ঈদের দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে এনে পুত্রবধূর চুল কেটে দিলেন শাশুড়ি

ঈদের দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে এনে পুত্রবধূর চুল কেটে দিলেন শাশুড়ি

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩২ ২৭ মে ২০২০   আপডেট: ২১:৩৪ ২৭ মে ২০২০

ভুক্তভোগী সানজিদা আক্তার

ভুক্তভোগী সানজিদা আক্তার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ঈদের দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে এনে বেধড়ক মারধর করে পুত্রবধূর চুল কেটে দিয়েছেন এক পাষণ্ড শাশুড়ি।

ঈদের দিন সন্ধ্যায় (সোমবার) উপজেলার রসুলপুর ইউপির গোপালনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার পুত্রবধূর নাম সানজিদা।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে দেবিদ্বার থানায় শাশুড়িসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূর স্বামী মো.নাজিম। 

অভিযুক্তরা হলো, গোপালনগর গ্রামের আ. রহিমের দুই ছেলে নাজমুল, হাসান, শাশুড়ি নাসিমা বেগম  ও নাজমুলের স্ত্রী ফারজানা বেগম। 
  
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের কারণে দুই বছর আগে পরিবারকে না জানিয়ে সানজিদাকে বিয়ে করেন নাজিম। পরিবারের লোকজন বিয়ে মেনে না নিয়ে স্ত্রী সানজিদাকে ডিভোর্স দিতে নাজিমকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জোর ও চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় নাজিম ও তার  স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে নাজিম স্ত্রীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়ায় আশ্রয় নেয়। এরইমধ্যে নাজিম-সানজিদার একটি ছেলে সন্তান হয়, যার বর্তমান বয়স আট মাস। 

ভুক্তভোগী সানজিদা আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার শাশুড়ি তার অন্য ছেলেদের সহযোগিতায় আমার স্বামী ও আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি, মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলো। ঈদের দিন তারা আমাদের দাওয়াত দেয়। আমরা মনে করেছি তারা সব ভুলে আমাদের মেনে নিয়েছেন।

আমরা দুপুরে তাদের বাড়ি গেলে সন্ধ্যায় পরিকল্পনা অনুযায়ী হঠাৎ আমাদের মারধর শুরু করে। আমার আট মাসের সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে স্বামীকে মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে পারিনি। নাজমুল ও হাসান তারা দুইজনে আমার স্বামীকে মারধর করে অন্যদিকে আমার জা আমাকে ধরলে আমার শাশুড়ি আমার চুলের মুটি ধরে চুল কেটে দেয়। আমরা চিৎকার করলেও আমাদেরকে উদ্ধার করতে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।    

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, ভুক্তভোগীর ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।  
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এআর