Alexa উম্মেহানির কিডনি বিক্রির সমাধান দিলেন ইউএনও 

উম্মেহানির কিডনি বিক্রির সমাধান দিলেন ইউএনও 

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৭ ১ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে কিডনি বিক্রির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউপির জাকারিয়ার স্ত্রী উম্মে হানি বেগম। সেই সমাধান দিলেন গুরুদাসপুরের ইউএনও মো.তমাল হোসেন।

এ ঘটনা শোনার পরে গুরুদাসপুরের ইউএনও মো. তমাল হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে তার সন্ধানে তার এলাকায় যান। উম্মেহানির বাড়িতে এই কর্মকর্তা তার জীবনের ঘটে যাওয়া সব ঘটনা শুনে তিনি তার কাছ থেকে কোথায় কোথায় থেকে সে ঋণ নিয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য নেন। উপস্থিত হিসেবে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে উম্মেহানি বেগমকে কিছু নগদ অর্থ প্রদান করেন। 

পরে এই কর্মকর্তা অফিসে এসে উম্মেহানির ঋণ নেয়া সব এনজিওর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান তার অফিসে। সবাই আসলে ইউএনও তমাল হোসেন উম্মেহানির জীবনে ঘটে যাওয়া বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে তার ঋণ মওকুফ করার ব্যবস্থা করে দেন। তার বর্তমান চলার অবস্থান ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার নেয়া ঋণ ও পরিশোধ করার আশ্বাস দেন।

উম্মেহানির স্বামী কয়েকদিন আগে মারা গেছে। মারা যাওয়ার আগে স্বামী জাকারিয়া ৩০ বছর নিখোঁজ থাকার পর অসুস্থ ও অক্ষম হয়ে তার কাছে ফিরে আসে। বেকার স্বামীকে নিয়ে সংসার চালানো আরো কঠিন হয়ে পড়ে উম্মেহানির। নিজের অসুখের কারণে দিনমজুরের কাজও করতে পারছিলেন না উম্মে হানি। কুরআন শরীফ শিক্ষা দিয়ে যা আয় হয় তাতে তার সংসার চলে না। অন্যের পুকুরের ধারে একটি ছাপরা ঘরে থাকেন তিনি। ওষুধ কিনতে পারে না। কোনো উপায় না দেখে কিডনি বিক্রির জন্য বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। আয় বাড়ানোর জন্য নিজের বাড়িতে বয়লার মুরগির খামার করেছিলেন। কিন্তু তাতেও লোকসান গুনতে হয়। 

একমাত্র ছেলে হারিস উদ্দিনকে কর্মসংস্থানের জন্য ২ লাখ টাকা ঋণ করে একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন কিনে দিলে সে ঢাকায় গিয়ে মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রীবহন করে। মেয়ে জুলিয়াকেও ৩০ হাজার টাকা ঋণ করে যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিয়ে ছিলেন উম্মে হানি। পায়ে ঘা হয়ে পঁচন ধরায় ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকা খরচ হয় তার। 

এসব খরচের টাকা যোগাতে গিয়ে ছেলের আয়ের পথ মোটরসাইকেলটি ৭০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখার পরও এনজিও থেকে ঋণ করতে হয় তাকে। ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি এসে পুনরায় আরেকটি এনজিও থেকে ঋণ করে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন। সর্বশেষ ঋণ থেকে মুক্তি পেতে নিজের কিডনি বিক্রির জন্য উপজেলা শহর থেকে শুরু করে জেলা শহরেও ঘুরেছেন তিনি।

 মো. তমাল হোসেন বলেন, আমরা প্রত্যেকটা মানুষ যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সজাগ থাকি তাহলে সমাজের প্রতিটি মানুষ ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারবে। যে এলাকায় উম্মেহানির বাড়ি সেই এলাকাতে অনেক বৃত্তবান মানুষ রয়েছে। তাদের একটু সহযোগিতায় উম্মেহানির মতো অনেক মানুষের কিডনি বিক্রির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাকে কিছু সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি ও তার বিভিন্ন এনজিও থেকে নেয়া ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছি। আসুন আমরা সবাই নিজের বিবেককে জাগ্রত করি এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। দেখবেন একদিন আপনার আশপাশে এমন হত দরিদ্র মানুষ আর থাকবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ