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম

প্রকাশিত: ২১:১১ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২১:১১ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

কথাটা খুব কানে বাজে, ‘‘সার্ভাইবাল ফর দ্যা ফিটেস্ট্য়” ! আমরা আজ অনেক বেশি গ্লোবাল। বিশ্বাস হয় না? আমেরিকার সর্বশেষ ঘটে যাওয়া তথ্যের জন্য কি আপনাকে আমেরিকা যেতে হয়? এই বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে না পারলে, সত্যিই সার্ভাইব করতে পারব না।

একদিন এক থাইল্যান্ডের ছেলের সাথে ফেসবুকে কথা হয়েছিল। তখন কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলাম, আমরা কতটা পিছিয়ে আছি।

আমি যখন বলতাম আমার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তখন সীমান্ত ভাই বলতেন, This is not your weakness, This is your uniqueness!

আমার স্মার্ট ফোন আছে, ইন্টারনেট আছে, এবং নিয়মিত ব্রাউজ করি। কিন্তু আমিন না লিখে যাবেন না, শেয়ার করেন, মেনশন দ্যাট ফ্রেন্ড, এইগুলা নিয়ে খুব বেশি ব্যাস্ত হয়ে গেছি। এমন একটা সময়ে আমরা এই অযথা কাজ গুলা শুরু করেছি, যখন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট উড়াচ্ছে, আর বিশ্ব প্রস্তুত হচ্ছে মঙ্গলে নতুন জীবনের সন্ধানে।

আমরা আমাদের একটা বাক্সের ভীতরে বন্দী করে ফেলেছি। আমি বুয়েট, আমি কুয়েট, আমি ঢাবি। এই গুলো নিয়ে একটা রেসিজমের ব্যাপার চলে আসে। কে কার থেকে বড় এইসব নিয়ে একটা জাত্যভিমানের ব্যাপার চলে আসে।

আবার এইসব নিয়ে অনেকে হতাশ। হতাশাটা ইদানীং একটা প্যাশনের মত। মানে হতাশ না হলেও দেখাতে হবে যে আমি হতাশ। দেখাদেখির হতাশার ব্যাপার আরকি। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে গালি দেওয়ার মধ্যে একটা পৈশাচিক আনন্দ পাওয়া যায়। সেইটা অবশ্য নিজেদের মধ্যে। অন্য ভার্সিটির কারো সামনে, নিজেকে বড় দেখানোর প্রতিযোগীতা চলে-“আমার ভার্সিটির মত ভার্সিটি হয় না “। সব জাগায় রেসিজম।

ঠিক মনে পড়ছে না, ঘটনাটা ২০১৬ এর রিজিওনাল ইনফরমেটিক্স অলিম্পিক হবে হয়তো। ভার্সিটির বড় বড় কম্পিউটার প্রোগ্রামাররা টিম নিয়ে যখম আটটি প্রব্লেম সলভ করেছিল তখন আরেকটা টিম কিন্তু আটটি প্রব্লেম সলভ করেছিল, আশ্চর্যের ব্যাপারটা হল, সেই টিমের ছেলেগুলো ক্লাস নাইনে পড়ে!

 “তুমি যদি শিখতে চাও যে কোনো জায়গা থেকেই শিখতে পারবা, শিখতে না চাইলে এমআইটিও তোমাকে কিছু শিখাতে পারবে না।”

আমার সুযোগ নাই, আমি কেন যেন মানতে পারি না। আমার যোগ্যতা নাই কথাটা বলতে খুব ইগোতে লাগে, তাই দেশের উপর সিস্টেমের উপর রাগ ঝাড়ি।

আমি তো খালি হাতে এসেছিলাম, এখন আমার কাছে যা আছে সব আমার এচিভমেন্ট। আমাদের কি নেই সেইটা নিয়ে কথা বলে দিন রাত মাটি করি, কি আছে সেইটার দিকে একবারও কি নজর দিচ্ছি?

‘গ’ কে উল্টা করে ধরলে আপনি সেইটাকে ‘ড’ বলতেন। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সেইটা তো গ ও হতে পারত। তাই আমরা তাই দেখি, যা আমাদের দেখানো হয়।

কেউ এসে বলে, তোমার কিছু নাই তখনই কান্নাকাটি শুরু করে দেই। কেউ প্রশংসা করলে আবার মাথায় ভূত চাপে। কে এসে বলে গেল “বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি” তাই নিয়েই মেতে গেলাম সেই কথা নিয়ে বহুজায়গায় উদাহরণ টানতেও শুনেছি। আবার কে এসে বলে গেল“বাংলাদেশ এশিয়ার টাইগার হতে চলছে”। নিজের কি কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নেই?

এই দেশে আর্কিমিডিস হয় না। কারণ বাথ ট্যাবে গোসল করার সময় ওরা ক্ল্যাস অব ক্ল্যান্সের লেভেল আপডেটের কথা ভাবে। আপেল মাথায় পড়লে কিভাবে খাব সেই চিন্তাটা আগে করি। নিউটন দাদুও আপেল পকেটে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারতেন। অথবা বিরক্ত হতে পারতেন, “এমনেই চিন্তায় আছি, তার উপর আপেল” তারপর আপেলের উপর নানান প্রকার গালিগালাজ।

আমাদের কম কিছু নেই। একবিংশ শতাব্দীর নতুন মিলেনিয়াম যখন হয়েছে তখন সবাই এক ব্যাপারে একমত এই শতকের সম্পদ হচ্ছে- তেল, গ্যাস, খনিজ অন্য কিছু নয়।

আমাদের দেশের সাড়ে চার কোটি ছেলে মেয়ে লেখাপড়া তথা জ্ঞান অর্জন করছে। যেখানে ডেনমার্কের লোক সংখ্যা ৪৫ লাখ। আমাদের সম্পদ অনেক বেশি। শুধু দরকার একটু পরিচর্যা। সেখানে কে কোথা থেকে এসেছি, কে কোথায় পড়ছি সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা আমরা শিক্ষার্থী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ