Alexa এই নারীরা জীবনে মাত্র একবারই গোসল করে, পানি ছোঁয়াও বারণ

এই নারীরা জীবনে মাত্র একবারই গোসল করে, পানি ছোঁয়াও বারণ

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৮ ১৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১০:৫৯ ১৮ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শিরোনামটি পড়ে অনেকেই ভাবছেন কতটা নোংরা হলে মানুষ এমনটি করতে পারে, তাইনা! হ্যাঁ সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ একদিন গোসল না করলে আমাদের অস্বস্তি হয়। বিশেষ করে গরমকালে, একাধিক বারও গোসল করা হয়ে থাকে। আসলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে থাকতে গোসলের বিকল্প নেই। 

তবে যেসব নারীর কথা বলছি তাদের নিয়মই জীবনে মাত্র একবার গোসল করার। উত্তর নামিবিয়ার কুইন প্রদেশের ওভাহিম্বা বা হিম্বা উপজাতিদের পানি ছোঁয়া বারণ। এমন কি বারণ জামা কাপড় কাচাও। অথচ এদের রূপ সৌন্দর্য কিন্তু অসামান্য। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে তারা শরীর পরিষ্কার রাখেন কীভাবে? জানা গিয়েছে এরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের পাতা ছোট ছোট শাখা প্রশাখা থেকে নিজেদের রূপ যৌবন লাবণ্য ধরে রাখেন।

হিম্বা নারীহিম্বা নারীদের গোসলের নিয়ম

এই আদিবাসী নারীরা কোনোভাবে যেন পানি না ধরে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এমনকি প্রচণ্ড খরার মধ্যেও তারা বিনা গোসলে থাকেন। পানি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে শুধু পুরুষদের। এজন্য হিম্বার নারীরা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে প্রতিদিন ধুম্র স্নান করেন। তারা মূলত কমিফোরা গাছের পাতা পুড়িয়ে সেই ধোয়া দিয়ে গোসল করে থাকে। 

ধুম্রস্নান করছেন এই নারীপাতাগুলো সাধারণত কাঠকয়লার সঙ্গে একটি বড় পাত্রে পোড়ানো হয়। আর সেখানেই তারা মাথা নুইয়ে ধোঁয়া গায়ে মাখে। এই উত্তাপের কারণে তারা ঘামতে শুরু করে। এরপর পুরো শরীর যাতে ঘামে ভিজতে পারে এজন্য তারা কম্বল মুড়িয়ে থাকেন। এভাবেই হিম্বা নারীরা প্রতিদিন গোসল সম্পন্ন করে। 

হিম্বার জনগণ মূলত কৃষক। তারা বিভিন্ন জাতের পশু যেমন- ছাগল, গবাদি পশু, ভেড়া ইত্যাদি পালন করেন। নারীরা কাঠ সংগ্রহ, খাবার পানির সন্ধান, রান্না এবং খাবার পরিবেশন করেন। এছাড়াও তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুঁতির মালা ও অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করেন। উপজাতির কিছু সদস্য ধর্মীয় এবং সামাজিকভাবে তাদের পূর্বপুরুষদের দেবতাদের পূজা করে। হিম্বারা বহুগামী। এছাড়াও সেখানে বাল্য বিবাহের প্রচলন রয়েছে।

মা হওয়ার পরই তারা প্রকৃত নারীর মর্যাদা পানহিম্বা জনগোষ্ঠীর আদ্যোপান্ত

আফ্রিকার অত্যন্ত উষ্ণতম পরিবেশে বসবাসকারী উপজাতি তারা। হিম্বা উপজাতির জনসংখ্যার প্রায় ৫০ হাজার। উত্তর নামিবিয়ায়, কুনেনি অঞ্চলে তাদের বাস। তাদের অনেকেই শিকার করেই জীবনধারন করেন। এদের ভাষাও আফ্রিকানদের চেয়ে বেশ আলাদা। অনেকেটা যাযাবরভাবেই তাদের বাস সেখানে। যদিও তারা নাইজার ও কঙ্গোর বান্তু পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচিত।

হিম্বাদের গ্রামহিম্বা জনগণের প্রথম জনবসতিগুলো ষোড়শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে গড়ে ওঠে। যাযাবর এই গোষ্ঠী তখন বাসস্থানের আশায় অ্যাঙ্গোলান সীমান্ত অতিক্রম করে কাওকোল্যান্ডকে (আজকাল কুনে অঞ্চল বলা হয়) তাদের নতুন জন্মভূমি হিসেবে বেছে নেয়। সেই সময় হিম্বা শব্দটির অস্তিত্ব ছিল না। কারণ তখন তারা হেরোরো উপজাতির হিসেবে বিবেচিত ছিলো।

উনিশ শতকের শেষে নামিবিয়া এক মহামারীর প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। হেরেরো উপজাতি যে গবাদি পশুর ওপর নির্ভরশীল ছিল তাদের বেশিরভাগই রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সেসময় এই উপজাতিরা একটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলো। পরবর্তীকালে, এদের অনেকেই দক্ষিণে চলে যায়। সেখানকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তারা নিজ গোষ্ঠির নাম দেয় হিম্বা। তারপর থেকেই হিম্বার পরিচয়টি অস্তিত্ব লাভ করে।

ছাগল জবাই করছেন তারাহিম্বাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক

হিম্বা পুরুষ এবং নারীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরতে অভ্যস্ত। যা কওকোল্যান্ড এবং তাদের অঞ্চলের উত্তপ্ত আধা-শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই পোশাকগুলো ছাগল এবং ভেড়ার চামড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। বা অনেকটা খাটো স্কার্টের মতো। হিম্বা নারীদের স্যান্ডেল গরুর চামড়া দিয়ে এবং পুরুষদের জন্য পুরানো গাড়ির টায়ার থেকে তৈরি করা হয়।

চুলের বৈচিত্রঅত্যন্ত উষ্ণ এবং শুষ্ক জলবায়ুর পাশাপাশি পোকার কামড় থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে তারা একটি মিশ্রণ শরীরে ব্যবহার করে। এজন্য তারা ওমুজুম্বা গুল্মের সুগন্ধযুক্ত রজন দিয়ে তাদের ত্বক এবং চুলকে লাল রঙ করে থাকে। এটিই তাদের দৈনন্দিনের সাজসজ্জার একমাত্র উপাদান।

চুল কাটার ধরনমজার বিষয় হলো, তাদের চুল বাধার ধরন ও গহনাগুলোই মূলত তাদের বয়স এবং সামাজিক অবস্থান নির্দেশ করে। শিশুর মাথার চুল কাটা থাকে, বা মাথার মুকুটে গোল করে ডিজাইন করা থাকে। অল্প বয়স্ক ছেলেদের ক্ষেত্রে মাথার সামনে থেকে পিছন দিক পর্যন্ত অল্প করে চুল রাখা হয়। অল্প বয়সী মেয়েদের মুখের দিকে চুলের দু’টি লম্বা ফলক থাকে। মূলত বয়ঃসন্ধিকালের পূর্ব পর্যন্ত এই স্টাইলটি অব্যাহত থাকে। 

চুলের সাজযেসব নারীরা প্রায় এক বছর ধরে বিবাহিত বা সন্তান জন্ম দিয়েছেন তারা মেষের চামড়া থেকে তৈরি ভাস্কর্যযুক্ত ইরেম্ব নামক একটি গহনা মাথায় পরেন। আবার অবিবাহিত যুবকেরা মাথার পিছন দিকে প্রসারিত একটি প্লেট পরতে হয়। বিবাহিত পুরুষের মাথায় থাকে এক ধরনের টুপি। এভাবেই হিম্বারা বয়স এবং সামাজিকভাবে নিজেদেরকে পরিচয় করান।

হিম্বাদের বিবাহ

হিম্বারা বহুগামী। হিম্বা পুরুষদের অন্তত দুজন স্ত্রী থাকে। অন্যদিকে অল্প বয়স্ক হিম্বা মেয়েরা তাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা নির্বাচিত পুরুষকে বিয়ে করে থাকেন। এটি বয়ঃসন্ধির শুরু থেকেই ঘটে। যার অর্থ ১০ বা তার কম বয়সী মেয়েরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। নামিবিয়াতে এই অনুশীলনটি অবৈধ, এমনকি কিছু ওভাহিম্বা এটির প্রতিযোগিতা করে। বয়ঃসন্ধির আগে হিম্বা ছেলেদের খৎনা করার নিয়ম রয়েছে। বিবাহের পরে, একটি হিম্বা ছেলেকে একজন পুরুষ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে সন্তান জন্ম না দেয়া পর্যন্ত একজন হিম্বা নারীকে পূর্ণাঙ্গ নারী হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। 

অসম্ভব সুন্দরী এই নারীরাওভাহিম্বার মধ্যে বিবাহের মধ্যে গবাদি পশুদের লেনদেন জড়িত। যা তাদের অর্থনীতির উৎস। এটি বরের পরিবার এবং কনের পিতার মধ্যে আলোচনার বিষয় হতে পারে। নববধূর পরিবারকে অবশ্যই গবাদি পশুর দিক দিয়ে উচ্চ মানের হতে হবে। অন্যদিকে বরের পরিবারকে অন্তত একটি ষাঁড় দেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়াও বরের বাবা ধনী এবং বেশি দিতে সক্ষম হলে আরো বেশি গবাদি পশু সরবরাহ করতে হবে।

নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি এসব শিল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকেনশুধু ধুম্র স্নানই নয় বরং আরো সব অদ্ভুত নিয়ম রয়েছে এই গোষ্ঠীর। এসব নিয়মই তাদের সংস্কৃতি। জানলে অবাক হবেন, হিম্বারা অতিথিকে প্রসন্ন করতে বিনামূল্যে তাদের নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অনুমতি দেয়। এছাড়াও তারা পুতির মালা দিয়ে নবজাতককে বরণ করে। যদিও এই উপজাতিরা বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না। তারা বিচ্ছিন্নভাবে বাস করে। এমনকি বহিরাগতদের দ্বারা যাতে তাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি কোনো রূপেই দূষিত না হয় তা নিশ্চিত করতে তারা সচেষ্ট থাকে।

হিম্বা শিশুরাআপনি হয়ত তাদের গোসল না করার বিষয়টি নিয়ে বেশ অবাক হচ্ছেন। তবে তারা পরিস্থিতির শিকার! এর একমাত্র কারণ হলো সে অঞ্চলের কঠোর জলবায়ু পরিস্থিতি। হিম্বার জনগণ অত্যন্ত চরম পরিবেশে বাস করে। মরুভূমির প্রখর জলবায়ু প্রচণ্ড খরায় তাদের বসবাস। যদিও গোসলের অভাবে এই নারীদের অসুন্দর দেখাচ্ছে তবে এই নয় যে তারা কম সুন্দর। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে এই নারীদের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস