Alexa উপস্থাপনাই আমার জায়গা: মারিয়া নূর

উপস্থাপনাই আমার জায়গা: মারিয়া নূর

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৬ ২৯ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৭ ২৯ আগস্ট ২০১৯

ছবি:  মারিয়া নূর

ছবি: মারিয়া নূর

কথার মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা পৃথিবীর কঠিন কাজগুলোর মধ্যে একটি। ব্যস্তময় প্রতিটি মুহূর্তে সুমধুর বাচনভঙ্গিতে সময়কে স্তব্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা খুব কম লোকেরই আছে। কিন্তু কথার জাদুতে এই কঠিন কাজটি অনায়াসে করে থাকেন উপস্থাপিকা মারিয়া নূর। তার কথার ফুল ঝুঁড়ির সঙ্গে ভুবন ভোলানো হাসি যে কাউকে মুগ্ধ করে। 

প্রবাদ আছে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। কথাটি প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি। শুরুটা আর জে হিসেবে হলেও মডেলিং, উপস্থাপনা ও অভিনয়ে বিচরণ রয়েছে লাবণ্যময়ী এ তরুণীর। তবে প্রথমবার কণ্ঠশিল্পী ইমরানের গাওয়া ‘শুধু তোমায় ঘিরে’ গানে মডেল হয়েছেন মারিয়া। এমন সমসমায়য়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে। সেখান থেকে চুম্বক অংশ তুলে ধরেছেন নাজমুল আহসান

হঠাৎ মিউজিক ভিডিওতে কেন?

আগে অনেকেই বলেছে মিউজিক ভিডিও করতে, কিন্তু করা হয়নি। আর ইমরানকে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি, সঙ্গে ওর গানও। ইমরান যখন গানটির বিষয়ে আমাকে বললো মনে হলো কাজটি করে ফেলি। একেবারে হঠাৎ করেই ‘শুধু তোমায় ঘিরে’ মিউজিক ভিডিওটিতে কাজ করা। ভিকি জাহিদের নির্দেশনায় গানের ভিডিওতে আমার সঙ্গে মডেল হয়েছেন ইমরান নিজেই। এটা আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। 

 ‘শুধু তোমায় ঘিরে’ মিউজিক ভিডিওর দৃশ্যে মারিয়া নূর ও ইমরান

তাহলে কি উপস্থাপনার পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করবেন?

না, একেবারেই নিয়মিত মিউজিক ভিডিও করতে চাই না। মনে করি উপস্থাপনাই আমার জায়গা। যদি ভালো গানের অফার পাই সেক্ষেত্রে ভেবে দেখবো। তবে সেটাও হাতে গোনা। 

গত ঈদে প্রচারিত ‘স্টার নাইট’ অনুষ্ঠানে সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেছিলেন, তাকে নিয়ে কখনো বায়োপিক নির্মিত হলে সে চরিত্রে মারিয়া নূর-ই অভিনয় করতে পারে। কখনো এমন প্রস্তাব এলে কী করবেন?

কারো বায়োপিক করাটা কিন্তু ভীষণ দায়িত্বের ব্যাপার। অনেক বড় একটা গুরু দায়িত্বই বলতে পারেন। আমরা ছোট বেলা থেকে যাদেরকে দেখে দেখে বড় হয়েছি। যাদের আইডল মানি তাদের মধ্যে মৌ আপু একজন। আমরা যারা মিডিয়াতে কাজ করি তাদের কাছে মৌ আপু, তানিয়া আপুরা আইডল। মৌ আপু যখন কথাটি বলেছিলেন তখন কিন্তু শোয়ের মাঝেই বলেছিলাম, আমি কিন্তু এখনই পড়ে যাবো। কারো বায়োপিকে কাজ করা খুব কঠিন একটি কাজ মনে হয় আমার কাছে। বায়োপিক তাদেরই হয় যাদের সবাই আইডল মনে করেন। তাই আমি মনে করি না এই গুরু দায়িত্বটা নিতে পারবো। তাই বায়োপিকে অফার এলেও করবো না, করা হবে না। 

 ‘স্টার নাইট’ অনুষ্ঠানে সাদিয়া ইসলাম মৌ’র সঙ্গে মারিয়া নূর

যদি সাদিয়া ইসলমা মৌ নিজেই নির্মাণ করেন এবং সেখানেই আপনাকেই চান, সেক্ষেত্রে?

মৌ আপু নিজেই নির্মাণ করলে ব্যাপারটা আরো বেশি কঠিন হবে। তার গল্পে, তার সামনে, তার মতো করে অনুকরণ করা, ভাবতেই কঠিন লাগছে!  

গত বছর কোরবানি ঈদে তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘দাম্পত্য’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন। নাটকটি বেশ প্রশংসিতও হয়েছিল। তারপরও আর কোনো নাটকে অভিনয় করেননি কেন? 

‘দাম্পত্য’ নাটকটির অ্যারেজম্যান্ট বেশ ভালো ছিল, গল্পটিও। তাছাড়া তৌকির আহমেদ নির্মাণ করবেন সবমিলিয়ে নাটকটি করেছিলাম। কিন্তু সত্যি কথা বলতে শোবিজে কাজের শুরু থেকে অভিনয়কে একটু এড়িয়েই চলেছি। সব সময় বলেছি উপস্থাপনাটা আমার প্যাশন, তাই চেষ্টা করেছি অভিনয় যতো কম করা যায়। এখন আবার ভাবছি ‘দাম্পত্য’ নাটকটি করার পর যে পরিমাণ রেসপন্স পেয়েছি, মাঝে মাঝে দু-একটা নাটক করা যায়। 

শোবিজে ১০ বছর আর টিভি পর্দায় ৭ বছর কখনো ইচ্ছা হয়নি নিজেকে সিনেমায় দেখতে?

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্দেশনায় আমার অভিনীত এখানেই ডটকমের বিজ্ঞাপনটি সিনেমার কাহিনীর আদলে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে সিনেমার অনেক অফার এসেছে। সঙ্গত কারণে সিনেমাগুলোর নাম বলতে চাই না। সত্যি কথা বলতে, নাচ-গানে ভরপুর সিনেমায় নিজেকে দেখতে চাই না। ওটা আমার জায়গা না, আমার পারসোনালিটি ওই রকম না। যদি ভিন্ন ধারার গল্প নির্ভর সিনেমার প্রস্তাব আসে তখন সরাসরি না করবো না। ভেবে দেখার সুযোগ নেবো। যদি সবকিছু মিলে যায় তবে অবশ্যই সিনেমা করবো। 

বাংলাদেশে টকশো নির্ভর যে অনুষ্ঠানগুলো হয় দু-একটা বাদে বাকিগুলো তেমন জনপ্রিয়তা পায় না। একজন সফল উপস্থাপিকা হিসেবে আপনার কাছে এর কারণ কি মনে হয়?

আমি উদাহারণ দিয়েই বলতে পারি আপনি যে অনুষ্ঠানটির কথা একটু আগে বললেন ‘স্টার নাইট’। এই অনুষ্ঠানটি অনেক মানুষ দেখেছে। কেন দেখেছে? এটা একটু ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান ছিল, আর অতিথি ছিলেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। এখন মানুষ অনুষ্ঠান দেখে না, ফিকশন দেখে। এটার কারণ হিসেবে আমার মনে হয়, প্রায় সব প্রোগামগুলো একই ধাঁচের করে ফেলেছে। অনুষ্ঠান গুলো একই ছকে বাঁধা, এর মধ্যেই কাজগুলো করতে হচ্ছে। এই ছকের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করবে এই চেষ্টাটা কারো নেই। বাজেটের কারণে যেমন নাটকের জায়গাটা সীমিত করে ফেলা হয়েছে, তেমনি প্রোগ্রামের জায়গাটাকেও। কিন্তু বাজেট কম চিন্তা না করে যদি সবাই মিলে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করা হয়, সেক্ষেত্রে প্রোগ্রামগুলোও আরো সুন্দর হবে। 

আপনার এমন কোনো ইচ্ছা আছে যেটা করতে চাইলে অনেক কাট-খড় পোড়াতে হবে?

ডানা মেলে মুক্ত বিহঙ্গের মতো ওড়ার ইচ্ছা ছিল বলে ছোটবেলায় পাইলট হতে চেয়েছিলাম। এখন যদি পাইলট হতে চাই তাহলে অনেক খাঠ-খড় পোড়াতে হবে। আমাদের ইচ্ছে গুলো পূরণ করতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চেষ্টা করি। সারা পৃথিবী ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে। অনেক পরিশ্রম করে হলেও সেই ইচ্ছাটা পূরণ করতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/এমআরকে