103895 একটানা কয়েক মাস ঘুমাতে পারে যে গ্রামের মানুষ
Best Electronics

একটানা কয়েক মাস ঘুমাতে পারে যে গ্রামের মানুষ

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৯ ১১ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫১ ১১ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একজন সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। তবে সেই ঘুম যদি হয় কয়েকদিনের বা এর স্থায়ীত্ব হয় কয়েক মাসের! কখনো কি ভেবে দেখেছেন এ বিষয়ে? না ভাবলেও বোধ হয় ভাবার সময় এসেছে। কারণ বিশ্বে এমন একটি এলাকা রয়েছে যেখানকার মানুষেরা ঘুমরোগে আক্রান্ত। এরা ঘুমিয়ে পড়লে একটানা কয়েক মাস ঘুমিয়ে থাকে। এমনকি ঘুমের জন্য তাদের কষ্ট করে বিছানাতেও যেতে হয় না। যেখানে সেখানে যেকোনো অবস্থায় হঠাৎ করেই তারা ঘুমিয়ে পড়ে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। শুনতে অতি অদ্ভুত হলেও এটাই কিন্তু সত্যি। হঠাৎ কর্মরত অবস্থার থেকে কেউ কীভাবে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘুমাতে পারে! সেটা ভেবেও কোনো উত্তর পায়নি বিজ্ঞানীরা। 

সবথেকে বেশী রহস্যময় এবং হয়রানির বিষয় হলো, যারা এভাবে ঘুমিয়ে পড়েন তারা সাধারণত কয়েক ঘন্টা থেকে শুরু করে মাঝে মাঝে কয়েক মাস একটানা ঘুমিয়ে থাকেন। কাজাকিস্তানের একটি গ্রাম যে জায়গাটি প্রায় বিগত চার বছর ধরে এই রহস্যময় ঘুম রোগে আক্রান্ত। এই রোগটির জন্যই এই জায়গাটিকে স্লিপি হলো বলা হয়ে থাকে। সর্বপ্রথম এই রোগটির উপদ্রব শুরু হয় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে। এই গ্রামটির জনসংখ্যা প্রায় ৬০০ জন যার মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ লোকই ঘুম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু জানা গেছে, যে সকল লোক এই ঘুম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে, তাদের মাথায় অর্থাৎ ব্রেনের তরল পদার্থের পরিমাণ আকস্মিকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের মাথায় এই তরল পদার্থ হঠাৎ করে কেনইবা বেড়ে যায় সেই প্রশ্নের সদুত্তর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

গাড়ি চালানো অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছেন এক চালককাজাকিস্তানের এই গ্রামটির পাশেই একটি ইউরেনিয়াম খনি রয়েছে যেখান থেকে ক্ষতিকারক রেডিয়েশন হতেই থাকে। কিন্তু এই রেডিয়েশনের মাত্রা এই গ্রামে অতিরিক্ত বলে সেরকমভাবে কিছু পাওয়া যায়নি। ডাক্তারেরা বলেন, ইউরেনিয়ামের রেডিয়েশন কোনোভাবেই এই রোগের জন্য দায়ী নয়। দবে কোন কারণে সেই গ্রামে ঘুমরোগে পিড়িত লোকের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে তার কোনো সদূত্তর নেই!

প্রথমবার যে ব্যক্তি এই ঘুম রোগে আক্রান্ত হয়, সেই প্রথম ব্যক্তিটি এই পর্যন্ত প্রায় সাত বার এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এই অদ্ভূত রোগের শিকার হয়েছে এবং শুধুমাত্র তাই নয় লোকটি প্রায় কয়েক মাস পর্যন্ত একটানা ঘুমিয়ে থাকে। এই অদ্ভূত ঘটনাটি বেশ কিছু স্কুলের বাচ্চার সঙ্গেও ঘটে থাকে যারা অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে পরে যায় এবং প্রায় কয়েক মাস ধরে একটানা ঘুমিয়ে থাকে। শোবার সময় শরীরের সকল কার্যক্রম ঠিকঠাকভাবেই চলে এবং কোনো রকম কোনো বিকৃতি দেখা যায়না।

ডাক্তারের নজরবন্দী দুই ঘুমন্ত শিশুঅদ্ভূত ঘুম রোগের কার্যকারণ যেমন খুঁজে পাওয়া যায়নি তেমনই বিজ্ঞান এই প্রশ্নের কাছে হার মেনেছে যে ঘুমন্ত অবস্থায় কেনইবা মানুষগুলোর মাথার জলীয় পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং হঠাৎ করে তারা কেনইবা যেকোনো অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে। পৃথিবীতে বহু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে চলেছে এবং প্রতিনিয়ত সেগুলো নতুন নতুন প্রশ্নের সামনে বিশ্ববাসীকে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ঠিক, এই স্লিপি হলো এলাকার ঘুমরোগীদের ঘুম সেই ধরনেরই একটি প্রশ্ন যা মানব সভ্যতার বিজ্ঞানকে একটি নতুন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics