ঈদে অল্প টাকায় ঘুরে আসুন মনোমুগ্ধকর জায়গাগুলোতে

ঈদে অল্প টাকায় ঘুরে আসুন মনোমুগ্ধকর জায়গাগুলোতে

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৯ ২৮ মে ২০১৯  

লেঙ্গুরা

লেঙ্গুরা

যে কোনো উৎসবে দেশের পরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। তখন খরচও বেড়ে যায়। তাই আপনি বেছে নিতে পারে এমন কিছু জায়গা, যেগুলো দেখতে অসাধারণ কিন্তু জুট-ঝামেলা কম। কম পরিচিত এসব জায়গায় ঘুরতে টাকাও খরচ হয় কম। রাজার পাহাড় ও লেঙ্গুরা তেমনই দুটো জায়গা-

রাজার পাহাড়

শেরপুরের রাজার পাহাড়

ঢেউফা নদীর শান্ত শীতল জলের স্রোতধারা এক টানা বয়ে চলেছে এঁকে-বেঁকে। সহজ সরল এ নদীর বুকে জেগে উঠা চরের বালু চকচক করছে। এর পাশেই বিশাল উঁচু টিলা রাজার পাহাড়। নদী আর সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি রাজার পাহাড় যেন ঐশ্বরিক স্বপ্নপুরি। এর কূল ঘেঁষে নানা কারুকার্যে সাজানো উপজাতি এলাকা বাবেলাকোনা। এ গ্রাম যেন যোগ করেছে সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা। ঢেউফা নদীর দু’পাশে সবুজ বৃক্ষ আচ্ছাদিত অসংখ্য উঁচু-নিচু পাহাড়। গভীর মমতা আর ভালবাসায় গড়া উপজাতিদের বর্ণিল জীবনধারা। অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলিত আহ্বান।

মনোমুগ্ধকর এই জায়গাটি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। পুরো এলাকাটিই যেন অবারিত সবুজের মহা সমারোহ। প্রতিদিন শত শত মানুষের সমাগম ঘটছে। শেরপুর শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার এবং শ্রীবরদী পৌর শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরের পাহাড়টি পরিণত হয়েছে বিনোদন স্পটে।

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে বাসে আসা যায় শেরপুর শহরে। এখান থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদীর কর্ণঝোরা বাজার। বাস, টেম্পুসহ যে কোনো যানবাহনে যাওয়া যায় রাজার পাহাড়ে। কম খরচে ,কম সময়ে এ গারো পাহাড় আপনাকে দেবে অনাবিল আনন্দ।

 টিলায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় মেঘালয় পাহাড় আর মেঘের মিতালী

নেত্রকোনার লেঙ্গুরা

ছোট্ট একটি গ্রাম লেঙ্গুরা। শান্ত সুনিবিড় জীবন-যাপন আর জলে জঙ্গলের সুনিবিড় পরশে বেড়ে ওঠা একটি জনপদ। পটে আঁকা লেঙ্গুরার বুক চিরে চলে গেছে চপলা সুন্দরীর মতো এক নদী গণেশ্বরী। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেংমাং পাহাড় থেকে বয়ে আসা এই নদীর বুকে চিকচিক করছে সিলিকা বালি। এই নদী ধরেই পাহাড় থেকে নেমে এসেছে ছোট্ট ঝরনা ধারা। এর একপাশে ভারত সীমান্ত ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশছোঁয়া সব পাহাড় আর অন্য পাশে ছোট বড় টিলা। সেগুলোতে আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জীবন-যাপন। বাংলাদেশের সীমানায় থাকা এই টিলাগুলোর রয়েছে বিভিন্ন নামও। মমিনের টিলা, চেয়ারম্যানের টিলা, গাজীর টিলা ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় টিলাটি হলো মমিনের টিলা। বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই টিলা। গারো, হাজং, হদি, কোচ প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে এখানে। 

টিলার চূড়ায় যাবার জন্য জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত পাকা সিঁড়িও রয়েছে। তবে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়রা বেছে নিতে পারেন গাছের লতাপাতা ধরে টিলার বুক চিরে উঠে যাওয়া পাথর মাটির পথটি! টিলার উপরে বিশ্রামের জন্য রয়েছে বেঞ্চ এবং ছাতা। এই টিলায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় মেঘালয় পাহাড় আর মেঘের মিতালী। অপরূপ এক দৃশ্য এটি। নিচে তাকালে দেখতে পাবেন চপলা সুন্দরী গণেশ্বরীর বিচিত্র রূপ সুধা।

আকর্ষণীয় স্থানটি নেত্রকোনা জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। বাসে বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে প্রথমে যেতে হবে কলমাকান্দা। সেখান থেকে আবার মোটরসাইকেল বা সিএনজি অটো রিকশাতে নাজিরপুর হয়ে সোজা লেঙ্গুরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে