Alexa এক উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে মেক্সিকোর পর্যটন

এক উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে মেক্সিকোর পর্যটন

ডেস্ক নিউজ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ৫ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:৪৪ ৫ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়েই পরিবেশ পর্যটনে বাড়ছে আগ্রহ। পর্যটন শিল্পের আয় বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু আমরা ভেবে দেখছি কী, এই লাভ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কতটুকু কাজে লাগে! এই বিশাল ব্যবসায়ের লাভ স্থানীয় জনগণের তেমন কোনো কাজেই লাগে না। মেক্সিকোর এক স্টার্ট-আপ কোম্পানি সেই অবস্থার পরিবর্তন আনতে চাচ্ছে।

এর সুবাদে সম্পর্ক গড়ে উঠছে গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে। মেক্সিকোর  আলমাসেন পর্বত সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে আড়াই হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সেখান থেকে উপত্যকায় পানির ঢল নামে। এর ফলে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিক্ষয়।

সেইসঙ্গে অনেক মানুষ রুটি-রুজির খোঁজে শহরে চলে যাওয়ার ফলে কৃষি জমিতে খুব বেশি চাষাবাদ হচ্ছে না।

এই দুষ্ঠুচক্র ভাঙতে চায় একটি গোষ্ঠী যার নাম মুহেরেস মিলোনারিয়াস। মুহেরেস মিলোনারিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা বিবিয়ানা বাউতিস্তা গাইতান জানিয়েছে, ভূট্টা, গম বা বীন চাষ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। অথচ এখানকার বেশিরভাগ মানুষ সেসব খেয়ে বাঁচে। একবার চাষের মাটি হারালে তা আবার ফিরে পাওয়া কঠিন। কাজের জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণ মানুষের অভাবেই আরো করুণ পরিণতি ঘটছে। এর ফলে আরো বেশি সংখ্যক কম বয়সীরা অঞ্চল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তৈরি হয়ে যাওয়া এই দুষ্টুচক্র ভাঙতে কাজ করছেন তারা। 

এই গোষ্ঠী ভূমি ক্ষয় মোকাবিলা করতে ক্যাকটাসের মতো দেখতে কিছু গাছ বেছে নিয়েছে। সেখানে এই গাছ সহজেই বড় হয়। সারিবদ্ধভাবে এই গাছ লাগালে মাটির নিচে শেকড়ের এক জাল সৃষ্টি হয়। ফলে পানি ও পুষ্টি মাটিতেই ফিরে যায়।

আলেহান্দ্রা রড়রিগেস বাউতিস্তা, মুহেরেস মিলেনারিয়াস এর আর এক সদস্য বলেন- ‘আমরা তরুণ প্রজন্ম। আমাদের সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করতে চাই, যাতে তারা আমাদের এলাকা ও জমির দেখাশোনা করে। বিশেষ করে ভিটেমাটি ছেড়ে তারা যাতে চলে না যায়, এর বেশি কিছুই চাই না।’

এই গোষ্ঠী কাজ শুরু করার পরে রাজধানী মেক্সিকোর সিটি থেকে সহায়তা আসছে। 

এর পেছনেও কাজ করছে এক তরুণ। নাম এমিলিয়ানো। এমিলিয়ানো মেক্সিকোর শহরে বড় হয়েছে। তার জীবন অবশ্য আলমাসেনের বাকী মানুষের মতো হয়নি। শিশু হিসেবে তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রাম গঞ্জে যেতেন। ২০১৭ সালে তিনি রুতোপিয়া নামে এক কোম্পানি গড়ে তোলেন।

মেক্সিকোর গ্রামাঞ্চলে টেকসই ভ্রমণের ব্যবস্থা করে এই কোম্পানি। এই পর্যটনের পোশাকী নাম ইকোট্যুরিজম। কিন্তু বাস্তবে তা মোটেই টেকসই হয়নি।

এমিলিয়ানে ইতুরিয়াগা, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ‘রুতোপিয়া’- এখনো এই ব্যবসা বড় একপেশে। মানুষ শহরাঞ্চল ও বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ কাজে লাগায় কিন্তু তার বদলে কিছু ফিরিয়ে দেয় না। রুতোপিয়া এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে চায়। তাদের ভ্রমণ সূচি ন্যায়ভিত্তিক হয়। গ্রামের মানুষকে সমাধিকারের ভিত্তিতে সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হয়। আয়ের সিংহভাগ গ্রামাঞ্চলেই থেকে যায়, সেই অর্থ সরাসরি বিনিয়োগ করা হয়। যেমনটা মুহেরেস মিলেনারিয়াস গোষ্ঠীর পরিবেশ সংরক্ষণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এমন এক ভাবনা পর্যটকদেরও মন জয় করে নিয়েছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে

গ্রন্থনা: স্বরলিপি

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে