Alexa একজনই ২৮ দিনে হত্যা করল সাত হাজার জনকে 

একজনই ২৮ দিনে হত্যা করল সাত হাজার জনকে 

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৭ ৭ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১১:৪৭ ৭ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সব সব কীর্তি বা রেকর্ড জমা করা হয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে। তবে সকল কীর্তিই যে ভাল হিসেবে গন্য হয় ব্যাপারটা তেমন নয়। মানুষ দ্বারা সংগঠিত এমন অনেক কীর্তি রয়েছে যা শুনলে যে কোন মানুষের গায়ে কাটা দিতে বাধ্য। এমনই একটি  রেকর্ড হল একজন মানুষ দ্বারা সবথেকে বেশি সংখ্যক হত্যা। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রক্কালে একজন রাশিয়ান অফিসার হত্যা করে ৭ হাজার মানুষ! তাহলে জেনে নেয়া যাক এই নৃশংস কর্মকান্ড সম্পর্কে-

কথায় আছে, যুদ্ধের সময় মানুষের সবথেকে নৃশংস রূপটি দেখা যায়। এই উক্তিটি পুরোপুরি মিলে যায় রাশিয়ান অফিসার ভ্যাসিলি ব্লকিন এর সাথে। মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকেই তিনি তার এই ঘৃণ্য কর্মকান্ড তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এসে তা দ্বিগুন বেড়ে যায়। ব্লকিনের জন্ম ১৮৮৫ সালে এক রাশিয়ান সম্রান্ত পরিবারে। তার শৈশব সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ১৯১২ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগেই তিনি তার নৃশংসতার পরিচয় দিতে শুরু করে। তখন তিনি জারিস্ট আর্মিতে যোগ দেয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সে ব্ল্যাক ওয়ার্ক নামে পরিচিত হয়। এর কারণ স্টালিন তাকে দিয়ে সকল নৃশংস কাজ করাত। 

গুপ্তহত্যা থেকে শুরু করে টর্চার কিডন্যাপিং সব কিছুতেই ব্লকিন রেপুটেশন লাভ করে। আর তার এই নৃশংসতার জন্য তিনি ধীরে ধীরে ততকালীন রাশিয়ান সিক্রেট পুলিশ এনকেভিডি এর কমান্ডাটুরা ডিপার্টমেন্ট এর শীর্ষ অফিসারে পরিনত হয়। এই ডিপার্টমেন্ট দ্বারা সকল প্রকার বেয়াইনি কাজ করানো হত। এই ডিপার্টমেন্ট শুধুমাত্র স্টালিনের কাছ থেকেই আদেশ নিত। ব্লকিন তার পদ পেয়েই শুরু করে নৃশংস সব কাজ। তিনি একে একে এনকেভিডির সকল হাই র‍্যাংক অফিসার হত্যা করে নিজেই এনকেভিডি এর প্রধান হয়ে যায়। এছাড়াও স্টালিন এর নির্দেশে তিনি আরো অনেক রাজনৈতিক হত্যা চালান। তবে এসকল হত্যাও তার পরবর্তী কর্মকান্ডকে হার মানায়।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জার্মানি রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড দখল করে ফেলে। যদিও রাশিয়ানরা তখনো যুদ্ধে যোগ দেয়নি। তবে ভ্যাসিলি ব্লাকিনের নেতৃত্বে রাশিয়ান সৈন্যরা পোল্যান্ড এর বর্ডারে ঢুকে ২০ হাজার পোলিশ সৈন্য গ্রেফতার করে রাশিয়ান প্রিজন ক্যাম্পে নিয়ে আসে। এর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় অন্যতম ঘৃণ্য গনহত্যা। যা ক্যাটিন ম্যাসাকার নামে পরিচিত হয়। ১৯৩৯ সালের ৫ মার্চ, স্টালিন ব্লাকিনকে পোলিশ সৈন্যদের মধ্যকার অফিসারদের হত্যার নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের পরেই শুরু হয় তার যত ঘৃণ্য কর্মকান্ড। 

৫ মার্চ থেকে পরবর্তী ২৮ দিনে ভ্যাসিলি ব্লাকিন নিজেই হত্যা করে ৭ হাজার পোলিশ অফিসার। তিনি এই হত্যাকান্ডের জন্য একটি সাউন্ডপ্রুফ রুম তৈরি করেন। প্রতিদিন রাতেই তিনি প্রায় ৩ শতাধিক পোলিশ অফিসার হত্যা করে। যা প্রতি ৩ মিনিটে একজন হত্যা! হত্যা করা অফিসারদেরকে একটি বড় গর্তে ফেলে দেয়া হয়। এই হত্যা চালানোর জন্য ভ্যাসিলি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম এর ওয়াল্টার পিপিকে পিস্তল ব্যবহার করেন। এর পিছনের কারন দুইটি। প্রথমত এই পিস্তল ঝাঁকি কম দিত তাই ভ্যাসিলি এর হাতে কম ব্যথা হত এবং এই পিস্তলে মিসফায়ার হওয়ার চান্স কম। এ কারণে মাথার পিছনে একটি গুলি করেই হত্যা চালানো সম্ভব ছিল। দ্বিতীয়ত, এই পিস্তলটি জার্মান অফিসাররা ব্যবহার করত। যদি কখনো এই নৃশংস কাজ প্রকাশ হয় তবে খুব সহজেই রাশিয়ানরা এর জন্য জার্মানদের দায়ী করতে পারবে।

১৯৪৩ সালে রাশিয়ানরা জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিলে সকল পোলিশ সৈন্যদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তখনো পোলিশ অফিসারদের কথা অজানাই রয়ে যায়। যুদ্ধ শেষ হলে ভ্যাসিলি ব্লাকিনকে স্টালিন রাশিয়ান মিলিটারির সর্বশ্রেষ্ঠ মেডেল ভ্যালর অব অনার প্রদান করে। তবে স্টালিনের মৃত্যুর পর রহস্যজনকভাবে ১৯৫৫ সালে ব্লাকিনের মৃত্যু হয়। ১৯৪৩ সালে ক্যাটিনে গণকবর উন্মোচিত হলে স্টালিন এই হত্যার জন্য জার্মানদের দায়ী করেন। তবে পরবর্তীতে, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলে গর্ভাচভ ক্যাটিন ম্যাসাকারের সত্য উন্মোচন করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস