Alexa ই-সিগারেট: ভয়ঙ্কর ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম

ই-সিগারেট: ভয়ঙ্কর ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৪৬ ২৪ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৮:২৩ ২৪ জানুয়ারি ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে। প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতি হয়—এমন ভ্রান্ত ধারণা ও নিজেদের স্মার্ট হিসেবে উপস্থাপন করতে তরুণ প্রজন্ম এই ই-সিগারেটের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে বর্তমানে চলমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের (জনসংখ্যার বোনাস) এ সময়ে ৪৯ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টিটোবাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত যৌথ এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যাম কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, ভ্যাপিং ও ই-সিগারেটের ব্যবহার পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোতে বেশি হলেও বাংলাদেশ রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। দেশে ইমার্জিং টোবাকো পণ্যের ব্যবহার তরুণ ও যুব সমাজের মধ্যে বাড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক উদ্বেগজনক। রাস্তাঘাট, ক্যাম্পাস, তরুণদের আড্ডাস্থল, এমনকি বিভিন্ন মার্কেট ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে গড়ে ওঠা ভ্যাপিং ক্লাবে এসব পণ্যের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে চোখে পড়ছে।

বক্তারা বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে গড়ে উঠছে ভ্যাপিং ও ই-সিগারেটের অসংখ্য বিক্রয়কেন্দ্র। ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে ই-সিগারেট সামগ্রী নিয়ে আলোচনা, বিক্রি ও হাতবদল হচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মের ই-সিগারেটের ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বক্তরা আরো বলেন, সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশে মোট জনগোষ্ঠীর ৪৯ শতাংশই তরুণ, যাদের বয়স ২৪ বছর বা তার নিচে। এখন চলছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সময়। এটি চলবে ৩৫ থেকে ৪০ বছর। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকেই টার্গেট করেছে ই-সিগারেট পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। তাই শুরুর পর্যায়েই সরকার ইচ্ছা করলে এই মারাত্মক ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে।

এদিকে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশে (বিএটিসি) বাংলাদেশ সরকারের শেয়ার রয়েছে ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৮ সালে বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টক ডিভিডেন্ট ছাড়া নগদ ডিভিডেন্ট বাবদ সরকার পেয়েছে মাত্র ২৮ কোটি টাকা। অথচ পরিচালনা পর্ষদে মনোনীত বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক সুবিধা আদায় করছে কোম্পানিটি।

কর্মশালায় বলা হয়, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ জন ই-সিগারেট সেবন করে মারা গেছেন। দেশটির ৪৯ অঙ্গরাজ্যে এক হাজার তিনশ’রও বেশি মানুষ এর কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল (সিডিসি)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ