‘ঈশ্বর কষ্ট দিও না, দ্রুত নিয়ে যাও’

‘ঈশ্বর কষ্ট দিও না, দ্রুত নিয়ে যাও’

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৯ ৬ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২০:৩০ ৬ জুলাই ২০২০

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর

ক‌্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। সোমবার সন্ধ্যায় মারা যান এই খ্যাতিমান শিল্পী। এর আগে কষ্ট সইতে না পেরে দ্রুত নিজের মৃত্যু কামনা করেছিলেন তিনি।

রাজশাহী নগরীর মহিষবাতান এলাকায় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়। 

এন্ড্রু কিশোরের স্ত্রী সোমবার সন্ধ্যার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘এখন কিশোর কোনো কথা বলে না। চুপচাপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে। আমি বলি কী ভাব, বলে কিছু না, পুরানো কথা মনে পড়ে আর ঈশ্বরকে বলি আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, বেশি কষ্ট দিও না।’

স্ত্রী লিপিকা লিখেছিলেন, ‘ক্যান্সারের শেষ ধাপ খুব যন্ত্রণাদায়ক। এন্ড্রু কিশোরের জন্য সবাই প্রাণ খুলে দোয়া করবেন, যেন কম কষ্ট পায় এবং একটু শান্তিতে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে পারে।

তিনি আরো লিখেছিলেনন, আমার মনে হল, কিশোর শুধু আমার বা আমাদের সন্তানের বা আমাদের পরিবারের নয় বরং দেশের মানুষের একটা অংশ বা সম্পদ। তাই এই কথাগুলো দেশের ভক্ত শ্রোতাদের বলা বা জানানো আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

তিনি লিখেছেন, এটাই শেষ পোস্ট, এর পর আর কিছু বলা বা লেখার মত আমার মানসিক অবস্থা থাকবে না। এখনো মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন মনে হয়, কিশোর থাকবে না অথচ আমি থাকবো, মেনে নিতে পারছি না।

উল্লেখ্য ব্লাড ক্যান্সার নিয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ১১ জুন রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন তিনি। পরের দিন তিনি ঢাকা থেকে রাজশাহী চলে আসেন। এরপর থেকে তিনি তার বোন ডা. শিখার বাড়িতে রয়েছেন।

এন্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সঙ্গীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকযাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। 

এন্ড্রু কিশোরের খুব জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘পদ্মপাতার পানি’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙ্গাল’ প্রভৃতি। এন্ড্রু কিশোর আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে