একটি সেতুর অভাবে লাখো মানুষের দুর্ভোগ 

একটি সেতুর অভাবে লাখো মানুষের দুর্ভোগ 

মো. রাকিবুল ইসলাম রুবেল, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪১ ১৪ আগস্ট ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় একটি সেতুর অভাবে ১৪ গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। 

উপজেলার দশসিকা গ্রামে ফুলজোড় নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে স্বস্তি ফিরবে এই অঞ্চলের মানুষের। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলার চর দশসিকা, চর শাহবাজপুর, চরগাড়াবাড়ী, বিলগাড়াবাড়ী, উল্লাপাড়া উপজেলার চর দমদমা, তেঁতুলিয়া, পেঁচরপাড়া, দুর্গাপুর, চিলারপাড়া, ধইঞ্চি, বড়হর, শুটকিপাড়া, সদাইসহ কয়েকটি গ্রাম  কৃষিপণ্য উৎপাদন ও পোল্ট্রি শিল্পের জন্য বিখ্যাত। 

উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে যেতে হয় ফুলজোড় নদীর উপর দিয়ে। বর্ষাকালে ৬ থেকে ৮ মাস ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে পার হতে হয় এই সব এলাকার বাসিন্দাদের। 

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চর দশসিকা গ্রামে ফুলজোড় নদীর উপর ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হচ্ছেন অনেক মানুষ।  

স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীদের দুর্ভোগ বেশি পোহাতে হচ্ছে। এই এলাকায় ফুলজোড় নদীর উপর একটি সেতু নির্মিত হলে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে এ অঞ্চলের প্রায় দেড় লাখ মানুষ। পাশাপাশি কৃষি ও পোল্ট্রি শিল্পের আরো প্রসার ঘটবে। 

চরদশসিকা গ্রামের পোট্রি খামারি কাউসার জানান, নদীতে পানি থাকায় মুরগির খাদ্য ও মুরগি আনতে সমস্যা হওয়ায় গত ৪ মাস যাবত খামার বন্ধ রয়েছে। এ এলাকায় একটি সেতু হলে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে। 

পোল্ট্রি খামারি ইকবাল জানান, নদীতে পানি আসার পর থেকে ৫ মাস হলো খামারে মুরগি তুলতে না পেরে প্রায় ২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। 

চর শাহবাজপুর গ্রামের আবু সাইদ জানান, এই এলাকায় ফুলজোড় নদীর উপর একটি সেতু না থাকায় কয়েক কিলোমিটার সড়ক ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হয়। অনেক সময় নৌকা না পাওয়ায় জরুরি রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। 

চরগাড়াবাড়ী গ্রামের জাকির মাহী জানান, বছরের প্রায় ৮/৯ মাস ফুলজোড় নদীতে পানি থাকে। নদীতে পানি থাকাকালীন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। এ এলাকায় একটি সেতু নির্মিত হলে দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। 

উল্লাপাড়া উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ডিস ক্যাবল ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ের জন্য বেশি সময় ফুলজোড় নদীর উপর দিয়ে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল বাজারে যেতে হয়। এই এলাকায় একটি সেতুর খুবই প্রয়োজন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবু হানিফ জানান, দশসিকা গ্রামের ফুলজোড় নদীর উপর ১৫০ মিটার সেতু নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা সহ প্রয়োজনীয় সব জরিপ এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের জন্য একনেক অনুমোদন দিয়েছে। সেতুটি নির্মাণের জন্য বর্তমানে ডিজাইনের প্রক্রিয়া চলছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে