ঈদ বোনাসে এগিয়ে ঢাকার বাইরের পোশাক কারখানাগুলো

ঈদ বোনাসে এগিয়ে ঢাকার বাইরের পোশাক কারখানাগুলো

মীর সাখাওয়াত সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১২ ৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ২১:০৮ ৩ জুন ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রতি বছর ঈদের সময় দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বেতন বোনাসের জন্য শ্রমিকদের আন্দোলন একটা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিগত বছরগুলোর যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের ঈদে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস উল্লেখযোগ্যভাবে দেয়া হয়ে গেছে। বেতন দিতে কিছু পোশাক কারখানা অপারগ হলেও বেশিরভাগই বোনাস দিয়ে দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ঢাকা শহরের বাইরের পোশাক কারখানাগুলোর চেয়ে ঢাকা শহরের পোশাক কারখানার মালিকেরা পিছিয়ে আছে। বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদের আগে সারাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে বেতন-বোনাসের জন্য কোথাও তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি। সরকার ও বিজিএমইএ’র ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এবার ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করার জন্য মালিকদের জরুরিভাবে তাগাদা দেয়া হয়। আর তার ফলেই পাল্টে গেছে পোশাক শিল্প খাতের চিরাচরিত দৃশ্য। 

গত ২৩ মে সরকার ও পোশাক কারখানা মালিকরা বসে সিদ্ধান্ত নেন, ৩০ মে’র মধ্যে বিজিএমএ’র সদস্য সব কারখানার শ্রমিকদের বোনাস দেয়া হবে। 

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, গত ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে ৫৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ কারখানা মালিক তাদের শ্রমিকদের বোনাস দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বোনাস ও বেতন দিয়েছে আশুলিয়া এলাকার কারখানাগুলো। আর সবচেয়ে কম দিয়েছে রাজধানী ঢাকার ভেতরের মহাখালী, মালিবাগ ও মৌচাক এলাকার কারখানাগুলো।

তবে গত শনিবার ও রোববার আরো প্রায় ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানার মালিকেরা বোনাস পরিশোধ করেছে বলে বিজিএমইএ জানিয়েছে। সেক্ষেত্রে এবার প্রায় ৯৫ শতাংশ পোশাক কারখানা ঈদের আগেই শ্রমিকদের বোনাস দিয়ে দিয়েছে। তবে বেশকিছু পোশাক কারখানার মালিকেরা বেতন পরিশোধ করতে পারেননি। ঈদের ছুটির পর কারখানা খোলামাত্রই সবার বেতন দেয়া হবে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমিন বলেন, এটা ঠিক যে এবার অধিকাংশ শ্রমিক ঈদের বোনাস পেয়ে গেছে। কিন্তু বিজিএমইএ’র বাইরের অনেক পোশাক কারখানার মালিক বেতন-বোনাস দেয়নি। আর বিজিএমইএ’র সদস্য অনেক মালিকও বেতন দিতে পারেনি। অনেকে আবার ৩০ মে নির্ধারিত দিনের মধ্যে না দেয়ায় শ্রমিকদের বাড়ি যেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এই অসঙ্গতিগুলো দূর করা যায়, সরকারকে সে বিষয়ে আরো বেশি আন্তরিক হতে হবে।

শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে রোববার থেকে সব পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। অথচ এখনো ৩০ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেয়া হয়নি। এসব কারখানার মালিকদের কেউ কেউ অর্ধেক বেতন দেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে আসার পরপরই বেতন দিয়ে দেয়া হবে। তবে বেশির ভাগ মালিক বোনাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ৯০ শতাংশ কারখানায় বোনাস দেয়া হয়েছে। তবে সেই অনুসারে বেতন দেয়া হয়নি। রোববারের মধ্যেই অধিকাংশ মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দিয়ে দেবে বলে জানান তিনি। 

বিজিএমইর সভাপতি রুবানা হক জানান, রোববারের মধ্যে পোশাক কারখানার মালিকরা যেন বেতন-বোনাস দিয়ে দেয় সে জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/এমআরকে