Alexa এক চাষেই দুই বাম্পার

এক চাষেই দুই বাম্পার

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩২ ২০ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলায় মাঠে মাঠে এখন নয়নাভিরাম সরিষার হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য। পুরো মাঠ যেন ঢেকে আছে অপার সুন্দর এক হলুদ গালিচায়।  

জেলার সরিষাবাড়ি, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরেই সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ-চাষের পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক পেশাদার মৌয়াল জামালপুরের সাতটি উপজেলায় সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন।

সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে এসব জমির পাশে মৌমাছির শত শত বক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন মৌয়ালরা। বক্স থেকে মৌমাছিরা উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। মধু সংগ্রহে পেশাদার মৌয়ালদের যেন মহোৎসব চলছে। এ অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় শিশু-কিশোর থেকে প্রকৃতি প্রেমী প্রতিটি মানুষ।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশজামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি  মৌসুমে জেলায় ২০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ১৯টি জায়গায় চার হাজার ১১০টি বক্স বসিয়ে মৌ-চাষ করা হচ্ছে। এবার সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার মেট্রিক টন। আর মৌয়ালরা অন্তত ৩৩ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী, গাইবান্ধা, চরপুটিমারী, চরগোয়ালিনী, গোয়ালেরচর ও পলবান্ধা এলাকায় বেশির ভাগ ফসলি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে সরিষার ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আর ওইসব ফুলের মধু আহরণে নেমেছেন মৌয়ালরা। মৌয়ালদের বক্স থেকে দলে দলে উড়ে যাচ্ছে পোষা মৌমাছি। ঘুরে বেড়াচ্ছে এ ফুল থেকে ও ফুলে। সংগ্রহ করছে মধু। মুখভরা মধু নিয়ে এরা ফিরে যাচ্ছে মৌয়ালদের বক্সে রাখা মৌচাকে।

এ মৌসুমে মৌয়ালরা পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু উৎপাদন করে যেমন লাভবান হচ্ছেন ঠিক তেমনি মৌমাছির ব্যাপক পরাগায়নে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন।

ইসলামপুরের পাথর্শী ইউপির দেলিরপাড় গ্রামে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে আসা গাজীপুরের মৌয়াল আজিজুল হক জানান, তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ১৫০টি বক্স নিয়ে মধু সংগ্রহে ইসলামপুরে এসেছেন। তিনি এ বছর প্রতি সপ্তাহে গড়ে আট মণ মধু সংগ্রহ করতে পারেন।

একই উপজেলার পলবান্ধা ইউপির বাহাদুরপুর এলাকায় মধুপুরের মৌয়াল সোহরাব হোসেন জানান, তিনি এক মাস ধরে মৌমাছির ১২০টি বক্স নিয়ে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করছেন। এখানে মধু সংগ্রহ করে তিনি যেমন লাভবান হচ্ছেন ঠিক তেমনি মৌমাছির পরাগায়নে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয় চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন।

টাঙ্গাইলের 'মাটির পুতুল মৌ খামার' মালিক আলী আহমেদ শুক্রবার এসেছেন ঘোষেরপাড়া ইউপির ছবিলাপুর গ্রামে। সেখানে কথা হয় আলী আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বক্সের ভেতর রাণী মৌমাছি রেখে মৌ চাষ করা হয়। সরিষা খেতের পাশে বসানো ৭০টি বক্স। প্রতিটি বক্সের ভেতর একটি করে রানী মৌমাছি আর ৫-১০টি ফ্রেম। এ ফ্রেমগুলোই হচ্ছে মৌচাক। ঘরে বসে থাকা রানী মৌমাছির খাবার (মধু) যোগাতে ঝাঁকে ঝাঁকে কর্মী মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এনে জমা করে মৌচাকে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশউপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, সরিষা ক্ষেতে মৌ-বক্স বসালে ফলন ভালো হয়। ইসলামপুরে গত বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌয়ালরা ১৬ টন মধু উৎপাদন করেছে। এ বছর উপজেলায় ছয় হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এ থেকে পাঁচ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হতে পারে। উপজেলায় মৌয়ালরা মধু সংগ্রহের জন্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার বক্স বসিয়েছেন। এ অঞ্চলে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সবচেয়ে বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষার ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে লাভবান হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পেশাদার মৌয়ালরা।

তিনি আরো জানান, এক সময় ভোজ্য তেল হিসেবে একমাত্র সরিষার তেল ব্যবহৃত হতো বলে তখন সরিষার প্রচুর আবাদ করা হতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সয়াবিন তেলের প্রচলন বেড়ে যাওয়ায় সরিষার আবাদ কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ‘টরি-৭’ ও ‘বারি ১৪’সহ উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলনও ভালো হয়েছে। বাজার মূল্য ভালো থাকলে চাষিরা এবার লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম