উত্তরার কাঁচকুড়া নদীতে একবেলা

উত্তরার কাঁচকুড়া নদীতে একবেলা

মাদিহা মৌ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৮ ১৮ জুন ২০২০  

কাঁচকুড়া নদী

কাঁচকুড়া নদী

শহুরে বিকেলের চিত্রটা গ্রাম থেকে একেবারেই ভিন্ন। বাসায় বসে থাকা, ছাদে আড্ডা কিংবা কোনো রেস্তোরাঁয় বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা। আরেকটু বেশি হলে শহুরে কোনো পার্কে সময় কাটানো। কিন্তু গ্রাম্য বিকেল একেবারেই অনন্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

গ্রাম্যের বিকেলের ছোঁয়া কিন্তু ঢাকার উত্তরায়ও পাওয়া যায়। তা হয়তো অনেকেরই অজানা। উত্তরার কাছে কাঁচকুড়ায় এরকম একটা নদী আছে। সেখানে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানো যায়। চারদিকে সবুজ প্রকৃতি। ঠিক যেন গ্রাম!

উত্তরা দক্ষিণখান ইউনিয়নের কাঁচকুড়া রোডে প্রায়ই নাটকের শুটিং হয়। পাশাপাশি ইউনিয়ন উত্তরখানেও শুটিং হয়। জায়গাগুলোতে হয়তো অনেকেই গিয়েছেন। তবে বাজার থেকে প্রায় ১০ মিনিট দূরত্বের নদীর ঘাটে খুব বেশি প্রকৃতির খোঁজ করা মানুষের পা পড়েনি। এয়ারপোর্ট থেকে তিনবারে অটো বদলে এলাম কাঁচকুড়া। সরাসরি অটো খুব বেশি পাওয়া যায় না। থাকলেও সময় লাগে বেশি। তাই ভেঙে ভেঙে এলে সময় সাশ্রয় হবে।

গ্রাম্যের বিকেলের ছোঁয়া পাবেন কাঁচকুড়ায়

কাঁচকুড়া নদীর কাছাকাছি এসেই যখন বাতাসের ঝাপটায় দোল খেলাম, তখনই মনে হলো এইতো গ্রাম! যেন শাড়ির আঁচল উড়িয়ে নিয়ে যাবে। বর্ষাকাল বলে পানি অনেক। দূরে তীর দেখা যায়। ঘাটে নৌকা বাঁধা থাকে। ইঞ্জিন চালিত নৌকা থেকে শুরু করে খেয়া নৌকা, এমনকি ছোট খাট লঞ্চও আছে। পাঁচ টাকা ভাড়ায় এপার থেকে ট্রলার নৌকা ভর্তি করে ওপারে যাচ্ছে, ওপার থেকে আসছে। নদীর ওপারেই হরদিবাজার। নৌকা ভাড়া করে ঘোরা যায় চাইলে। খেয়া নৌকা ঘণ্টায় ৩০০ টাকা চাইবে। তবে দামাদামি করে ১৫০-২০০ টাকায় ঠিক করা যাবে।

শীতে এখানকার পানি একেবারেই কমে যায়। একসময় এটা নদীর গতিপথ ছিল, এখন প্রায় মরা নদী বললেই চলে। বর্ষাকালে যা একটু প্রাণ ফিরে পায়। তাই নদীর রূপ অবলোকন এবং নৌকা ভ্রমণের জন্য বর্ষাকালেই যেতে হবে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার যে কোনো জায়গা থেকে এয়ারপোর্ট। এরপর হাজিক্যাম্প থেকে অটোতে কাঁচকুড়া বাজার। ভাড়া নেবে ৩০ টাকা। সরাসরি পাওয়া না গেলে প্রথমে দক্ষিণখান আসবেন। দক্ষিণখান থেকে কাঁচকুড়া বাজার। এখান থেকে পাঁচ টাকা ভাড়ায় বদলি অটোয় নদীর পাড়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে