‘এখন আমাদের মাথা গোঁজার জায়গাটুকু নেই’

‘এখন আমাদের মাথা গোঁজার জায়গাটুকু নেই’

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৯ ৭ আগস্ট ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

‘মধুমতী নদীতে স্থায়ী বাঁধ দেয়া গেলে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ভাঙন থেকে রক্ষা পেত। এখন আমাদের মাথা গোঁজার জায়গাটুকু নেই। অনেক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।’

কথাগুলো বলছিলেন মধুমতী নদীর ভাঙনের শিকার ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউপির বাসিন্দা ইকরামুজ্জামান।

জানা গেছে, উপজেলার মধুমতী পারের বাজড়া, চর আজমপুর, চরডাঙ্গা, চাপুলিয়া, চরধানাইড়, শিকিপাড়া, চরনারান্দিয়া, বাঁশতলাসহ ১০টি গ্রাম এখন হুমকির মুখে রয়েছে। গোপালপুর-চরডাঙ্গা পাকা সড়কের প্রায় ৫০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে চলে গেছে চাপুলিয়া গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন কেন্দ্রের ৬৫টি ঘর, বাজড়া পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ, চরআজপুর গ্রামের বাড়িঘরসহ ত্রিশটি স্থাপনা। হুমকির মুখে রয়েছে বাজড়া চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিসহ অনেক বাড়িঘর।

ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, মধুমতী তীরের টগরবন্দ, গোপালপুর, বুড়াইচ ও পাচুড়িয়া ইউপির ১০-১২টি গ্রামে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে পাকা সড়ক, বাড়িঘর, কৃষিজমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গাছপালা ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। 

আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাজড়া, চর আজমপুর, চাপুলিয়া, চরধানাইড়, শিকিপাড়া, চাপুলিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি আরো জানান, ভাঙনরোধে ৩০ হাজার বস্তা বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। আগামী শুস্ক মৌসুমে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।  

টগরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাচান শিপন সরকার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ১০ কেজি করে চাল দিয়েছে সরকার।

ফরিদপুর-১ আসনের এমপি মনজুর হোসেন জানান, নদীভাঙন থেকে সম্পদ রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। আপাতত ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাঁধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প তৈরি করছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে