Alexa ইয়াতিমের প্রতি সদ্ব্যবহারকারীর পরিণতি (শেষ পর্ব)

ইয়াতিমের প্রতি সদ্ব্যবহারকারীর পরিণতি (শেষ পর্ব)

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:১৪ ২৩ মে ২০১৯   আপডেট: ১৩:১৭ ২৩ মে ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

অনাথ ইয়াতিম ও অসহায় বিধবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের মাহাত্ম্য সম্পর্কে একটি চমৎকার ঘটনা বর্ণিত আছে। 

একবার কোনো এক মুসলমান পরিবার হিজরত করে বলখ নগরে উপস্থিত হয়। প্রথমে তারা খুবই ধনী ছিলেন। হঠাৎ একদিন স্বামী মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী ও ইয়াতিম ছেলে-মেয়েরা অসহায় ও অভাব অটনের মধ্যে পড়েন। 

অসহায় বিধবা মহিলা নিজের দারিদ্র ঘুছানো ও শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশীদের কটু কথা এবং অবাঞ্ছিত ব্যবহার থেকে পরিত্রাণের আশায় প্রচন্ড শীত মাথায় করে ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত মসজিদে রেখে মহিলাটি আহারের খোঁজে বের হলেন। প্রথমে তিনি সেই শহরের মুসলমান মেয়রের কাছে গিয়ে আপন দুর্দশার কথা খুলে বলেন। 

আরো পড়ুন>>> ইয়াতিমের প্রতি সদ্ব্যবহারকারীর পরিণতি (পর্ব-১)

তিনি বললেন, ‘আমি একজন মুসলিম অসহায় বিধবা, আমার দু’জন ইয়াতিম অনাথ ছেলে-মেয়ে আছে, তাদেরকে আমি একটি পরিত্যক্ত মসজিদে রেখে এসেছি। তাদের জন্য আজকের রাতের মত জীবন রক্ষার উপযোগী আহার অন্বেষন করছি।’মেয়র বললেন ‘তার  আগে তুমি প্রমাণ কর যে, তুমি একজন মুসলিম মহিলা।’

মহিলা বললেন, আমি এক ভিনদেশিনী, অপরাচিতা, আমাকে চেনে এমন কেউ এখানে নেই। একথা শুনে মেয়র সেই মহিলাকে উপেক্ষা করলেন। তার কাছ থেকে বগ্ন হৃদয়ে বিদায় নিয়ে মহিলাটি সেই শহরের অগ্নিপূজক নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে  চলে গেলেন এবং নিজের ও ইয়াতিম ছেলে-মেয়ের অসহায় অবস্থার কথা খুলে বললেন। মেয়র সঙ্গে তার সাক্ষাতের ঘটনাও জানালেন । নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিজের বাড়ির এক মহিলার মাধ্যমে অসহায় মহিলা ও তার ছেলে-মেয়েদেরকে সহৃদয়তার সঙ্গে আপন গৃহে নিয়ে তৃপ্তি সহকারে ভালো ভালো খাদ্য খাওয়ালেন এবং উত্তম পোশাকের ব্যবস্থা করে সসম্মানে রাত যাপনের সুব্যবস্থা করালেন।

গভীর রাতে মুসলমান মেয়র স্বপ্নে দেখলেন, কিয়ামত হয়ে গেছে এবং সবুজ যমরদ পাথরে তৈরী , লুলু ও ইয়াকুত পাথর খচিত দেয়াল ও মণিমানিক্য শোভিত গম্বুজ বিশিষ্ট এক প্রাসাদের সামনে , নেতৃত্বের পতাকা হাতে রাসূল (সা.) দাঁড়িয়ে আছেন। মেয়র আরজ করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ প্রাসাদটি কার জন্য? তিনি বললেন, আল্লাহর তাওহীদে বিশ্বাসী এক মুসলমান নেতার। সে বলল, আমিও তো আল্লাহর তাওহীদে বিশ্বাসী একজন মুসলমান নেতা। তিনি বললেন, তুমি যে আল্লাহর একত্বাবাদে বিশ্বাসী সত্যিকারের একজন মুসলমান, আগে তার প্রমাণ পেশ কর। এ কথা শুনে মেয়র কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল। রাসূল (সা.) আবার বললেন, জনৈক মহিলা যখন নিজেকে অসহায় মুসলমান পরিচয় দিয়ে তোমার কাছে সাহায্য চেয়েছিল, তুমি তখন তাকে মুসলিম হওয়ার পরিচয় দিতে বলেছিলে, তেমনি এখন তোমাকেও প্রমাণ পেশ করতে হবে, তুমি একজন মুসলিম নেতা।

মেয়রের ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং চিন্তিত ও অস্থির হয়ে পড়েন। অতঃপর লোক লাগিয়ে শহরের সর্বত্র উক্ত মহিলার সন্ধান করতে লাগলেন । অবশেষে খোঁজ পেলেন, মহিলা অগ্নিপূজক নিরাপত্তা কর্মকর্তার গৃহে আছে। মেয়র সেখানে উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বরলেন, ‘যে মুসলিম মহিলা তার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তোমার আশ্রয়ে আছে, তাকে আমার কাছে হস্তান্তর কর। 

অগ্নিপূজক বলল, আমি তাকে আশ্রয় দিয়ে অনেক বরকত ও অশেষ কল্যান লাভ করেছি। কাজেই তাকে আমার আশ্রয় থেকে বিদায় করতে পারব না  মেয়র বললেন, আমি তোমায় এক হাজার দিনার দিব, বিনিময়ে তুমি তাদেরকে আমার নিকট সোপর্দ কর। সে বলল, না, তা হয় না। মেয়র বরলেন, অবশ্যই তাদেরকে ফেরত দিতে হবে। অগ্নিপূজক বলল, তুমি যা লাভের প্রত্যাশী, আমি তা পাওয়ার বেশি হকদার। স্বপ্নে তুমি যে প্রাসাদ দেখেছ তা আমার জন্যই তৈরী করা হয়েছে। তুমি আমার ওপর ইসলামের দাবী প্রয়োগ করছ? আল্লাহর শপথ!  রাতে আমি উক্ত মুসলিম মহিলার নিকট সপরিবারে ইসলাম কবুল করছি।

এ জন্য বোখারী, মুসলমি ও ইবনে মাজায় হজরত আবু হোরায়রা (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এর যথার্থ সত্যায়ন স্বরুপ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অসহায় বিধবা ও মিসকিনদের কল্যানে যে লোক সচেষ্ট থাকে, সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য।’ বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (সা.) একথাও বলেছেন, সে সেই লোকের সমতুল্য, যে জীবনভর সারারাত ধরে নামাজ পড়ে  এবং যে কখনো রোজা ভঙ্গ করে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics