Alexa একই নামে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিপাকে

একই নামে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিপাকে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৩ ১৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:২৮ ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তা চরের শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সভাপতির দ্বন্দে একই নামে দুই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সরেজমিনে তিস্তার চরে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ঘোড়ামারা পশ্চিম হলদীবাড়ি এস ইউ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে নতুন বই। ক্লাস রুমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে দেখা গেছে।

অপরদিকে পাঁচশ গজ উত্তরে একই নামে আরো একটি মাদরাসা গিয়ে দেখা গেছে, একটি নতুন ঘরের মেঝে খড়ের উপর বসে কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় হালিমুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এলাকায় একই নামে দুই মাদরাসা, কোনটা আসল আর কোনটা নকল বুঝি উঠতে পারছি না। তিনি প্রশাসনে কাছে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন।

জানা গেছ, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত চরের শিশুদের ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে ঘোড়ামারা পশ্চিম হলদীবাড়ি এস ইউ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে তিস্তা নদীর কয়েক দফা ভাঙনে মাদরাসাটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৩ সালে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা সভাপতি আব্দুল গনি মারা গেলে সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুর রউফ (আদু)। ২০১৩ সালে মাদরাসার সভাপতি আব্দুর রউফ (আদু) ওই মাদ্রাসার জন্য সুপারসহ পাঁচজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেন। মাদরাসাটির কোড নম্বর ৫১৭৬৬। ২০১৬ সালে এ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

সম্প্রতি মাদরাসাটি ডিআর ভুক্তির জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কাগজপত্র চাইলে সভাপতি আব্দুর রউফ (আদু) সুপার শাহজাহান আলীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে কাজপত্র কেড়ে নিয়ে তিনশ টাকার ফাঁকা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। সে সময় নিয়োগ হওয়া মাদরাসা সুপারসহ পাঁচ শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবী করেন। টাকা না দিলে চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দেন। এ ঘটনায় মাদরাসা সুপার শাহজাহান আলী হাতীবান্ধার ইউএনওকে একটি লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় থানায় জিডি করেন।

এ ঘটনার পর সভাপতি আব্দুর রউফ (আদু) মাদরাসার পাঁচশ গজের মধ্যে নিজের ভাই আব্দুর রশিদকে সভাপতি করে নতুন ঘর উত্তোলন করে সুপারসহ পাঁচ সহকারী শিক্ষকে নিয়োগ দিয়ে রাতারাতি একই নামে আরেকটি এস ইউ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা স্থাপন করেন। এ নিয়ে দুই মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ (আদু) ও মাদরসা সুপার শাহজাহান আলীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা আউয়াল হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, আমার বাবা আব্দুল গনি মারা যাওয়ার পর মাদরাসার সভাপতি হন আব্দুর রউফ (আদু)। এটির ডিআরভুক্তির জন্য শিক্ষা অফিস কাগজপত্র চাইলে আব্দুর রউফ (আদু)  একই নামে আরো একটি মাদরাসা চালু করেন। এ মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী নেই, শুধু একটি ঘর তুলে সাইনবোর্ড লাগোনো হয়েছে।

ইবতেদায়ী মাদরাসার সুপার শাহজাহান আলী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মাদরাসা সভাপতি আব্দুর রউফ (আদু) কৌশলে তার বাড়িতে ডেকে আমার কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তিনশ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন এবং নিয়োগ হওয়া পাঁচ শিক্ষকের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দাবী করেন। টাকা দিতে না পারলে চাকরিচ্যুত করারও হুমকি দেন। এ ঘটনায় আমি স্থানীয় থানায় একটি জিডি করি। হাতীবান্ধার ইউএনওকেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

মাদরাসার সভাপতি আব্দুর রউফ (আদু) ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, মাদরাসা সুপারকে আমি বহিষ্কার করেছি। আমি ২০ লাখ টাকা চাইনি, তারা আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা সাজিয়েছে। তিনি তার মাদরাসা বৈধ বলেও দাবি করেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্পন্দ নারায়ন চন্দ্র রায় ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, একই নামে দুটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা নিয়ে একটি বিরোধ চলছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, ওই মাদরাসার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর