Alexa ঈদে ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জের দর্শনীয় ৩৫ স্থান

ঈদে ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জের দর্শনীয় ৩৫ স্থান

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৪:২০ ১২ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৪:২১ ১২ আগস্ট ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন ধানের দেশ হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জে। এখানে রয়েছে হাওর আর পাহাড়ের মিলনে সমৃদ্ধ ৩৫টির বেশি দর্শনীয় স্থান, যার নয়নাভিরাম, নৈসর্গিক সৌন্দর্য আপনাকে দেবে পরিপূর্ণ তৃপ্তি।

টাঙ্গুয়ার হাওর, বারেক টিলা, শিমুল বাগান, মেঘালয় জলপ্রপাতের মতো পর্যটন স্পটগুলোর টানেই বছরের পর বছর সুনামগঞ্জে আসেন লাখ লাখ দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী। সৌন্দর্য পিপাসুদের পদচারনায় সারা বছর মুখরিত থাকে এ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো।

টাংগুয়ার হাওর

নয় কুড়ি বিল, ছয় কুড়ি কান্দার সমন্বয়ে শত বর্গ কিলোমিটারের এ হাওরে নানা প্রজাতির বনজ ও জলজ প্রাণী রয়েছে। এছাড়া হিজল, করছের বাগান এ হাওরের সৌন্দর্যকে আরো দর্শনীয় করেছে। বর্ষায় টাংগুয়ার হাওর এক বিশাল সমুদ্রের রূপ ধারণ করে। শীতে বসে অতিথি পাখির মিলনমেলা।

শিমুল বাগান

শিমুল বাগানের সারি সারি গাছ আর সবুজ পাতার সুনিবিড় ছায়া পর্যটকদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। আর বসন্তের রক্তলাল রাঙিয়ে দেয় দর্শনার্থীদের মন। বর্ষা, বসন্ত আর হেমন্তে শিমুল বাগানের ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। ২০০২ সালে বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন যাদুকাটা নদী সংলগ্ন ৯৮ বিঘা অনাবাদী জমিতে এ বাগান তৈরি করেন। অনাবিল সৌন্দর্যের কারণে শিমুল বাগান পরিণত হয়েছে শুটিং স্পটে।

বারেক টিলা/বারিক্কার টিলা

আইফেল টাওয়ার খ্যাত বারেক টিলা কিংবা বারিক্কার টিলায় এলে আপনি দেখতে পাবেন পাহাড় আর মেঘের মিলনমেলা। বর্ষায় মেঘালয় পাহাড়ের মেঘ দেখে মনে হবে, যেন মেঘগুলো আপনাকে ছুঁয়ে দিচ্ছে। পাহাড় আর মেঘের অপরূপ খেলা বারেক টিলাকে পরিণত করেছে দর্শনীয় স্পটে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব ঋতুতেই এখানে জমে দর্শোনার্থীদের ভিড়।

যাদুকাটা নদী

মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা সীমান্ত নদী জাদুকাটা। হাজারো শ্রমিকের জীবিকার উৎস এ নদীতে সচ্ছ পানি ও তলদেশের বালি একসঙ্গে খেলা করে। জাদুকাটা নদীর দুই পাড়ে মিলবে সুউচ্চ সবুজ পাহাড় ও নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘরাশির দেখা। যা আপনাকে সম্মোহিত করে রাখবে ক্ষণিকের জন্য।

৪৮ শহীদের সমাধি

সুনামগঞ্জ সদরের সীমান্তবর্তী জাহাঙ্গীরনগর ইউপির নারায়ণ তলায় রয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শত্রুর বন্দুকের সামনে বুক উঁচিয়ে প্রাণ দেয়া ৪৮ শহীদের সমাধি। সেখানে গিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারেন আপনিও।

এছাড়া দোয়ারাবাজারে রয়েছে বাঁশতলা, হক নগর শহীদ স্মৃতিসৌধ, জুমগাঁও আদিবাসী পল্লী। ছাতকে গেলে আপনি দেখতে পাবেন লাল পাহাড়, ছাতক-ভোলাগঞ্জ রূপওয়ে। 

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, সারাবছর কর্মব্যস্ত সময় কাটানোর পর যারা একটু প্রশান্তি খুঁজে বেড়ান। এই ঈদে তারা এসব দর্শনীয় স্থানে পাবেন অনাবিল শান্তির ছোঁয়া। যান্ত্রিক জীবনের গণ্ডি থেকে বের হয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে হারিয়ে যেতে ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জ।

তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। পর্যটন স্পটগুলোতে আসা-যাওয়ার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত যানবাহন। এখানে রয়েছে জেলা পরিষদের ডাক বাংলো, উপজেলা পরিষদের রেস্ট হাউসসহ নিরাপদ ও মানসম্পন্ন হোটেল, গেস্ট হাউজ, কটেজ, অতিথি ভবন।
 
ডেইলি বাংলাদেশ/এআর