Alexa উইঘুর নারীদের সন্তানহারা করার চীনের ভয়ংকর পদ্ধতি ফাঁস

উইঘুর নারীদের সন্তানহারা করার চীনের ভয়ংকর পদ্ধতি ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৩ ৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১২:৪১ ৮ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চীনে উইঘুর নারীদের সন্তানহারা করতে নানা ভয়ংকর পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছে সরকার। দেশটির কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে সীমান্তবর্তী দেশ কাজাখস্তানে কয়েকজন উইঘুর নারী আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বর্ণনায় এসব ভয়ংকর পদ্ধতির নানা দিক উঠে এসেছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম উঠে এসেছে, ওই সব নারীদের গর্ভে থাকা ভ্রূণ নষ্ট করতে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিল চীন কর্তৃপক্ষ।

ওই নারীদের কাজাখস্তান এসেও স্বস্তি নেই। মাতৃভূমিতে যে নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, সেই স্মৃতিগুলো প্রতিনিয়ত তাদের দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

চীনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল শিনজিয়াং থেকে পালিয়ে আসা নারীরা চীনের ভয়ংকর নির্যাতনের বর্ণনায় বলছেন, তাদের কাউকে গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। কেউবা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আবার কেউ কেউ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেককেই নগ্ন হয়ে গোসল করতে বাধ্য করা এবং গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ডলে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। 

চীনের স্থানীয় মানবাধিকার গ্রুপ ও আইনজীবীরা দাবি করেছেন, শিনজিয়াং প্রদেশে এগুলো সাধারণ ঘটনা। সরকার যে ব্যাপক নির্যাতন চালায় এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, মুসলমান নারীদের সন্তান জন্মদান ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া।

এদিকে চীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই শিনজিয়াংয়ের মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এর মাধ্যমে চীন কার্যত ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। রোববার দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে, কেবল উইঘুরই নয়, কাজাখ মুসলমান ও অন্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। গত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজাখ বংশোদ্ভূত ৩৮ বছরের গুলজিরা মোগদিনকে গ্রেফতার করে চীনা কর্তৃপক্ষ। ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ পাওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাকে বাড়ির পাশের এক ক্লিনিকে নেয়া হয়।

সেখানে পরীক্ষা করে জানা যায়, গুলজিরা ১০ সপ্তাহের গর্ভবতী। চীনা কর্তৃপক্ষ চিকিৎসককে গর্ভে থাকা ভ্রূণ নষ্ট করার নির্দেশ দেয়। গুলজিরাকে অচেতন না করেই ভ্রূণ নষ্ট করেন সরকারি চিকিৎসক।

কাজাখ নারী গুলজিরা দুই বছর পর এখনো সেই শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। এই নারী বলেন, এক ট্রাজেডিতে দুটি মানুষ হারিয়ে গেল। একজন আমার অনাগত সন্তান, অপরজন আমি নিজে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নারীর আইনজীবী আইমান উমরারোভা জানান, তার মক্কেলকে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে দুই দফায় গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করে শিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ। পরে তিনি কাজাখস্তানে পালিয়ে আসেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব মতে, ২০১৭ সাল থেকে ‘পুনঃশিক্ষা শিবিরে’ ১০ থেকে ৩০ লাখ মুসলমানকে বিভিন্ন মেয়াদে আটক রাখা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই উইঘুর সম্প্রদায়ের।

উইঘুর বংশোদ্ভূত আলমাস নিজামুদ্দিন নামের এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকসহ দুজন ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, তাদের স্ত্রীদের এখনো আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে তাদের গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করে।

গত ২০০৯ সালে চীনা হানদের সঙ্গে দাঙ্গা বাধে উইঘুরদের। ওই সময় অন্যদের সঙ্গে আটক করা হয়েছিল ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষার্থী রুকাইয়া পেরহাতকে। চার বছর তাকে বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর তুরস্কে গিয়ে আশ্রয় নেন। আটক অবস্থায় চীনা হান নিরাপত্তারক্ষীরা একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন রুকাইয়া। এর পরিণতিতে তিনি দুবার গর্ভবতী হন এবং প্রতিবারই তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয়।

এদিকে শিনজিয়াংয়ে অনেক নারীকে দল বেধে নগ্ন হয়ে গোসল করতে বাধ্য করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদের সে বিষয়ে সাড়া দেয়নি চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর