‘এখন যবিপ্রবিতে পড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ আছে’ 

‘এখন যবিপ্রবিতে পড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ আছে’ 

যবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৩ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা আনয়নসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রতি গরুর খুরা রোগের ভ্যাকসিন আবিস্কার করে বিজ্ঞান মহলে বিশেষ অবস্থান করে নিয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন যবিপ্রবি প্রতিনিধি নাজমুল হোসাইন।

ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সবচেয়ে বড় অর্জন
-প্রথমত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে দেখছি। সঠিক সময়ে ক্লাস শুরু, পরীক্ষা, ফলাফল দেয়া। দ্বিতীয়ত যশোর শহরের সব ধরনের অপরাজনীতি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত করেছি। শহর থেকে নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পাসে অপরাজনীতি বন্ধ করেছি। এখন যে কেউ আসলেই দেখতে পাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ আছে। এটিই এক বছরের অর্জন।    

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ     

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। যবিপ্রবিতে ভবিষ্যতে ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে আপনার কোনো বার্তা আছে? 
-ছাত্ররাজনীতি কিন্তু আমরা বন্ধ করিনি। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার মন মানসিকতাও আমার নেই। মনে করি, প্রশাসনে যারা আছেন তাদেরও এমন চিন্তা ভাবনা নেই। আমরা চাই ছাত্ররা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি রাজনীতি করবে। সংগঠনে এসে তারা শিখবে। জাতির সম্পর্কে সচেতন হতে শিখবে। নেতৃত্ব দিতে শিখবে। এ ধরনের রাজনীতিকে অবশ্যই আমরা অভিনন্দন জানাই। রাজনীতির নামে কেউ যদি অপরাজনীতিকে চাপিয়ে দেয়, তাহলে সেটা এই বিশ্ববিদ্যালয় মেনে নেবে না।              

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে নেই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। কি করণীয় বলে মনে করেন?
-আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে থাকতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত সব থেকে বড় বিষয়। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিন্তু ঠিক তেমন পরিবেশ পাচ্ছে না। এটা একটা প্রধান সমস্যা। একই সঙ্গে গবেষণা থেকে একটু দূরে থাকেন শিক্ষকরা। তারা গবেষণাকে দূরে ঠেলে রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েছে। এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদেরও গবেষণামুখী করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে গবেষণার জন্য যোগ্য শিক্ষক আছেন। এ জন্য সরকার এবং বেসরকারি খাত বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে আসতে হবে। এই ছোট একটা বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় জার্নালে আমাদের শিক্ষকদের গবেষণা পেপার প্রকাশ হয়েছে। ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটের জন্য অলরেডি কয়েকটি গবেষণা জমা দিয়েছে। এর জন্য শুধু মোটিভেশনের প্রয়োজন হয়েছে। 

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

যবিপ্রবিতে শিক্ষকদের গবেষণা সম্পর্কে জানতে চাই
-একজন উপাচার্য হিসেবে গবেষণার জন্য শিক্ষকদের মোটিভেট করছি। তারা সেই কাজটি করছে। কয়েকদিন আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক পোল্ট্রি শিল্পের একটি নতুন ‘প্রোবায়োটিক’ উদ্ভাবন করেছে। মৎস্য শিল্পের ‘ন্যানো ফিডের’ বিষয়েও কাজ হচ্ছে। এটাও একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার হতে যাচ্ছে। তারপর পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ড. আমিনুলও ভালো ভালো কাজ করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এখন গবেষণায় অনেক ভালো করছে। তাদের এ জন্য ভালো পরিবেশ দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দূর দৃষ্টির ফলে আমদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল-অ্যাকাডেমিয়ার হেকেপ প্রজেক্টটা ২০১৭ সালে সমাপ্ত হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।

শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশের প্রধান অন্তরায় কি বলে মনে করেন? 
-প্রধানত তিনটি কারণকে দায়ী করব। প্রথমত সুষ্ঠু ধারার ছাত্র রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরাজ করছে না। দ্বিতীয়ত শিক্ষকদের ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির দিকে অতি মনোযোগী হওয়ায় গবেষণাধর্মী ও ক্লাসমুখী হচ্ছে না। তৃতীয়ত একজন শিক্ষক যখন কাজ করে প্রতিটি মানুষ স্বীকৃতি চায়। একজন শিক্ষক যখন কাজ করবে, গবেষণা করছে, পাবলিকেশন করছে সে কিন্তু তার স্বীকৃতি পায় না। তাই এই যে কন্ট্রিবিউশানটা বিশ্বের সব দেশে তাকে আলাদা একটা স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই স্বীকৃতির ব্যবস্থা কিন্তু বাংলাদেশে নেই। এটা একটা বড় সমস্যা।

যবিপ্রবির হল সম্পর্কে জানতে চাই
-অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর পরিবেশ নেই। সেই তুলনায় যবিপ্রবির হলগুলো অত্যন্ত সুন্দর। এখানে আছে ছেলেদের জন্য শহীদ মসিয়ূর রহমান হল। এ হলের ভারপ্রাপ্ত  প্রভোস্ট হলেন সহকারী অধ্যাপক মো. মজনুজ্জামান। এখানে থাকতে পারে প্রায় ৮০০। ছাত্রীদের জন্য আছে শেখ হাসিনা হল। এই হলের প্রভোস্ট হলেন ড. সেলিনা আক্তার। প্রায় ৯০০ ছাত্রী থাকতে পারে এই হলে। এছাড়া দুটি হলের ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনি। সেই সমস্যাগুলো সমাধান করি। এ বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর খাবারের মান যাচাই করেছি। মাঝে মাঝে হলের খাবারের মান, রিডিং রুম  পরিদর্শনসহ শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিজে হলে এসে দেখি। হলে সিট বন্টন করে হল প্রশাসন, এখানে কোনো ছাত্র সংগঠন হলের সিট বন্টন করে না। 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

যবিপ্রবিকে গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি কত দূর? 
-গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট বাজেট রাখতে হয়। সবার আগে মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা কতটুকু। ল্যাবের সঙ্কট আছে। এর জন্য দায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে এডিপির বাস্তবায়নের ধীরগতি। এটা বাস্তবায়ন হয়ে গেলে সমস্যাগুলো আর থাকবে না। এডিপির বাস্তবায়ন যে ধীর গতির ছিল, এটার কিন্তু মূল কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক যশোর শহরের অপরাজনীতি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে নবীন শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দিত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র পরিসর নিয়ে তারা আক্ষেপ প্রকাশ করেছে। ভূমি অধিকরণের অগ্রগতি কত দূর? 
-ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টা কি! বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়। আমরা চেষ্টা করছি আরো ৬৫ একর জমি অধিগ্রহণের। কিছু অংশের কাজ অগ্রগতি হয়েছে। এ কর্মকাণ্ডসহ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে আমরা বড় ধরনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার সুনির্দিষ্ট কোনো বার্তা আছে কি না?
-নবীনরা এসে শিক্ষার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ পাবে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো অরাজকতা পরিবেশ আমরা দেখছি সেগুলো পরিহার করে তারা যেন আধুনিক, মুক্তমনা হয়ে নিজেকে দক্ষ মানব শক্তি ও সচেতন নাগরিক রূপান্তর করতে পারে। আগামী দিনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। দেশের প্রতি অবদান রাখতে পারে। 

যবিপ্রবি ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
-১০ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ায় মূল লক্ষ্য। সেখানে ৪০টির বেশি বিভাগ, ৮টির বেশি ভবন নির্মাণ, ৯টি অনুষদ তৈরি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলব। প্রথম বর্ষের ছাত্রদের জন্য আলাদা ভবন থাকবে। যদি আরেকটা হলের নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়ে যায়, তখন প্রথম বর্ষ এবং দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা এক হলে থাকবে। তারপর দ্বিতীয় বর্ষ শেষ হলে তাদের আলাদা হলে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তাদেরকে নড়াচড়া করতে হবে। এক রুমে থেকে পড়ালেখা শেষ করে চলে যাবে এটা হবে না। প্রত্যেক বর্ষের জন্য আলাদা আলাদা ভবন থাকবে সেখানে তারা থাকবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/