Alexa উত্তাল বিমানবন্দর সড়ক, বৃষ্টিতেও চলছে অবরোধ

উত্তাল বিমানবন্দর সড়ক, বৃষ্টিতেও চলছে অবরোধ

প্রকাশিত: ১১:২১ ৩০ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৫:০৪ ৩০ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ  ভিআইপি সড়কের উভয়পাশে তীব্র জানযট সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দিচ্ছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তারা দূঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের হাতে জনসচেতনামূলক প্লে-কার্ড ছিলো। 

শিক্ষর্থীদের দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত দোষী চালক ও অন্যান্যদের শাস্তির ব্যবস্থা করা না হবে,  ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এখান থেকে যাবেন না।

পরে পুলিশ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পিছিয়ে যায় পুলিশের সাউনস্টিমুলাইজার।

এদিকে, খিলক্ষেত এলাকায় সুষ্ঠ আন্দোলন চলছে বলে জানা গেছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষরাও। তারা আন্দোলনকারীদের পানি ও খাবার সরবরাহ করছে। আসামি ধরা পড়া আর নৌমন্ত্রী তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে আন্দোলনকারীরা জানান। তবে এম্বুলেন্স, হজযাত্রী আর মিডিয়াকর্মীদের বাধা দেয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। 

রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন রাস্তায় পরিবহন খুবই কম। খিলক্ষেত, বিশ্বরোড শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে শতশত মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করছে। মিরপুরের অধিকাংশ রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। আব্দুল্লাহপুর থেকে সায়েদাবাদ রুটে কিছু গাড়ী চলাচল করছে। 

বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দিচ্ছে। শিক্ষর্থীদের দাবি- যতক্ষণ না পর্যন্ত দোষী চালক ও অন্যান্যদের শাস্তির ব্যবস্থা করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এখান থেকে যাবে না। আন্দোলনকারীরা আসামিকেকে ২৪ ঘন্টার ভেতর গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করছে। তারা অবিলম্বে নৌমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে। 

এদিকে, রমিজ উদ্দিন কলেজের পাশাপাশি রাজউক উত্তরা কলেজ, আদমজী কলেজ, বিজ্ঞান কলেজ, বি এন কলেজ, মিরপুর বঙ্গবন্ধু কলেজ, উত্তরা ইউনাইটেড কলেজ, উওরা কমার্স কলেজ, উত্তরা ক্রিডেন্স কলেজ, ওয়াইড ভিশন কলেজের ছাত্রী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে।

রোববার দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা ১৫/২০ জন শিক্ষার্থীর উপর ওঠে যায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস।ঘটনার সময় সেখানে জাবালে নূর পরিবহনের আরেকটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখেই দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির ওই বাসটি  দাঁড়িয়ে থাকা বাসটি ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আর তখনই নিমিষে ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের উপর। দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মুর্হূতে প্রাণ যায় রমিজউদ্দিন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী দিয়া আখতার মিম (১৭) ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল করিমের (১৮)। এ ঘটনায় আরো বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে হতাহতদের কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বাসে উঠার জন্য এমইএস স্টপেজে দাঁড়িয়েছিল। এসময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। 

সাদিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা সবসময় ব্রিজের এখানে দাঁড়াই বাসের জন্য। আজ দুইটি বাস প্রচণ্ড গতিতে রেস করতে করতে আসছিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই একটি বাস অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের উপর উঠে পড়ে। রাস্তার পাশে যে গাছটা ছিল, সেটাও মুর্হূতে উপড়ে যায়। আমরা দেখিইনি বাসটা কোত্থেকে এলো, এতটাই ছিল গতি।

দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও বাসের সুপারভাইজারকে মারধর করে আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/ এএএম/ টিএএস/ এলকে