একাকিত্বে গবেষকের সঙ্গী ‘ঝুঁটি শালিক’

একাকিত্বে গবেষকের সঙ্গী ‘ঝুঁটি শালিক’

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩২ ১২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:০২ ২৪ জুলাই ২০২০

ঝুঁটি শালিক

ঝুঁটি শালিক

পাখির ঝাঁক আর কিচিরমিচির শব্দ সবারই ভালো লাগে। আবার কোলাহল ডাকে কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে ফেরা মানুষগুলোর মনে প্রশান্তিও ফিরে আসে। আর এমনই একজন আছেন যার ক্যামেরায় প্রকৃতিতে বিচরণ করা দেশের সব প্রজাতির পাখির ছবি রয়েছে। গবেষণার কাজে সারা বাংলাদেশ ভ্রমণও করেছেন। করোনার এ সময়ে তার একাকিত্বে ভালোবাসার চিরসঙ্গী হয়েছে ঝুঁটি শালিক দম্পতি। তিনিও পাখি পরিবারটি বরণ করে নিয়েছেন হৃদয়ের সবটুকু ব্যাকুলতা দিয়ে। এর মধ্য দিয়েই নিজের ঘরে প্রাকৃতিকভাবে পাখি পালনের চিরন্তন স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, পাখি পালনের শখ মোটামুটি সবারই থাকে। কিন্তু এতে ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত বুনো পাখি পালন সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। দ্বিতীয়ত পাললেও পাখি থেকে অসুখ হতে পারে কিংবা আপনার থেকে পাখির অসুখ হতে পারে। আর এসব পাখি খাঁচায় বন্দী থাকলে বেশি দিন বাঁচে না।

ইনাম আল হক বলেন, পাখি পালনে আরো সমস্যা রয়েছে। একটি পোষা পাখি রাখা মানে নিজের হাত-পা শিকলে বেঁধে ফেলা। কোথাও ঘুরতেও যাওয়া যায় না। কারণ পাখির জন্য চিন্তা থাকে। পাখিগুলোকে কে খাওয়াবে, কে দেখবে ইত্যাদি।

ইনাম আল হক

তিনি বলেন, আমার ঘরের ঠিক পেছনেই দেয়ালের ছিদ্রতে সংসার বেঁধেছে ঝুঁটি শালিক। তাদের ছানাও হয়েছে। ৮ জুলাই শালিক পরিবারের ছবি তুলেছি। তারা আমার সঙ্গে থাকতে থাকতে এখন আর ভয় পায় না।

পাখি পালন বিষয়ে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, আমার ঘরের বাইরের দেয়ালে একটা ছিদ্র থাকলেই পাখি পালা হয়ে গেলো। আমি কোথাও গেলে চিন্তা করতে হবে না। কারণ তাদের খাঁচাবন্দী করিনি। তারা প্রকৃতিতেই রয়ে গেছে। তবে স্বাধীন থাকলেও আমার অধীনেই রয়েছে। প্রতি মুহূর্তে তাদের দেখছি। আসছে-যাচ্ছে। শালিক দুইটির মধ্যে লড়াই বা প্রেম-ভালোবাসা সবই হচ্ছে। এতে আমার পাখি পালনের শখটাও মিটে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক

তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে চার মাস ধরে ঘরবন্দী। কিন্তু এ পাখিদের পুরো ঘর-সংসার, প্রেম-ভালোবাসা, ডিমে তা, বাচ্চা পালন, পরে বাচ্চাটা বের হয়ে এলো সবকিছু দেখলাম। কিন্তু পালা পাখির এ অসাধারণ দৃশ্যগুলো সবসময় উপভোগ করা যায় না। কারণ খাঁচাবন্দীর পাখির কোনো স্বাধীনতা নেই।

সবার উদ্দেশে প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, ঘরবাড়ি বানানোর সময় একটু খেয়াল করলেই পাখিদের এমন সুবিধা করে দেয়া যায়। যে পাশে লোকের আনাগোনা কম সেই দেয়ালে দু-চারটা ছিদ্র রাখলেই শালিক, দোয়েলরা বাসা বাঁধবে। এতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রকৃতিতে থাকা পাখিকে কাছ থেকে দেখার আনন্দ উপভোগ করা যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/