Alexa ঈদের ছুটিতে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ

ঈদের ছুটিতে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:২৭ ৬ আগস্ট ২০১৯  

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

এবারের ঈদে লম্বা ছুটি পাচ্ছে সবাই। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই দেখা যায়, ঈদের ছুটিতে অনেকেই দেশে-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যান। লম্বা ছুটি পেলে সে সুযোগকে অনেকেই কাজে লাগাতে চান আরো বেশি করে। যাদের এখনো উত্তরবঙ্গ ঘোরা হয়নি তারা ঈদের সময়টা কাজে লাগাতে পারেন। চলুন জেনে নিই কী আছে দেখার মতো-

চলন বিল

দেশের সবচেয়ে বড় বিল এটি। চলনবিলের মানুষও ঠিক বলতে পারবে না এটা কত বড়! তিন জেলার এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই বিলের অবস্থান। পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার এক বড় অংশ জুড়ে চলন বিল ছড়িয়ে আছে। এটার মধ্যেই রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট বিল। সেগুলো হলো- পিপরূল, পূর্ব মধ্যনগর, লারোর, ডাঙাপাড়া, তাজপুর, নিয়ালা, চলন, মাঝগাঁও, ব্রিয়াশো, চোনমোহন, শাতাইল, খরদহ, দারিকুশি, কাজীপাড়া,  গজনা, বড়বিল, সোনাপাতিলা, ঘুঘুদহ, কুরলিয়া, গুরকা, দিক্ষিবিল এবং চিরল।

চলন বিল দেখার পরে দেখে নিতে পারেন চলনবিল জাদুঘরটিও। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে এ জাদুঘর। স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এ সংগ্রশালা। চলনবিলে প্রাপ্ত নানান নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ।

পুঠিয়া

পুঠিয়া রাজবাড়ি

বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি অন্যতম। ১৮৯৫ সালে মহারানি হেমন্তকুমারী দেবী ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে আয়তাকার দ্বিতল রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন। যেখানে গেলে আপনি পেয়ে যাবেন ইতিহাসের ছোঁয়া। পুঠিয়া রাজবাড়ির চারদিক পরিখা দ্বারা পরিবেষ্টিত। বর্তমানে পরিখাগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত যথা- শিব সরোবর বা শিবসাগর, গোপালচৌকি, বেকিচৌকি, গোবিন্দ সরোবর ও মরাচৌকি। পুঠিয়া রাজবাড়ি ও তার আশেপাশে এখানকার জমিদারদের নির্মিত বেশ ক‘টি নয়নাভিরাম মন্দির এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শরীক বিভক্তির পর পাঁচ আনি ও চার আনি রাজপ্রাসাদ আলাদাভাবে নির্মিত হয়। এই দুটি প্রাসাদ ছাড়া অন্যান্য শরীকের ঘরবাড়ির কোনো চিহ্ন বর্তমানে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

শ্যামলী বাংলার রূপসী পদ্মা নদীর এক তীরে ছিল সাঁড়াঘাট, অপর পাড়ে ভেড়ামারা দামুকদিয়া রায়টা ঘাট। মাঝখানে প্রশস্ত পদ্মা তার ওপর দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। এই ব্রিজ পাবনা জেলার পাকশীর গোঁড়া থেকে শুরু হয়ে পদ্মার ওপর দিয়ে ওপাড়ে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারার মাথায় গিয়ে ঠেকেছে। বাংলার মার্জিত ইতিহাসে খ্যাত তথা উপমহাদেশের যোগাযোগের ইতিহাসে এক অপূর্ব সৃষ্টি। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের চেয়ে বিশ্বে দীর্ঘতম ব্রিজ অনেক রয়েছে। তারপরও এটি আজ পৃথিবীর বুকে বিখ্যাত। এরই দক্ষিণ পার্শ্বে লালন শাহ্ সেতু।

বারশিবালয়

বারশিবালয় হচ্ছে জয়পুরহাটের প্রধান আকর্ষণ। অনেকে জায়গাটিকে দ্বাদশ শিবমন্দিরও বলে থাকেন। জয়পুরহাট সদর থেকে তিন মাইল উত্তর পশ্চিমে ছোট যমুনার তীরে বেল-আমলা গ্রামে বারশিবালয় মন্দির অবিস্থত। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা নিভৃত স্থানে বারটি শিবমন্দির রয়েছে। মন্দিরগুলো কোনো যুগে এবং কার দ্বারা তৈরি তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। বারশিবালয় মন্দিরের পাশেই বয়ে গেছে নদী। মন্দিরের অভ্যন্তরে রয়েছে গণেশের চিত্র, নম শিবায়-শ্রী গণেশায় দেবায় নম। আরো আছে অন্যান্য দেব-দেবীর কাহিনী চিত্র, রামলক্ষণ-সীতা ও হনুমান একটি গো-মূর্তির মস্তক পূজায় সিঁদূরে রাঙানো।

কান্তজীর মন্দির

দিনাজপুর রাজবাড়ি ও কান্তজীর মন্দির

দিনাজপুর শহরের কাছেই এই রাজবাড়ির অবস্থান। ১৬০৮ হতে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত এটি ছিল বৃহৎ দিনাজপুর জেলার ঐশ্বর্যের প্রতীক। শুরুর দিকে রাজবাড়ীর অবয়ব এমন না থাকলেও ধীরে ধীরে রাজবাড়ি গড়ে ওঠে তিলোত্তমা হিসেবে। তবে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের পর হতে রাজবাড়ির জৌলুস কমতে থাকে। এটি বর্তমানে বিলুপ্ত জমিদারী কীর্তির ধ্বংসাবশেষ মাত্র। রাজ বংশের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের কিছু ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরে ও দিনাজপুর মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।

দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত কান্তজীর মন্দির। এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত। কারণ তিনতলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রত্ন ছিল। কান্তজীর মন্দির ১৮ শতকে নির্মিত একটি চমৎকার ধর্মীয় স্থাপনা। ওপরের দিকে তিন ধাপে উঠে গেছে মন্দিরটি। মন্দিরের চারদিকের সবগুলো খিলান দিয়েই ভেতরের দেবমূর্তি দেখা যায়। মন্দির প্রাঙ্গণ আয়তাকার হলেও, পাথরের ভিত্তির উপরে দাঁড়ানো ৫০ফুট উচ্চতার মন্দিরটি বর্গাকার। নিচতলার সব প্রবেশপথে বহু খাঁজযুক্ত খিলান রয়েছে। দুটো ইটের স্তম্ভ দিয়ে খিলানগুলো আলাদা করা হয়েছে, স্তম্ভ দুটো খুবই সুন্দর এবং সমৃদ্ধ অলংকরণযুক্ত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে

Best Electronics
Best Electronics