দূরবীনপ্রথম প্রহর

এই তারকাদের যত কলঙ্ক

সৈয়েদা সাদিয়াডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ফাইল ছবি

সাধারণ মানুষের মত ফুটবলারদের জীবনেও প্রেম আসে। তারাও মেতে থাকেন পরনারীর প্রেমে। ফুটবলারদের এমন আমোদ প্রমোদে মাতার গল্প নতুন নয়। তবে এধরণের তারকারা একাধিক প্রেমে জড়িয়ে যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন।

আজ ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জানাবো এমনই কিছু ঘটনা যা ফুটবলাররা ঘটিয়েছেন একাধিক নারীকে জড়িয়ে। চলুন দেখা যাক এমন কিছু মুখরোচক খবর।

ডিয়াগো ম্যারাডোনা

অনেক আগে থেকেই নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ম্যারাডোনা বারবার শিরোনামে এসেছেন। এমনকি তার ২০ বছরের সংসার ভেঙ্গে ২০০৪ সালে ক্লদিয়ার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতিও ঘটে। তার এই পরিবার এ আছে দুই মেয়ে।

এটা ছিল তার বৈবাহিক জীবনের কাহিনী। এইবার আসা যাক অন্যকথায়। এই বিশিষ্ট ফুটবলারের গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যাও কম নয়। বিয়ের পর ক্রিস্টিনা সিনাগ্রা নামে এক ইতালীয় তরুণীর প্রেমে পড়েন তিনি। পরে সেই সম্পর্কে সিনাগ্রার গর্ভে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।

কিন্তু এই বিষয়ে সিনাগ্রাকে প্রথমে কিছু স্বীকার করেনি।

এরপর ২০১০ সালে ম্যারাডোনার জীবনে আসে আরও এক নারী। ভেরোনিকা ওজেদা তিনি একজন আর্জেন্টাইন মডেল। পরে এইখানেও জন্ম দেয়া ছেলে নিয়ে তৈরি হয় অনেক বিতর্ক। অতঃপর ভেরোনিকার সাথে সম্পর্ক শেষ না হতেই তার জীবনে আসে রোসিও ওলিভা নামে আরেক নারী।

ম্যারাডোনার অর্ধেক বয়সেরও কম বয়সী ওলিভার সাথে প্রেম মিডিয়ার সামনে বেশ ভালভাবেই প্রকাশ পায়। সে সম্পর্কও নাকি বেশিদিন টিকে না। বিশিষ্ট এই ফুটবলার ৫৭ বছর বয়সী হয়েও এখনো রয়েছে তার একাধিক গার্লফ্রেন্ড। এছাড়াও তার নামে শোনা যায় নানা সময়ে বিভিন্ন যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

এই পর্তুগিজ তারকার প্রেমিকার সংখ্যা যেন গুনে শেষ করা যাবে না।। এক সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর আরেক সম্পর্কে জড়াতে সময় লাগে না তার একদমই। রাশিয়ান সুন্দরী ইরিনা শায়াকের সাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই শোনা যায় তার নতুন প্রেমের কথা।

বিশিষ্ট সিআর-সেভেন স্প্যানিশ টিভির সাংবাদিক লুসিয়া ভিয়ালনের সাথে নতুন করে সম্পর্ক শুরু হয় তার। নিজের থেকে চার বছরের বড় এই নারীর সঙ্গে প্রেম চলে তার কিছু দিন। এই বিশিষ্ট নামীদামী ফুটবলারের কোনো সম্পর্কই টিকে না বেশি দিন।

এমনকি কখনোই নিঃসঙ্গ থাকতে হয়নি রোনালদোকে। এভাবেই চার সন্তানের বাবা এখন এই পর্তুগিজ তারকা।

রোনালদো

দ্যা ফেনোমেনা এই নামে সবাই চিনে তাকে। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয় করেন এই নায়ক। ঘরে সুন্দরী প্রেমিকা থাকা সত্বেও যৌন কেলেঙ্কারির শেষ নেই এই তারকার।

এমনকি ২০০৮ সালে রিও ডি জেনিরোতে নিজের হোটেল রুমে তিনজন পতিতার সাথে থাকা নিয়ে বেশ সমালোচিত হন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।

গ্যারিঞ্চা

১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার গারিঞ্চার। প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসের পর পরই বিভিন্ন ভাবে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরপরে বিশ্বকাপ জয়ের একবছর পর সুইডেনে অবকাশযাপনে গিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। সেখানকার স্থানীয় এক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তারপর সেই মহিলা অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লে চারিদিকে এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যশলে কোল

মাঠে যেমন দূর্দান্ত পারফরম্যান্সে সুনাম আছে তার, ঠিক তেমনই মাঠের বাইরেও রয়েছে যৌন কেলেঙ্কারির জন্যও সমালোচনা ঝড়।

তার জীবনে পপ স্টার সুন্দরী বউ থেকেও তা যথেষ্ট ছিল না, ইংল্যান্ডের এই ডিফেন্ডার। তার জীবনের কেলেঙ্কারির মধ্যে এক মডেলের সঙ্গে নগ্ন ছবি ফাঁস হয়ে বেশ সমালোচিত হন অ্যশলে কোল।

মার্টিন এডওয়ার্ডস

সবার চেনা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মার্টিন এডয়ার্ডস। এক হোটেলে যৌন হয়রানির স্বীকার হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে এক মহিলা। অতঃপর তার এই কেলেঙ্কারির ঘটনা নিয়ে ইংলিশ গণমাধ্যমে সমালোচনার বন্যা বয়ে যায়।

জোসে আলতাফিনি

ইতালির বিশিষ্ট বিখ্যাত ফুটবলার জোসে আলতাফিনি। একসময় শোনা যায় নাপোলিতে খেলার সময় নাকি সতীর্থ বারিসনের স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এই স্ট্রাইকার। এরপর তার এই যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা তৎকালীন সময়ে ইতালিয়ান গনমাধ্যমে বেশ সমালোচনার ঝড় তুলেছিল।

ওয়েন রুনি

একসময় ব্রিটিশ মিডিয়া এমন অভিযোগ আনে যে সে নাকি তার স্ত্রী কলিন অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময় যৌনকর্মীদের সাথে সম্পর্ক রাখতেন। জেনি থমসন নামে ২১ বছর বয়সী এক যৌনকর্মী মিডিয়ার কাছে এই খবর ফাঁস করেন।

এরপরে টানা বেশ কয়েক মাস একটি হোটেলে তাদের সম্পর্ক চলেছে। সেই মেয়েটি আরও বলেন, স্ত্রী সন্তানসম্ভবা থাকার পরও রুনি তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে কোনো রকম দ্বিধা-দ্বন্ধে ভোগেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

daily-bd-hrch_cat_news-16-10