‘একে একে তিতুমীর কলেজের সব সমস্যা দূর হচ্ছে’

‘একে একে তিতুমীর কলেজের সব সমস্যা দূর হচ্ছে’

তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৪ ৬ জানুয়ারি ২০২০  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইতিহাস আর ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সরকারি তিতুমীর কলেজ। শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক দিয়ে এশিয়া মহাদেশের সর্ব বৃহৎ সরকারি কলেজ এটি। এই কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী আছেন ৫৮ হাজার। অধ্যক্ষ হিসেবে আছেন এই কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সহকারী শিক্ষক প্রফেসর আশরাফ হোসেন। কলেজের আবাসন সমস্যা ও সঙ্কট নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন শাহাদাত নিশাদ। 

আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক
-আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক। সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিজের পরিবারের মত মনে করি। সরকারি তিতুমীর কলেজের আগের অবস্থান চিন্তা না করে কিভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি সেই লক্ষেই সব সময় কাজ করি। ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীর পরিবার এই কলেজটি। নানান সমস্যা রয়েছে কলেজে। যতটুকু পেরেছি সমাধান করছি। সরকারের কাছেও বেশ কয়েকটি দাবি দিয়েছি। সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত ক্লাস করছে
-শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত ক্লাস করছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করত না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্তির পর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আছে। ক্লাসরুম সঙ্কটের কারণে দুই শিফটে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা থাকলে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। তবুও শিক্ষার্থীদের চাপ সামলানো যাচ্ছে না। ক্লাসের সঙ্কট দূর হবে। ১০তলা বিশিষ্ট দুটি 
একাডেমিক ভবনের কাজ চলছে। প্রায় পাঁচতলার এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। 

আরেকটি বড় সমস্যা শিক্ষক সঙ্কট
-কলেজে আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে শিক্ষক সংকট। ২২টি বিভাগে পড়ছেন ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী। এর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ২১০ জন। আরো শিক্ষক প্রয়োজন। অল্প সংখ্যক শিক্ষক নিয়ে একাডেমিক কাজ সুষ্ঠুভাবে চালানো কষ্টকর। এক ধরনের জোড়াতালি দিয়ে চালাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী অনুযায়ী কলেজে আরো অনেক শিক্ষক প্রয়োজন সরকারের কাছে শিক্ষক সংকট সমাধানের আমাদের জোরালো দাবি। 

বিজ্ঞান ভবনসহ সবগুলো ভবন পুরনো
-কলেজের বর্তমান বিজ্ঞান ভবনসহ সবগুলো পুরনো। বেশ কয়েকবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। বর্তমানে তিনটি ভবনের সংস্কার কাজ চলছে। বিজ্ঞান ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে এর সংস্কার কাজ হয়েছে৷  প্রত্যেক রুমে টাইলস করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোকে সংস্কার করে রং করা হয়েছে। বাকি যে ভবনগুলো রয়েছে সেগুলোরও কাজ শুরু হবে। 

আধুনিকায়ন করা হবে ভবন
-কলেজের তিনটি যে ভবন রয়েছে প্রত্যেক ভবনকে আধুনিকায়ন করা হবে। প্রত্যেকটা শ্রেণিকক্ষে টাইলস বসানো হবে। ক্লাসরুমে মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম থাকবে।  আধুনিক মাইক্রোফোনের ব্যবস্থা করা হবে। লাইটিং এবং পুরাতন ফ্যানগুলো পরিবর্তন করে নতুন করে লাগানো হবে। 

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই
-সম্প্রতি নতুন একটি বিআরটিসি বাস পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি এই কলেজে পরিবহন সংকট দূর করতে আরো কয়েকটি বাস দাবি করছি। এখন সর্বমোট পাঁচটি বাস যুক্ত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী সংখ্যায় এটি একেবারেই অপ্রতুল। 

শিক্ষার্থীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে
-শিক্ষার্থীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। তিনটি আবাসিক হল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ছেলেদের আক্কাসুর রহমান আঁখি ছাত্রাবাস। মেয়েদের সুফিয়া কামাল ছাত্রী নিবাস ও সিরাজ ছাত্রী নিবাস। এরইমধ্যে আমাদের আরো ১০তলা বিশিষ্ট দুটি ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ চলছে। চারতলা পর্যন্ত কাজ শেষ। সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ হলে আবাসন সংকট কিছুটা কমবে।

কলেজে তো সমস্যার অভাব নেই
-কলেজের সমস্যার অভাব নেই। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। কলেজে বেশ কয়েকদিন ধরে দেখছি শিক্ষার্থীরা যে টয়লেট ব্যাবহার করে সেগুলো খুবই নোংরা। ছাত্রছাত্রীদের এই নোংরা টয়লেটগুলো আর থাকবে না। সেখানে পরিষ্কার টয়লেট ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যাতে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে সেই লক্ষে প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে বিশুদ্ধ পানির ইলেকট্রিক ফিল্ডার বসানো হবে। বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে মূল ফটক পর্যন্ত নতুন করে রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। ক্যাম্পাসকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিয়ে আসছে পুরো ক্যাস্পাসে ওয়াইফাই জোনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।  

শিক্ষা কার্যক্রম চলছে যেমন
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২১০ শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষকের শক্তিশালী একটি সার্বিক শৃঙ্খলা বিধানে নিয়োজিত থাকে। তারা রুটিন অনুযায়ী ক্লাস হচ্ছে কিনা বাইরে থেকে আসা ভর্তিচ্ছুরা বিভিন্ন কাজে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা সেগুলো খবর রাখে। এছাড়াও সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন সরকারি অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তদারকি করা হয়। 

একটি লাইব্রেরি, প্রচুর শিক্ষার্থী
-ছাত্র সংখ্যা অনুযায়ী কলেজে মাত্র একটি লাইব্রেরি। তাও ততবড় না। একটি লাইব্রেরি দিয়ে প্রচুর শিক্ষার্থীর চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। লাইব্রেরির চাহিদা মেটাতে আমাদের প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের সেমিনারে প্রচুর বই রয়েছে। লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই আছে। তবে প্রয়োজন অনুসারে লাইব্রেরিরও প্রসার ঘটবে।

পানি জমে থাকার সম্ভাবনা থাকবে না
-‘বর্ষা মৌসুমের আগের পুরো সময়টা জুড়ে আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন জায়গা, ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার করা হবে। যার ফলে বর্ষাকালীন সময়ে ভারী বৃষ্টিতেও কোনো পানি জমে থাকার সম্ভাবনা থাকবে না।

শিক্ষার্থীদের সব সমস্যা দূর হচ্ছে  
সফলতা আমার সেদিনই আসবে যেদিন এ কলেজকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম স্থানে নিয়ে যেতে পারবো। তার আগ পর্যন্ত আমার ব্যর্থতা। একে একে শিক্ষার্থীদের সব সমস্যা দূর হচ্ছে। আরো হবে ইনশাআল্লাহ।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম