ঈদের দিনের সুন্নতসমূহ

ঈদের দিনের সুন্নতসমূহ

সাদিকা আক্তার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৩ ২৪ মে ২০২০  

ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই সদকায়ে ফিতর আদায় করা সুন্নত।

ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই সদকায়ে ফিতর আদায় করা সুন্নত।

ঈদ শব্দটি শুনলে কেমন জানি আনন্দ আনন্দ ভাব হয়। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে শুভেচ্ছা বিনিময়, ঈদ মানে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা। ঈদ শব্দটির মাত্র দু’টি অর্থ হয়ে থাকে। একটির অর্থ হলো আনন্দ, অন্যটির অর্থ হলো যেটি বারবার ফিরে আসে।

ঈদ হচ্ছে এমন একটি আনন্দ উৎসব যা প্রতি বছর দু’বার ফিরে আসে। আমরা প্রায় এক মাস অর্থাৎ ২৯ বা ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করে থাকি। আর এই ঈদুল ফিতরের দিনে কিছু সুন্নত গুরুত্বসহকারে পালন করা আমাদের দায়িত্ব ৷ 

চলুন তবে জেনে নেয়া যাক ঈদের দিনের সুন্নতগুলো সম্পর্কে-

১. তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা।

২. মেসওয়াক করা।

৩.ঈদের দিন সকালে গোসল করা।

৪. সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করা।

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা।

৬. ফজরের নামাজের পর অতি শীঘ্রই ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া।

৭. ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খেজুর বা অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া।

৮. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই সদকায়ে ফিতর আদায় করে দেয়া।

৯. ঈদের নামাজ ময়দানে বা ঈদগাহে পড়া। কোনো অসুবিধা থাকলে ভিন্ন ব্যাপার। ওজর বা অসুবিধা বলতে বোঝায়- অনবরত বৃষ্টি থাকা, অসুস্থতার দরুন দূরের ময়দানে যেতে না পারা ইত্যাদিকে বুঝায়।

১০. ঈদগাহে এক পথে যাওয়া এবং অন্য পথে ফিরে আসা।

১১. ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া।

১২. ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবীর পাঠ করা।

الله أكبر ، الله أكبر ، لا إله إلا الله ، والله أكبر ، الله أكبر ، ولله الحمد 

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।
  
ঈদের নামাজ দুই রাকাত আর তা ওয়াজিব। এতে আজান ও ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব। ঈদের নামাজ ময়দানে পড়া উত্তম। তবে মক্কাবাসীর জন্য মসজিদে হারামে উত্তম। শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ জায়েজ আছে। (বুখারি: ১/১৩১; ফাতাওয়া শামি: ১/৫৫৫, ১/৫৫৭; আল মুহাজ্জাব: ১/৩৮৮)

সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা (অর্ধ হাত) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত বাকি থাকে। তবে ঈদুল ফিতরের নামাজ একটু দেরিতে পড়া সুন্নত, যেন নামাজের আগেই বেশি থেকে বেশি সদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যায়। (ফাতহুল কাদির: ২/৭৩, আল মুগনি: ২/১১৭)

মুখে উচ্চারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মনে মনে নির্দিষ্ট করতে হবে যে আমি এ ঈদের নামাজ কিবলামুখী হয়ে এই ইমাম সাহেবের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির ওয়াজিব। প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ও ছানার পর তিন তাকবির। দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে তিন তাকবির। এ তাকবিরগুলো বলার সময় ইমাম-মুক্তাদি সবাইকে হাত উঠাতে হবে। তৃতীয় তাকবির ছাড়া প্রতি তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে। কেউ যদি এ তাকবিরগুলো না পায়, তাহলে সে রুকুতে থাকা অবস্থায় আদায় করে নেবে। কারো পূর্ণ এক রাকাত ছুটে গেলে সে দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর তাকবিরগুলো আদায় করে নেবে। কেরাতের আগে আদায় করারও সুযোগ রয়েছে। নামাজ শেষে খুতবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত, তা শ্রবণ করা নামাজির জন্য ওয়াজিব। (ফাতাওয়া শামি: ১/৫৫৯, ৫৬০)

কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পরিশেষে যদি নামাজ ছুটেই যায় তাহলে এর কোনো কাজা নেই। তবে চার রাকাত এশরাকের নফল নামাজ আদায় করে নেবে এবং তাতে ঈদের নামাজের মতো অতিরিক্ত তাকবির বলবে না। (ফাতাওয়া শামি: ১/৫৬১)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে