Alexa উদ্ভট কিন্তু যুগান্তকারী কিছু ক্রিকেটীয় শট

উদ্ভট কিন্তু যুগান্তকারী কিছু ক্রিকেটীয় শট

মাসুদ রানা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৮ ১৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:১৫ ১৮ জানুয়ারি ২০২০

সৌম্য সরকারের পেরিস্কুপ

সৌম্য সরকারের পেরিস্কুপ

ক্রিকেটের ১৪৩ বছরের পথপরিক্রমায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। যুগে যুগে প্রতিভাবান অনেক ক্রিকেটার তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা দিয়ে ক্রিকেটকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। সেটা হোক ব্যাটে বা বলে। যা ক্রিকেটে যোগ করেছে গ্ল্যামার! সময়ের প্রয়োজনে ব্যাটসম্যানরা উদ্ভাবন করেছেন দারুণ মনোমুগ্ধকর ও অবিশ্বাস্য সব শট! তারা নিত্যনতুন ক্রিকেটীয় শটকে নিয়ে গেছে রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে। 

রিভার্স সুইপ (হানিফ মোহাম্মদ)

ক্রিকেটের খুবই কমন একটি শট হলো সুইপ শট। তবে স্পিনারদের সামলানোর জন্য ব্যাটসম্যানদের দারুণ কার্যকরী একটি উপায় হলো রিভার্স সুইপ। অর্থাৎ উল্টোদিকে সুইপ শট। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানি ক্রিকেটার মুশতাক মোহাম্মদ সর্বপ্রথম এই শটটি খেলেন। তবে এটার উদ্ভাবনে কৃতিত্ব তারই সতীর্থ হানিফ মোহাম্মদের বলে জানান মুশতাক। পরবর্তীতে শচীন টেন্ডুলকার, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের মতো অনেক কিংবদন্তী স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছেন রিভার্স সুইফ। 

প্যাডেল স্কুপ (ডগলাস মারিলিয়ার)

জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার ডগলাস মারিলিয়ার খুব বেশি পরিচিত একটা নাম না হলেও তার আবিষ্কৃত প্যাডেল স্কুপ জায়গা করে নেয় ইতিহাসে। ভারতের বিপক্ষে সর্বপ্রথম এই শট খেলেন তিনি। যা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইয়র্কার বা ফুল লেন্থের বলের বিপক্ষে দারুণ কার্যকর একটি শট হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। বোলারের গতি ও বাউন্স ব্যবহার করে ব্যাটসম্যান এই শট খেলে থাকে। চতুরতা ও সাহসের সঙ্গে খেলা মারিলিয়ারের এই শটটি দারুণ ফলপ্রসূ। কুমার সাঙ্গাকারা বা সাকিব আল হাসানরা যথেষ্ট সফলতার সঙ্গে এই শট খেলে থাকেন।

আপার কাট (শচীন টেন্ডুলকার)

ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের উচ্চতা সম্পর্কে সবারই জানা। নিজের এই স্বল্প উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি উদ্ভাবন করেন আপার কাট। সাধারনত পেসারদের বাউন্সার স্লিপ ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে সীমনা ছাড়া করাই হলো ‘আপার কাট’। মূলত বলের গতি ব্যবহার করে খেলা এই শটকে অন্য মাত্রা দান করেন ভারতের বীরেন্দর শেবাগ। এটি তার ‘ট্রেডমার্ক’ শটে পরিণত হয়। 

দিলস্কুপ (তিলকারত্নে দিলশান)

বলের গতি ব্যবহার করে উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল সীমানা ছাড়া করার দুর্দান্ত এক কৌশল আবিষ্কার করেন শ্রীলংকার সাবেক ব্যাটসম্যান তিলকারত্নে দিলশান। এই শটের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ দলের ফিল্ডারদের তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। কেননা এই শটের প্রায় নিশ্চিত ফলাফল হল চার বা ছয়। দিলশানের নামানুসারে শটটির নামকরণ করা হয় দিলস্কুপ। 

হেলিকপ্টার শট (মহেন্দ্র সিং ধোনি)

‘হেলিকপ্টার শট’ এর জনক ভারতের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। শটটি খেলার সময় অন্তত একটি পা অথবা দুটি পা-ই ভূমি থেকে ওপরে শূন্যে অবস্থান করে। ‘হেলিকপ্টার শট’ খেলার সময় প্রচুর শক্তির দরকার হয়। ধোনি ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানকেই এই শটকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। 

সুইচ হিট (কেভিন পিটারসেন)

এটি মূলত ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বাঁহাতি ব্যাট বা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের দ্রুতগতিতে ডানহাতি ব্যাটসম্যান বনে যাওয়া কৌশল। সুইপের পরিবর্তিত রূপ রিভার্স সুইপ আর রিভার্স সুইপের পরিবর্তিত রূপ হলো সুইচ হিট। কেভিন পিটারসেন বল করার পূর্বেই তার ‘স্ট্যান্স’ সুইচ করে বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের ন্যায় শটটি খেলা শুরু করেন। সেখান থেকেই উদ্ভব এই সুইচ হিটের। যেটা দারুণ বিস্ময়ের জন্ম দেয়। একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান কীভাবে এত দ্রুততার সঙ্গে স্ট্যান্স বদল করে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের মত দাঁড়িয়ে এত পাওয়ারফুল শট খেলে!

রিভার্স স্কুপ (এবি ডি ভিলিয়ার্স)

'মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি' হিসেবে পরিচিত এবি ডি ভিলিয়ার্স ক্রিকেটের ব্যাকরণই পাল্টে দিয়েছেন। তিনি একদিকে যেমন ব্যাকরণ মেনে শট খেলতে অভ্যস্ত, একইসঙ্গে একান্ত নিজস্ব কিছু স্টাইলে খেলতেও সিদ্ধহস্ত। এমনই একটি শট হলো রিভার্স স্কুপ। এটা শুধু তিনিই খেলে থাকেন। রিভার্স স্কুপ শটটি খেলার জন্য হাত সুইচ করে খেলতে হয়। এই শট খেলার জন্য প্রয়োজন কৌশল এবং হাত ও চোখের দারুণ সমন্বয়। যেটা এবিডির কাছে দুধভাতের মতোই মনে হয়। 

পেরিস্কুপ (সৌম্য সরকার)

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ধরা হয় সৌম্য সরকারকে। অভিষেকের পর থেকেই নয়নভিরাম সব শট খেলে ক্রিকেটভক্তদের মন জয় করেছেন দীর্ঘদেহী এ ব্যাটসম্যান। তার উদ্ভাবিত ‘পেরিস্কুপ’ শটটি রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করে। লেগ সাইডে সরে, শরীরটা সামান্য বাঁকিয়ে সৌম্য সরকার ‘গালি’র  ওপর দিয়ে উড়িয়ে শটটি খেলে থাকেন। শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে নিখুঁত নিশানায় পাঠানো দর্শনীয় শটটিকে শিল্পে পরিণত করেছেন সৌম্য সরকার। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এম/এএল