Alexa এক নারীতেই মানসিক ভারসাম্যহীন ১৫০০ পুরুষ!

এক নারীতেই মানসিক ভারসাম্যহীন ১৫০০ পুরুষ!

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১০ ৪ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১০:৩৭ ৩০ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজকুমারী শব্দটি শুনলেই প্রথমেই চোখে ভাসে সুন্দর এক নারীর প্রতিচ্ছবি! ভাবছেন রাজকুমারী দেখতে তো সুন্দর হবেই! আর তার পেছনে শত শত পুরুষ ঘুরবে এটাও স্বাভাবিক! তবে রাজকুমারীর রূপে মানসিক ভারসাম্য হারানোর কথা শুনেছেন কখনো?

আবার এমন কোনো রাজকুমারী কথা জানেন কি, যিনি কি-না দেখতে গোফওয়ালা পুরুষের মতো? এমনই কয়েকজন অপূর্ব সুন্দরীর সম্পর্কে জেনে নিন, যাদেরকে বিয়ে করতে লাখ লাখ তাগড়া জোয়ানদের লাইন পড়ত।

জহোরা খানম
এই রাজকুমারীকে দেখে হয়তো আপনার মনে দ্বিধা আসতে পারে, যে ইনি পুরুষ না নারী। কারণ এ রাজকুমারী দেখতে অনেকটা পুরুষের মতোই ছিল। এমনকি পুরুষের মতো গোঁফ ছিল জহোরার। তবে ১৮ শতকের দিকে এই রাজকুমারীকে বিয়ে করার জন্য হাজার পুরুষ লাইন লাগিয়ে রাখত। সে সময়কার সুন্দরী রাজকুমারীর মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। পৃথিবীর একেক জায়গায় সৌন্দর্যের সংজ্ঞা একেক রকম। ঠিক তেমনি এই ইরানী রাজকুমারী সুন্দরীদের মধ্যে একজন। ১৮৮৩ সালে জহোরা খানম ইরানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন ইরানের চতুর্থ শাহ। 

জহোরা খানমতার পঞ্চাশ বছরের রাজত্বকালে জহোরা জন্মগ্রহণ করেন। জহোরার রূপের পাশাপাশি অনেক গুণের অধিকারী ছিলেন। ১৮ শতকের দিকে নারী অধিকার আদায়ের পদক্ষেপে জহোরা খানমের নাম শুরুতেই রয়েছে। এছাড়াও জহোরা ছিলেন অসাধারণ কবি এবং চিত্রশিল্পী। আর তিনিই ইরানের প্রথম নারী ছিলেন যিনি পাশ্চাত্য দেশের পোশাক পরতেন। তিনি ছিলেন অসীম সাহসের অধিকারী। ততকালীন সময়ে ইরানী কোনো নারী ডিভোর্সের কথা বলতে পরতেন না। তবে জহোরা তার স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন। 

ক্যারোলিন অব ব্র্যান্সউইক 
১৭৬৮ সালে জার্মানিতে জন্ম নেয়া এই রাজকুমারী তার বাবার বিশাল সম্পত্তির মালিক হন। এমনকি বিশ্বের ধর্ণাঢ্য নারীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ক্যারোলিনের সামনের দু’টি দাঁত উঁচু থাকা স্বত্বেও তাকে বিয়ে করতে জার্মানির বড় বড় রাজা এবং রাজকুমারদের লাইন লেগে থাকত রাজপ্রাসাদে। কারণ তখনকার দিনে সুন্দরীদের বৈশিষ্ট্যই ছিল এমনটাই। সবার লক্ষ্য ছিল কীভাবে, কোনো উপায়ে এই সুন্দরীর মন পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে তার বিশাল সম্পদের মালিক হয়ে যাওয়া। তবে ক্যারোলিনের বাবা-মা তার জন্য যোগ্য এবং ভালো পাত্রের সন্ধানে ছিলেন। 

ক্যারোলিন অব ব্র্যান্সউইক অবশেষে ২৬ বছর বয়সে ক্যারোলিনের ওয়েলসের রাজকুমার জর্জের সঙ্গে বিয়ে হয়। তবে দুঃখের বিষয় বিয়ের আগে তারা দু’জন দুজনকে একবারের জন্যও দেখতে পারেননি। আর তাই বিয়ের পর জর্জকে ক্যারোলিনের তেমন পছন্দ হয় নি। ফলে জর্জকে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি এই রাজকুমারী। এজন্য মনে মনে জর্জও খুব কষ্ট পায়। তাই রাজকুমারীর কাছ থেকে দূরে থাকতেন সবসময়। আর ক্যারোলিন নিজের মতো সারাক্ষণ ঘুরাঘুরির মধ্যেই সময় কাটাতেন। তিনি তার সৌন্দর্যে পুরুষদের সবসময় মোহিত করে রাখতেন।  

বারবারা রাদজিওয়েল 
এই রাজকুমারীর সৌন্দর্যে আপনার চোখ ছানাবড়া হয়ে যেতে পারে! তিনি এতটাই সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতি ছিলেন যে, তাকে সেই সময়কার কিছু কিছু মানুষ ডাইনি বলেও ভাবতেন। কারণ এতটা বুদ্ধি আর সৌন্দর্য কোনো সাধারণ মানুষের থাকতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করতে পারতেন না। অনেক তাগড়া পুরুষের মন তিনি পলকেই গলিয়ে ফেলতে পারতেন তার রূপের যাদুতে। ১৫২০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই অতি সুন্দরী রাজকুমারীর পিতামাতা তার লেখাপড়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিলেন।

তারা চাইতেন তাদের মেয়ে যত খুশি তত লেখাপড়া করুক। পিতামাতার উৎসাহেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে বারবারা সব ধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শিখে গিয়েছিল। তাছাড়া দাবা খেলায় তার জুড়ি মেলা ভার ছিল। ঘোড়া চড়া থেকে শুরু করে তীর ধনুক চালানো সব কিছুতেই তার ছিল অসামান্য প্রতিভা। এতো রূপের সঙ্গে গুণের সামঞ্জস্যের জন্যই তখনকার মানুষেরা তাকে হিংসা করত। আর সেজন্যই তাকে ডাইনি বলে তার নামে অপপ্রচার চালাত।

বারবারা রাদজিওয়েল তবে অনেকেই মনে করত ডাকিনী বিদ্যা চর্চা করার ফলেই রাজকুমারী এমন রূপ ও গুণের অধিকারী হয়েছিল। বারবারা এমন রূপে গুণে মুগ্ধ হয়েই লাখ লাখ পুরুষ আকৃষ্ট হয়েছে। কথিত আছে, সে সময় ১৫০০ পুরুষ মানসিক ভারসাম্য হারায়। তবে একজন ধর্ণাঢ্য রাজপুত্রের সঙ্গেই অনেক কম বয়সেই বারবারা বিয়ে হয়ে যায়। মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি বিধবা হন। এতে বারবারা তেমন কষ্ট পাননি, আগের মতোই স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন। মজার একটি ব্যাপার হলো তখনকার মানুষেরা যতই ধনী হোক না কেন, সব সময় অপরিষ্কার থাকত।

শরীরের ময়লা তারা দামী পোশাক দিয়ে ঢেকে রাখত। যা বারবারার একদমই পছন্দ ছিল না। তিনি সবার থেকে অনেকটা আলাদা ছিলেন। নিজেকে সবসময় পরিষ্কার এবং পরিপাটি করে রাখতে পছন্দ করতেন। এমনকি তিনি সবসময়ই দামী এবং সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন। সেসময়কার সব থেকে দামী সুগন্ধি ব্যবহার করতেন বারবারা। কথিত ছিল, অন্ধকার ঘরেও নাকি বারবারাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল তার শরীরের সুগন্ধির জন্য। 

ক্যাথরিন দ্য ফার্স্ট 
এই অনিন্দ্য সুন্দরী রাজকুমারীর গল্প শুনলে হয়তো আপনার সিনড্রেলার কথা মনে পরবে। ক্যাথরিনের জন্ম এক নিম্নবিত্ত পরিবারে। সেখান থেকেই তিনি হন সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও ধর্ণাঢ্য রাজকুমারী। ১৭৫৭ সালে সমগ্র রাশিয়ার রাজপুত্র পিটার ক্যাথরিনকে দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান। এরপর ক্যাথরিনকে বিয়ে করে রাজপ্রাসাদে নিয়ে আসেন এবং বিশাল সম্পদের মালিক বানিয়ে দেন। তবে রাশিয়ার রাজা পিটারের বাবা এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। 

ক্যাথরিন দ্য ফার্স্ট এরপর বাধ্য হয়েই পিটার ক্যাথরিনকে তার রক্ষিতা নাম দিয়ে তার কাছে রেখে দেন। তবে ক্যাথরিন তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রাজার মন জয় করে নেয়। রাজা নিজেই ক্যাথরিনের গুণে মগ্ধ হয়ে তার ছেলের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তবে পিটারের মৃত্যুর পর ক্যাথরিন অনেক অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। জীবদ্দশায় তার অনেকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। 

ভিক্টোরিয়া 
এখনকার দিনে রানী ভিক্টোরিয়ার ছবি দেখে সাদামাটা মনে হলেও যুবতী বয়সে তিনি খুবই সুন্দরী ছিলেন। ১৮১৯ সালে রাজা এডওয়ার্ডের ঘর আলো করে জন্ম নেন ভিক্টোরিয়া। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এই রাজকুমারী সিংহাসনে বসেন। একটানা ৬৩ বছর তিনি ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড শাসন করেন।

রানী ভিক্টোরিয়াতিনি খুব জনপ্রিয় একজন রাজকুমারী ছিলেন। তার রূপে গুণে মুগ্ধ হয়ে অনেক রাজা এবং রাজপুত্র তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে একজন রাজকুমারেরই সৌভাগ্য হয়েছিল তাকে বিয়ে করার। তার বিয়ের মাত্র ২১ বছর পরই তার স্বামী মারা যায়। এরপর ভিক্টোরিয়া অনেকের সঙ্গে প্রেম করেছেন বলে গুজব রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস