উইঘুর গণহত্যায় চীনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান

উইঘুর গণহত্যায় চীনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১২ ৭ জুলাই ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে নির্বাসনে থাকা উইঘুরদের একটি দল। তারা উইঘুরদের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিসি’র প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সহ সিনিয়র চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

সোমবার প্রথমবারের মতো চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াংয়ের দুইজন নেতাকর্মী উইঘুরের পক্ষে লন্ডনে অবস্থিত আইনজীবীদের মাধ্যমে নতুন প্রমাণ জমা দিয়েছে। 

জানা গেছে, নির্বাসনে পূর্ব তুর্কিস্তান সরকার এবং পূর্ব তুর্কিস্তান জাতীয় জাগরণ আন্দোলনের পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, উইঘুরদেরকে তাজিকিস্তান এবং কম্বোডিয়া থেকে জিনজিয়াংয়ে অবৈধভাবে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল যেখানে তাদের কারাবন্দি করা হয়েছিল। নির্যাতনের পাশাপাশি জোরপূর্বক জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, চীনে এক সন্তান নীতি কার্যকর করতে উইঘুরসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলমান নারীদের নজরে রাখা হয়েছিল।  

এ বিষয়ে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান যে এই ধরনের অপরাধের একটি অংশ কম্বোডিয়া এবং তাজিকিস্তানে সংঘটিত হয়েছে। আর এই দেশ দু’টি আইসিসি’র রোম বিধিতে স্বাক্ষরকারী। ফলে চীন এই আদালতের সদস্য না হলেও আন্তর্জাতিক আদালত এই মামলাগুলোর বিচার করার অধিকার রাখে।

অভিযোগ পত্রে আদালতকে উইঘুর, কাজাখ, কিরগিজ এবং অন্যান্য তুর্কি জনগোষ্ঠীর লোকজনের নিখোঁজ হওয়া, গণগ্রেফতার, শিশুদের তাদের পরিবার থেকে রাষ্ট্রীয় এতিমখানাগুলোতে জোর করে স্থানান্তরিত করা, তুর্কি ভাষা নির্মূল করার পরিকল্পনা, গণ নজরদারি এবং অন্যান্য অপরাধ তদন্তের জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।

গুরুতর এই অভিযোগগুলোর সঙ্গে জড়িতদের নামের তালিকায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সহ প্রবীণ চীনা কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের নির্দেশেই এই কর্মকাণ্ডগুলো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। 

আদালতে অভিযোগকারী উইঘুর দলটি জানিয়েছে, তারা আশা করেন এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের চালানো অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করতে সক্ষম হবেন ও সুষ্ঠু পাবেন। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ