এক টিকেটে সব খাবার

এক টিকেটে সব খাবার

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১২ ১ এপ্রিল ২০২০  

দোকানে পণ্য কিনছেন উপকারভোগীরা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

দোকানে পণ্য কিনছেন উপকারভোগীরা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ‘আমরা ৯৫’ নামে একটি সংগঠন। ওই সংগঠন উপকারভোগীদের নিজের মনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ দিচ্ছে। এতে এক টিকেটেই সব খাবার পাচ্ছে উপকারভোগীরা।

বুধবার সকালে আখাউড়া সড়ক বাজারের মেসার্স ভূঁইয়া জেনারেল স্টোরে পণ্য নিতে আসেন হারুনা খাতুন। তিনি ওই সংগঠনের কার্ড দেখিয়ে নিজের ইচ্ছে মতো খাদ্যসামগ্রী কেনার পর ৫০০ থেকে আরো ১৫ টাকা ছিল। ওই টাকা দিয়ে নাতির জন্য দুই প্যাকেট বিস্কুট কেনেন তিনি।

সংগঠনের কার্ড নিয়ে ওই দোকানে আসেন অটোচালক জাহের মিয়া। এ সময় তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিন সাধারণ চাল খাই। কিন্তু সংগঠনের ওই কার্ডে ৫০০ টাকার পণ্য কেনার সঙ্গে চিনি গুঁড়া চালও কিনি।

দোকানি মো. ফোরকান বলেন, আখাউড়া থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়া সংগঠন ‘আমরা ৯৫’ এর দেয়া কার্ড নিয়ে এসে উপকারভোগীরা নিজের ইচ্ছা মতো পণ্য কিনছেন। পান, সিগারেট, আইসক্রিম, ঠাণ্ডা পানীয় বাদে কার্ডধারীদের সব পণ্য দিতে সংগঠন থেকে বলা হয়েছে। সকাল নয়টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ২৩ জন পণ্যসামগ্রী নিয়েছেন। নিজের মতো করে আট-দশ ধরনের পণ্য কিনতে পেরে উপকারভোগীরা খুশি।

পরিদর্শনে এসে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন আখাউড়ার ইউএনও তাহমিনা আক্তার রেইনা। এমন উদ্যোগের ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকার পাশাপাশি উপকারভোগীরা চাহিদা মতো পণ্য নিতে পারছেন বলে সুবিধা হয়েছে। এ সময় তিনি এক উপকারভোগীর হাতে মাস্ক তুলে দেন।

আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, নিঃসন্দেহে উদ্যোগটি ব্যতিক্রম। এলাকা ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কাজ করতে ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে তিনি সংগঠনের নেতাদের প্রতি আহবান জানান।     

‘আমরা ৯৫’ আখাউড়ার নেতারা জানান, বাড়িতে গিয়ে দেয়া, ডেকে এনে দিতে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে না পারা অর্থাৎ করোনা সংক্রমণের শঙ্কা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত। এছাড়া সবার তো ঠিক জানা নেই যে এই মুহূর্তে কার ঘরে কী সামগ্রী কিংবা কতটুকু প্রয়োজন। দরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণে নিজেরা ছবি তুলে কাউকে বিব্রত করা হচ্ছে না বলেও তারা জানিয়েছেন। প্রথম ধাপে ৩০০ পরিবারের মাঝে এভাবে নিত্যপ্রয়োজনী সামগ্রী কেনার সুযোগ দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর