ঈদ উপহার পেয়ে হাসি ফুটেছে শাহজাহানের মুখে

ঈদ উপহার পেয়ে হাসি ফুটেছে শাহজাহানের মুখে

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ২৩ মে ২০২০  

মো. শাহজাহান মিয়া

মো. শাহজাহান মিয়া

মো. শাহজাহান মিয়া তিনি পেশায় একজন শ্রমিক। তার সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভাব অনটনের সংসার। লেখাপড়া কিংবা জায়গা জমি না থাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে গ্রামে তিনি শ্রমিকের কাজ করছেন। 

দৈনিক যে টাকা আয় হয় সে টাকা দিয়েই ছোট একটি টিনের ঘরে চলছে তার সুখের সংসার। তবে সংসারে আয় উপার্জন কম হলেও তার  সুখ ছিল। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ২ মাস ধরে কর্মহীন হয়ে পড়ায় তার যেন সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে পড়ে আয় রোজগারের পথ।

অর্থের অভাবে অনেকটাই সে দিশাহারা হয়ে পড়ায় খেয়ে না খেয়ে চলছে তার এই সংসার। এই দুর্যোগের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে তার মলিন মুখে এখন যেন হাসি ফুটে এসেছে। অন্তত কিছুদিন হলেও পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারবেন। 

শাহজাহান আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকার মালু মিয়ার ছেলে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি এই দুর্দিনে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঈদ উপহার হিসেবে টাকা পাব। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে আড়াই হাজার টাকা পেয়ে তার মুখে যেন মুখে বিশ্বজয়ের হাসি ফুটে উঠেছে। 

শাহজাহান বলেন, কর্মহীন হওয়ার পর থেকে কারও কাছ থেকে মাত্র এক বার ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার কথা জানায়। কিন্তু চক্ষুলজ্জার কারণে কাউকে কিছু বলতে ও পারেনি। তাই সংসার চালাতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পরই তার মুঠোফোনের নগদ হিসাব নম্বরে চলে আসে কাঙ্খিত আড়াই হাজার টাকা। ওই টাকা উত্তোলন করে সন্তানদের জন্য ঈদের জামা কাপড় কেনা হয়। সেইসাথে করা হয়  ঈদ বাজার ও। 

করোনার এ দুর্যোগে কর্মহীনদের জন্য উপহার পাঠানোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি ধন্যবাদ জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করে ৩৫০-৪০০ টাকা তার আয় হয়। এ টাকা দিয়েই চলে তার চারজনের সংসার।  করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই তার কাজকর্ম এক প্রকার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে তার হিমসিম হেতে হচ্ছে। 

তালিকা অনুযায়ী করোনা প্রাদূর্ভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আর্থিক সহায়তা মোবাইল ব্যাকিং পরিসেবার মাধ্যমে তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেককে দেয়া হচ্ছে ২৫০০ টাকা। এজন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষক এবং সমাজের গণমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়।   

উপকারভোগীদের তালিকায় রয়েছেন রিকশাচালক, ভ্যান চালক, দিনমজুর, হকার, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, নরসুন্দর, দোকানের কর্মচারী, কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের অনেক পেশার লোকজনকে এ আওতায় রাখা হয়। উপকারভোগী সবার কাছে বিকাশ, নগদ, রকেট ও শিউরক্যাশের মাধ্যমে এ টাকা দেয়া হচ্ছে। 

আখাউড়ার ইউএনও তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পায় সেজন্য আমরা সতর্কতার সঙ্গে তালিকা প্রণয়নের কাজ করছি। পৌরসভা ও ইউপি থেকে প্রাপ্ত তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে