Alexa একটি প্রেরণা যোগানো রাজনৈতিক গল্প

একটি প্রেরণা যোগানো রাজনৈতিক গল্প

প্রকাশিত: ১৬:১৮ ১৪ মে ২০১৯  

কবি হিসেবেই পরিচিতি অমিত গোস্বামীর। তবে উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও বেশ সুনাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই লেখকের। পেশায় সাংবাদিক। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই ভারতে। তবে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান। বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে উপন্যাস লিখে এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।

আমি দিল্লিতে এসেছি কয়েকটি কাজে। আমার দিল্লির এক সাংবাদিক বন্ধু একটি অঞ্চল দেখিয়ে বললেন ‘এখানেই তোমার প্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী একসময় ৬ বছর টানা বাস করেছেন’।

-কে? শেখ হাসিনা?
-ঠিক ধরেছ বন্ধু।

বিপুল বিস্ময়ে জায়গাটি দেখলাম। অস্বীকার করি না যে এই নেত্রী সম্পর্কে আমার একটি মুগ্ধতা চিরকালই আছে। তাই জানি, তিনি ১৯৭৫ এর কালো রাতের পরে দিল্লিতেই বসবাস করেন। জায়গাটা দেখলাম আর ফিরে গেলাম বিভিন্ন বইয়ে পড়া শেখ হাসিনার স্বদেশে প্রত্যাবর্তণের আগের সময়গুলোতে।

১৯৮১ সালের ১৭ই মে। বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের দিল্লি থেকে আগত বোয়িং বিমান থামল তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে। নেমে এলেন শেখ হাসিনা মেয়েকে নিয়ে। সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ এবং কোরবান আলী। সেদিন ঢাকা বিমানবন্দরে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে হাজির। আগত যাত্রীদের মধ্যে সাংবাদিক ও ভারতীয় ইন্টালিজেন্সের সদস্যরা ছিলেন। তারাও অবাক। এত মানুষ! এত সমর্থন! দিকে দিকে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে। ভারতীয় টিভি ও আকাশবানীতে সম্প্রচারিত হল সেই সংবাদ। আমার মত এক আঠের বছরের তরুণ সেদিন তার কবিতার খাতায় লিখছিল একটি নতুন কবিতা –

অনুভুতি রঙ আবহমানের স্রোতে তুমি পারো দিতে বিরুদ্ধতার পাঠ
বাংলাদেশের  দেশ মাঠ গ্রাম হতে তুফান উঠেছে কাঁপিয়ে সে তল্লাট।
তোমার পায়ের স্পর্শ পড়েছে মাঠে শহর ভেঙেছে নিঙড়ে শহরতলি
শাসকের ঘুম ভেঙেছে অনেক ভোরে পাহারা দিচ্ছে রাজপথ কানাগলি
তবুও তোমার ঋজু গ্রীবা ভঙ্গিমা তোমার শব্দ পেরোলো মধ্যযাম
নতুন সকাল এনেছে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা মুক্তি তোমারই নাম।

ভারত নিশ্চিন্ত হল ভারতের ঘরের মেয়ে নিরাপদে নিজের ঘরে পৌঁছেছেন। স্পষ্ট বলা ভালো, বিশেষত ভারতের বাঙালিরা কিছুতেই চাননি তাদের ঘরের মেয়েকে বাংলাদেশ নামক বিপদের গুহায় যেতে দিতে। কিন্তু তিনি যাবেনই। অতএব চূড়ান্ত উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষায় থাকা। কিন্তু তিনি এতদিন কোথায় ছিলেন? তার পরিবার নিহত হওয়ার পরে? কী হয়েছিল তার জীবনে ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫ এর পরে? সেই দিন শেখ হাসিনা, তার স্বামী ডক্টর ওয়াজেদ মিয়া আর বোন শেখ রেহানা সেদিন ব্রাসেলস-এ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সানাউল হকের কাছে ছিলেন। সেদিন ব্রাসেলস থেকে ওদের প্যারিস যাওয়ার কথা। কিন্তু আগের দিন গাড়ির দরজায় ডক্টর ওয়াজেদের হাত চেপটে গিয়েছিল। আঙুল ফুলে আছে। ব্রাসেলসের সময়ে তখন ভোর তখন সাড়ে ছ'টা। সানাউল হকের টেলিফোন বেজে উঠল। অন্য প্রান্তে ছিলেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী। তিনিই জানালেন বাংলাদেশে সেনা বিদ্রোহ হয়েছে সকালে। প্যারিসে না গিয়ে মুজিবকন্যারা যেন জার্মানি ফেরত চলে আসেন। কিন্তু যে মুহূর্তে রাষ্ট্রদূত সানাউল হক শুনলেন যে সেনা বিদ্রোহে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন, তখনই তার দুই কন্যা এবং জামাতাকে কোনো রকম সাহায্য করতে অস্বীকার করলেন। উপরন্তু নিজের ঘর থেকেও তাদের চলে যেতে বলেন রাষ্ট্রদূত সানাউল হক। শেখ হাসিনা রাস্ট্রদূত সানায়ূল হকের কাছে জার্মানি যাওয়ার জন্যে একটি গাড়ি চাইলেন। জার্মানি পর্যন্ত যাওয়ার জন্য একটা গাড়ি দিতেও অস্বীকার করেছিলেন এই রাস্ট্রদূত। কী নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা। অথচ কিছু দিন আগেই শেখ মুজিবই তাকে বেলজিয়ামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়েছিলেন। এটা একটা রাজনৈতিক নিয়োগ ছিল। নিজ উদ্যোগে কোনরকমে গাড়ি যোগাড় করে তারা জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীর কাছে পৌঁছেছিলেন। তারা সেখানে যাওয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই যুগোস্লাভিয়া সফরে আসা বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর কামাল হোসেনও সেখানে পৌঁছান। এরই মধ্যে যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি মার্শাল টিটো শেখ মুজিবের দুই কন্যা ও জামাতার খোঁজখবর নেয়ার জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু এরপরে তারা কোথায় থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছিল না। দু’একদিনের মধ্যে পশ্চিম জার্মানিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত ওয়াই কে পুরীর সঙ্গে হুমায়ূণ রশিদ চৌধুরীর দেখা হয়েছিল একটা কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে। তিনি মি. পুরীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে ভারত কি শেখ হাসিনা আর তার পরিবারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে পারবে? পরের দিন মি. পুরী আমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে তার দফতরেই চলে আসেন। তিনি বললেন যে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটা অনেক সময় নেয়। সে রাস্তায় না গিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা ভাল।  হুমায়ূণ রশিদ চৌধুরীর নিজেরই অনেক চেনাশোনা, কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে সেখানে মিশন প্রধান ছিলেন তিনি। ইন্দিরা গান্ধী আর তার দুই পরামর্শদাতা ডিপি ধর এবং পিএন হাক্সর তো তাকে তো বেশ পছন্দ করেন। রাষ্ট্রদূত ওয়াই কে পুরী তাকে তখনই ফোন করতে অনুরোধ করেন। তার সামনেই মি. চৌধুরী ডিপি ধর এবং পিএস হাক্সরকে ফোন করেন। কিন্তু দুজনেই সেইসময়ে ভারতের বাইরে। তাহলে উপায়? ভারতীয় রাস্ট্রদূত সরাসরি ইন্দিরা গান্ধীকে ফোন করতে অনুরোধ করেন। ইন্দিরা গান্ধীকে সরাসরি ফোন করতে হুমায়ূণ রশিদ চৌধুরী একটু ইতস্তত করছিলেন। মিসেস গান্ধী একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী আর মি. চৌধুরী একজন সাধারণ রাষ্ট্রদূত। মিসেস গান্ধীর সঙ্গে তার কয়েকবার সাক্ষাত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বছর তিনেক তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না। তখন ভারতে জরুরি অবস্থা চলছে। মিসেস গান্ধী নিজেই ব্যতিব্যস্ত। কিন্তু অন্য উপায় না দেখে একরকম শেষ চেষ্টা করে দেখার জন্য হুমায়ূণ রশিদ চৌধুরী মিসেস গান্ধীর দফতরে ফোন করেই ফেললেন। ওই নম্বরটা ভারতের রাষ্ট্রদূত মি. পুরী দিয়েছিলেন। সেই ফোনটা ইন্দিরা গান্ধী নিজেই তুলে ছিলেন। বাবা মিসেস গান্ধীকে গোটা বিষয়টা খুলে বললেন। তক্ষুনি বঙ্গবন্ধুর কন্যাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে রাজী হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

জার্মানিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত মি. পুরী ১৯শে অগাস্ট হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীকে জানিয়েছিলেন যে দিল্লি থেকে নির্দেশ এসেছে শেখ মুজিবের দুই কন্যা এবং তাদের পরিবারকে সেখানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে খুব তাড়াতাড়ি। ২৪শে অগাস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে শেখ হাসিনা তার পরিবারের বাকিরা দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে নেমেছিলেন। ভারতের মন্ত্রিপরিষদের একজন যুগ্ম সচিব তাদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন। প্রথমে ৫৬ নম্বর রিং রোডের একটি 'সেফ হাউস'-এ তাদের রাখা হয়েছিল। পরে ডিফেন্স কলোনির একটি বাড়িতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের।

দশ দিন পরে, সরকারি একজন কর্মকর্তা তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আবাস ১ নম্বর সফদরজং রোডে পৌঁছান। দেখা হওয়ার পরে ইন্দিরা গান্ধীকে শেখ হাসিনা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘১৫ই অগাস্ট ঠিক কী হয়েছিল?’ সেখানে উপস্থিত একজন সামরিক অফিসার পুরো ঘটনা বিবৃত করে শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, তার পরিবারের আর কেউ জীবিত নেই। এটা শুনেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন শেখ হাসিনা। ইন্দিরা গান্ধী হাসিনাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তোমার যা ক্ষতি হয়েছে, তা তো পূরণ করা যাবে না। তোমার তো এক ছেলে, এক মেয়ে আছে। আজ থেকে ছেলেকে নিজের বাবা আর মেয়েকে নিজের মা বলে মনে কোরো।

ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের দিন দশেক পরে শেখ হাসিনাকে ইন্ডিয়া গেটের কাছে পান্ডারা পার্কের 'সি' ব্লকে একটি ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছিল। ওই ফ্ল্যাটে তিনটে শোওয়ার ঘর আর কিছু আসবাবপত্রও ছিল। পরে তিনি নিজেই কিছু কিছু আসবাব কিনেছিলেন। তার ওপর কড়া নির্দেশ ছিল যে তিনি যেন ঘরের বাইরে না যান, অথবা কারও সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ না করেন। তার মনোরঞ্জনের জন্য একটা টেলিভিশন সেটও দেয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার নিরাপত্তার জন্য দু'জনকে রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন সত্য ঘোষ নামের এক ইন্সপেক্টর। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল। অন্যজন ছিলেন ১৯৫০ সালের ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস অফিসার পিকে সেন। এই দু'জন অফিসারই ছায়ার মতো শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকতেন। শেখ হাসিনার স্বামী ডক্টর ওয়াজেদ মিয়াকে ১৯৭৫ সালের ১লা অক্টোবর পরমাণু শক্তি বিভাগে ফেলোশিপ দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার সব খরচ ভারত সরকারই দিত। যদিও সেটা খুব সামান্যই ছিল। টাকাটা কলকাতায় তার এক পরিচিত চিত্তরঞ্জন সুতারের মাধ্যমে দেয়া হত। চেষ্টা করা হয়েছিল শেখ হাসিনা যে দিল্লিতে আছেন, সেই খবরটা যাতে কেউ না জানতে পারে। তবে বাংলাদেশের সরকার তার অবস্থান জেনে গিয়েছিল। ১৯৭৬ সালের মে মাসের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রদূত শামসুর রহমান আর তার স্ত্রী দেখা করতে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানার সঙ্গে। দুই বোন তাদের জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করেছিলেন। শেখ রেহানার সে বছরই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের ঘটনাবলীর জন্য তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৯৭৬ সালের জুলাই মাসে শান্তিনিকেতনে তার ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা-জনিত কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছিল। ২৪শে জুলাই, ১৯৭৬- শেখ রেহানার বিয়ে হয় লন্ডন-প্রবাসী শফিক সিদ্দিকের সঙ্গে। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং তার স্বামী ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। ওই পর্যায়ে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের মন্ত্রী প্রণব মুখার্জী এবং তার পরিবার শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রাখতেন। শেখ হাসিনার সন্তানদের মাঝে মাঝেই প্রণব মুখার্জীর সরকারি বাসভবনে খেলতে দেখা যেত। সেই সময় দুটি পরিবারের মধ্যে মাঝে মাঝে শুধু দেখাই হত না, দিল্লির বাইরে পিকনিকেও যাওয়া হত।

এরই মধ্যে ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচনে হেরে গেলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই। তিনিও নরম ছিলেন শেখ হাসিনার প্রতি। রেহানাকে দিল্লিতে নিয়ে আসার ব্যাপারে কথা বলার জন্য শেখ হাসিনা আর ডক্টর ওয়াজেদ ১৯৭৭ সালে মোরারজী দেশাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। শেখ রেহানাকে দিল্লি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন মি. দেশাই। তিনি ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লি এসেছিলেন। পান্ডারা পার্কের ফ্ল্যাটে শেখ হাসিনার সঙ্গেই ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ড. ওয়াজেদের ফেলোশিপ শেষ হয়ে গেল। ডক্টর ওয়াজেদ নিজের ফেলোশিপটা এক বছর বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। প্রায় তিন মাস তার কোনও জবাব আসেনি। সেকারণে তাঁকে বেশ আর্থিক সমস্যায়ও পড়তে হয়েছিল। শেষে ঘটনাটি জেনে মোরারজী দেশাই এক বছরের জন্য তার ফেলোশিপ বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিলেন।
১৯৮০-র জানুয়ারিতেই ইন্দিরা গান্ধী আবারও ক্ষমতায় ফিরে এলেন। শেখ হাসিনাও সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হলেন। ১৯৮০তেই আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে দিল্লিতে এসেছিলেন, অনুরোধ করেছিলেন তাকে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য। ডক্টর ওয়াজেদ অবশ্য চাইছিলেন না যে শেখ হাসিনা ঢাকা ফিরে যান। তিনি মনে করতেন শেখ হাসিনার সরাসরি রাজনীতিতে আসা উচিত নয়। কিন্তু উৎসাহ দিলেন প্রনব মুখার্জী। তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বললেন যে যদি ইন্দিরা গান্ধী এই অবস্থায় ফিরে এসে দেশের হাল ধরতে পারেন তুমি কেন নয়? ইন্দিরা গান্ধী এক সাক্ষাতে তাকে একই ভাবে উতসাহিত করলেন। একদিকে স্বামীর অনিচ্ছা, অন্যদিকে জনমত ও প্রবীন ভারতীয় রাজনৈতিকদের উৎসাহ। শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিলেন আসবেন তিনি রাজনীতিতে। তুলে ধরবেন বাংলাদেশের লাল সবুজ নিশান।

১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনা। ১৯৮২'র ফেব্রুয়ারিতে ডক্টর ওয়াজেদ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের যোগ দেওয়ার আবেদন জানান। মহাখালীতে দুই কামরার একটা ফ্ল্যাট বরাদ্দ করেছিল পরমাণু শক্তি কমিশন। শেখ হাসিনা সেই ফ্ল্যাটেই স্বামীর সঙ্গে থেকে শুরু করলেন তার মহাযাত্রা।

তারপরের ইতিহাস বহু আলোচিত। কিন্তু ভারতে থাকাকালীন ছয় বছরে শেখ হাসিনা ভারতের ঘরের মেয়ে হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে ক্রমেই অগ্নিকন্যা হয়ে উঠবেন সে কথা ভারতের কেউ সেভাবে ভাবেন নি। এমন কি সেই তরুন কবিটিও নয়। তাই তার কবিতায় আজও শেখ হাসিনার জন্যে উদ্বেগ রচিত হয়। সে লেখে –

শেখ হাসিনা, এক অগ্নিসদৃশ নারী
খাদের কিনারে ছড়িয়েছে খোলা চুল,
বিপদের বাস তার আঙুলের মাঝে
চোখ দুটি যেন অরণ্যসংকুল পৃথিবীর
বিপক্ষে মুর্তিমতী তীব্র প্রতিবিষে 
পৃথিবী জানায় কুর্ণিশ বিনাপ্রশ্নে তাকে।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর