এই গ্রামে ঢুকলেই মৃত্যু নিশ্চিত! 

এই গ্রামে ঢুকলেই মৃত্যু নিশ্চিত! 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৮ ১৫ মে ২০২০   আপডেট: ১৬:০৬ ১৫ মে ২০২০

ছবি: দারগাভস গ্রাম

ছবি: দারগাভস গ্রাম

চারদিকে পাহাড়। এর মধ্যে একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। এমন গ্রামের কথা ভাবলেও গাঁ শিউরে ওঠে। সেই গ্রামে কোনো জীবিত মানুষের বসবাস নেই শুধুই মৃত মানুষের সমাধি। 

জানা যায়, কোনো জীবিত মানুষ সেখানে গেলে আর ফিরে আসে না। এমন স্থানের সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবেই বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই ভীতি এবং কৌতূহল জাগবে। তেমনই একটি রহস্যময় গ্রাম সম্পর্কে আজকের লেখা। 

রাশিয়ার উত্তর ওশেটিয়ার নির্জন এলাকার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম দারগাভস। পুরো গ্রামটিই মধ্যযুগীয় একটি কবর স্থান। মৃতদের শহর নামেই গ্রামটি বেশি পরিচিত। প্রাচীন এই সমাধিস্থলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের দেহাবশেষ সমাহিত করা হয়েছে। সেখানকার অনেক মৃতদেহের সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসও সমাহিত করা হয়েছিল। 

স্থানীয়দের অনেকেরই বিশ্বাস, এই গ্রামে কেউ প্রবেশ করলে জীবিত ফিরে আসতে পারে না। কবর স্থানটি কত সময় আগের ছিল তা এখনো সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই গ্রামটি ষোড়শ শতক থেকে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। তবে এই মতামতের শক্ত কোনো ভিত্তি নেই। 

সমাধিক্ষেত্রে পড়ে আছে কঙ্কালকিছু প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন, ১৩ শতাব্দীতে মঙ্গোল তাতার আগ্রাসনের সময় ককেশাস পর্বতমালার এই অঞ্চলটিতে মানুষ আত্মগোপন করে বসবাস করত। তখন থেকেই এখানে কবরস্থানটি গড়ে উঠেছিল বলে তারা মতামত প্রকাশ করেন। রাশিয়ার দারগাভস গ্রামের কবরস্থানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার কবরগুলো ভবনাকৃতির। 

বর্তমানে প্রায় ৯৯টি এমন সমাধি আছে। অনেক সমাধি আছে যেগুলো চারতল বিশিষ্ট। ভূগর্ভেও এর বর্ধিত অংশ আছে। একটি সমাধিতে ১০০ টি পর্যন্ত মৃতদেহ রাখা আছে এই গ্রামের সমাধিস্থলে। সমাধি স্তম্ভের উপরে মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের আদলে বাঁকানো ছাঁদ দেয়া। এর ভিতরে থাকা কয়েকটি মৃতদেহ এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে যে এখনো হাড়ের সঙ্গে মাংস সংযুক্ত রয়েছে। 

প্রত্নত্তত্ববিদের একটি অংশ মনে করেন, দক্ষিণ রাশিয়ার স্থায়ীভাবে বসবাসরত সারমাতিয়ান নৃগোষ্ঠী এই কবরস্থান প্রতিষ্ঠা করে। তারা ইন্দো-ইরানীয় ঐতিহ্য অনুসরণ করে সমাধিস্থলটি গড়ে তুলেছিল। মৃতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে তারা ভূমির উপর সমাধি ক্ষেত্র তৈরি করত। 

মাথার খুলিইতিহাসের তথ্যানুযায়ী, ১৭ এবং ১৮ শতকে এই অঞ্চলে কয়েক দফায় প্লেগ মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন সংক্রামিত ব্যক্তিরা নিজেদের অন্যদের থেকে বিচ্ছন্ন রাখতে সমাধিগৃহগুলোতে অবস্থান করত। সংক্রামিত মৃত ব্যক্তিদের সেখানেই সমাহিত করা হয়েছিল। 

দারগাভস গ্রামের কয়েকটি সমাধিগৃহে কাঠের তৈরি নৌকা আকৃতির কফিন আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে আশেপাশে চলাচলযোগ্য কোনো নদী নেই। কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের ধর্ম বিশ্বাস ছিল, স্বর্গে পৌঁছানোর জন্য অবশ্যই একটি নদী পার হতে হবে। যে নদী পার হওয়ার জন্য নৌকা তাদের সাহয্য করবে। এমন বিশ্বাস থেকেই নৌকার আদলে কফিন তৈরি করা হত। 

প্রত্নতত্ত্ববিদরা সমাধিগৃহের পাশে ভূগর্ভস্থ কুয়ার সন্ধানও পায়। কুয়োগুলো সমাধিস্থলের পাশেই আবস্থিত। মৃত ব্যাক্তিকে সমাহিত করার পর তার আত্মীয়-স্বজনরা কুয়ায় কয়েন ফেলত। এই কয়েন যদি অন্য একটি কয়েনের সঙ্গে লেগে উচ্চ আওয়াজ তৈরি করত তাহলে মৃত ব্যক্তি স্বর্গে যাবেন বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস ছিল।        

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস