Alexa ইসলাম সম্পর্কে জেনে আনন্দে আত্মহারা: নওমুসলিম ইমরান

ইসলাম সম্পর্কে জেনে আনন্দে আত্মহারা: নওমুসলিম ইমরান

নুসরাত জাহান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আহমদ আওয়াহ: আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।

মুহাম্মদ ইমরান: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।

আহমদ আওয়াহ: আপনি ভালো আছেন? আজ কোত্থেকে এসেছেন? 

মুহাম্মদ ইমরান: আলহামদুলিল্লাহ! দয়ালু আল্লাহর অনুগ্রহে খুব ভালো আছি। এখন নেজামুদ্দীন থেকে আসলাম। আমি মূলত চিল্লায় গিয়েছিলাম। চিল্লা থেকে ফিরেছি গতকাল। ফোন করে জানতে পারলাম হজরত দিল্লি আছেন। মনে মনে ভাবলাম, বেশ তো, এ যেন লটারি পেয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার। হজরতের সঙ্গে কিছু পরামর্শ ছিল। তাই ছুটে এসেছি। 

আহমদ আওয়াহ: আব্বুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে? কথাবার্তা শেষ হয়েছে না আরো বাকি আছে?

মুহাম্মদ ইমরান: আলহামদুলিল্লাহ! একেবারে স্বস্তির সঙ্গে কথা হয়েছে। হজরত আমাকে তার সঙ্গে করে হরিয়ানা নিয়ে গিয়েছিলেন। গাড়িতে দীর্ঘ সময় নিরিবিলি কথাবার্তা বলেছি। যেসব কথা বলবো বলে ভাবিনি সেগুলোও ধীরে ধীরে মনে পড়েছে এবং বলেছি।

আহমদ আওয়াহ: হ্যাঁ। আব্বুর সঙ্গে নিরিবিলি সাক্ষাৎ ও কথা বলার এটাই সবচেয়ে সহজ পন্থা। সত্যি কথা কী আমরা পরিবারের লোকেরাও আব্বুর সঙ্গে নিরিবিলি কথা বলার সুযোগ পাই না। গাড়িতে যখন দিল্লি থেকে ফুলাত যাই অথবা ফুলাত থেকে দিল্লি আসি তখনি কেবল স্বস্তির সঙ্গে আলোচনা করতে পারি। আচ্ছা এবার বলুন আপনার চিল্লা কোথায় কাটল? আপনার সঙ্গে যারা ছিলেন তারা কোথাকার মানুষ?

মুহাম্মদ ইমরান: আমাদের চিল্লা কেটেছে ভূপালে। জামাতের সকল সঙ্গী মূলত এক অঞ্চলের ছিলেন না, বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গীদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল জামাতটি। আমির সাহেব ছিলেন আজমগড়ের মানুষ। শিবলি কলেজের প্রফেসর। অত্যন্ত মায়াবি স্বভাবের মানুষ। এই চল্লিশ দিনে আলহামদুলিল্লাহ! আমার অনেক উপকার হয়েছে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। জামাতের ক’জন সঙ্গী ছিলেন অত্যন্ত গরম স্বভাবের। কথায় কথায় একেবারে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠতেন। তাদের মধ্যে দুজনকে তো আগ্নেয়গিরি বলা যায়। কিন্তু কী বলবো। আমির সাহেব সত্যি এক অবাককরা মানুষ। যেমন সাহসী তেমন ধৈর্যশীল। তার কলজেটা যেন এক মহা সমুদ্র। 

আহমদ আওয়াহ: খুবই চমৎকার কথা বলেছেন। মনে হয় আপনার আমির সাহেব একজন দক্ষ দগ্ধ আমির। আচ্ছা, ইসলাম কবুল করার কথা কি প্রকাশ করেছেন?

মুহাম্মদ ইমরান: একেবারেই খোলামেলা সকলকে বলিনি। আমার স্ত্রী ও সন্তানরা জানে। গাজিয়াবাদে আমার সঙ্গে আমার যে ছোটো ভাই বসবাস করে সেও জানে। আলহামদুলিল্লাহ! আমার স্ত্রী সন্তানরা এরই মধ্যে কালেমা পড়েছে। আমার ভাইটিও ঈমানের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। জামাতে যাবার পর হজরতের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। হজরত আমাকে জোড় দিয়ে বলেছেন আপনি এখন আল্লাহর রাস্তায় আছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়ম মেনে চিল্লা শেষ করবেন। আমিরকে পরিপূর্ণরূপে মেনে চলবেন। আমিরের মতের বাইরে কোথাও পা ফেলবেন না। এরচেয়েও বড় কথা আল্লাহর পথে বের হওয়ার পর যখন কেউ দোয়া করে তার দোয়া দ্রুত কবুল হয়। পরিবারের লোকদের হোদায়েতের জন্য খুব দোয়া করবেন। তাদের ইসলাম গ্রহণের ফয়সালা মহান আল্লাহর হেড অফিস থেকে মঞ্জুর করিয়ে নিবেন। আলহামদুলিল্লাহ! উভয় বিষয়ের প্রতি আমি যথাসাধ্য সচেষ্ট ছিলাম। আজ যখন আমির সাহেবের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছেন। বলেছেন দেখো ইমরান! এটা আমার ত্রিশতম চিল্লা। জীবনে আমার সঙ্গে অনেক মানুষ চিল্লা দিয়েছে। কিন্তু আমিরের অনুগত তোমার মতো এমন কোনো সঙ্গী আমি কখনো দেখিনি। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো যখনই সুযোগ পেয়েছি আমি আমার পরিবারের হেদায়েতের জন্য এতোটাই কান্নাকাটি করেছি আমার কাছে বারবার মনে হয়েছে কেউ যেন আমাকে বলছে তোমার পরিবারের হেদায়েত আল্লাহ তায়ালা মঞ্জুর করে নিয়েছেন। 

এক রাতের ঘটনা। আমি ঘুম থেকে জেগেছি সবার পরে। ঘুম থেকে উঠে মাত্র দু’রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তে পেরেছি। সেদিন আমি মনে খুব ব্যাথা পেয়েছিলাম। আমার বারবার কান্না আসছিল। মনে হচ্ছিল আল্লাহ আমার প্রতি অসন্তুষ্ট। পরের রাতে ভয়ে বারবার ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল। অবশেষে রাত দুটোয় ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদ পড়ি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করি। দোয়া করতে করতে এক সময় আমার কাছে মনে হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা আমার দোয়া অবশ্য কবুল করেছেন। পরের দিনের কথা। একটি প্রয়োজনীয় কাজে গাজিয়াবাদে ফোন করেছি। আমার ছোটো ভাই ফোন ধরে বললো, আপনি এই দীর্ঘ সময়ের জন্য কোথায় গিয়েছেন? আমি বললাম, ইসলাম শেখার জন্যে ভূপালে জামাতে এসেছি। চল্লিশ দিন পর ফিরব। ছোটো ভাই বললো, ভাইয়া আপনি কী একা একাই স্বর্গে যাবেন। এখানে তো আপনি আমাকে মাতা-পিতার সঙ্গেও থাকতে দেননি। গাজিয়াবাদে নিজের সঙ্গে রেখেছেন। অথচ জামাতে চলে গেছেন একা। আমাকে নিয়ে যাননি কেন? আমি বললাম হ্যাঁ আমি তো জামাতে চলে এসেছি। ফিরে এসে তোমাকে পাঠাবো।

আহমদ আওয়াহ: আপনার সঙ্গে যে ছোটো ভাই থাকেন তার কথা বলছেন না অন্য কোনো ভাই?

মুহাম্মদ ইমরান: হ্যাঁ হ্যাঁ। আমার ওই ছোটো ভাই এর কথাই বলছি। ওই আমার একমাত্র ছোটো ভাই।

আহমদ আওয়াহ: তিনি কি কালেমা পড়েছেন?

মুহাম্মদ ইমরান: না পড়েননি। তবে আমার আশা, আল্লাহ তায়ালা তার ঈমান ও হোদায়েতের ফয়সালা করে দিয়েছেন ইনশাআল্লাহ! আজ ফিরে গিয়ে তাকে কালেমা পড়াব।
 
আহমদ আওয়াহ: মাশাআল্লাহ! এটাই তো প্রকৃত দোয়া। অন্তরে এমন বিশ্বাসই থাকতে হবে। আমি আমার আল্লাহর কাছে চাইব। আল্লাহ আমাকে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা সত্যি আপনাকে দোয়ার প্রকৃত নূর নসিব করেছেন। 

মুহাম্মদ ইমরান: জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা আমার প্রতি অনেক অনুগ্রহ করেছেন। 

আহমদ আওয়াহ: আচ্ছা আপনার পারিবারিক পরিচয় কিন্তু জানা হয়নি। একটু বলবেন কী?

মুহাম্মদ ইমরান: আমি বুলন্দ শহর জেলার একটি গ্রামের মানুষ। বংশগতভাবে হিন্দু রাজপুত খান্দানের ছেলে। আমার পিতাজি গ্রামের একজন পুরনো গৃহস্থ। বেশ শিক্ষিত। ১৯৬০ সালে বিএ পাস করেছেন। যৌবন কাল থেকেই রাজনীতির নেশা আছে। ভিপিসিং এর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। জনতা পার্টি থেকে একবার এম এল এ নির্বাচনও করেছেন। মাত্র দুই হাজার ভোটে হেরেছেন। 

আমার হেদায়েতের গল্প বলি। আমি দু’মাস সময়ে এক একটি শব্দ করে ইংরেজি এবং হিন্দি তরজমাসহ পুরো কোরআন শরিফ পড়েছি। মানুষের মুখে শুনতাম কোরআন মাজিদ সন্ত্রাসবাদের গ্রন্থ। কিন্তু আমি সেখানে সন্ত্রাসবাদের কোনো কথাই খুঁজে পেলাম না। যখন পড়া শেষ হলো তখন লক্ষ করলাম কোরআন মাজিদের ওপর একটি স্টিকার লাগানো আছে। ওই স্টিকারে একটি ফোন নম্বর দেয়া আছে। ওখানে এও লেখা আছে, ইসলাম বিষয়ে যে কোনো বিষয় জানতে হলে এ নম্বরে যোগাযোগ করুন। আমি ফোন করলাম। আমার ফোন ধরলেন একজন মাওলানা সাহেব। তারসঙ্গে কথা হলো। আমি বললাম মিরাঠ সিটি পাবলিকেশন্স থেকে একটি কোরআন কিনেছি। দীর্ঘ দুইমাস সময়ে শব্দ শব্দ করে পড়েছি। কিন্তু সেখানে হিন্দুদেরকে হত্যা করতে হবে কিংবা সন্ত্রাসবাদের কোনো কথা আমি খুঁজে পেলাম না। তিনি বললেন, আপনার কী কখনো মিরাঠ আসা হয়? আমি বললাম মিরাঠে আমার অনেক ক্লাইন্ড আছে। তিনি বললেন, আপনি যখন মিরাঠ আসবেন তখন আমাদের এখানে বেড়াতে আসবেন। সাক্ষাতে কথা হবে। তখন আমি আপনাকে ধরে দেখিয়ে দেব কোরআন মাজিদের কোথায় কোথায় সন্ত্রাসবাদের কথা আছে। পরের দিন মিরাঠে আমার একটি অফিসিয়াল কাজ ছিল। আমি অফিসের কাজ শেষ করে বিকেল তিনটায় ওই মাওলানা সাহেবের সঙ্গে গিয়ে দেখা করি। তিনি আমাকে বেশ ভালো রকমের নাস্তা করালেন। তারপর প্রথমেই প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা কোরআন মাজিদের লেখক কে আপনার জানা আছে কি? আমি বললাম না তো। আমি তো মনে করেছি এটা নিশ্চয় কোনো মানুষের রচনা হবে। কোরআন মাজিদে আমি বারবার পড়েছি একমাত্র আমিই তোমাদের মালিক ও প্রভু। মাওলানা সাহেব বললেন, হজরত মুহাম্মাদ (সা.) সাহেব মূলত ছিলেন একজন নিরক্ষর মানুষ। তিনি কোনো লেখাপড়া জানা মানুষ ছিলেন না। উপরওয়ালা মালিক তাকে এই জন্যে লেখাপড়া করাননি তিনি ভবিষ্যতে হবেন জগত সংসারের গুরু। সুতরাং তাঁকে যদি কেউ পড়াতেন তাহলে সে হত তাঁর গুরু। আর গুরু সবসময় শিষ্যের চাইতে মর্যাদাবান হয়। দ্বিতীয়ত তিনি যদি লেখাপড়া করা মানুষ হতেন তাহলে শত্রুদের এ কথা বলবার সুযোগ হত কোরআন মাজিদ মুহাম্মাদ (সা.) সাহেবের লেখা বই। মূলত কোরআন মাজিদ এমন একজন মালিকের কালাম এবং এমন একজন প্রভুর বাণী চিরন্তনী যিনি পুরো জগত সংসারের প্রতিপালক। জগতের সকল জননীদের মমতা যার দান। সুতরাং এমন মহান দয়ালু ও কৃপাময় মালিক কী করে কাউকে মানুষ হত্যার শিক্ষা দিতে পারেন? এমন দয়ালু সৃষ্টিকর্তা কী করে জুলুম ও অত্যাচারের শিক্ষা দিতে পারেন? মানুষের আসল শত্রু হলো শয়তান। তার কাজ হলো মানুষকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করা। শয়তানই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে কোরআন একটি সন্ত্রাসবাদের বই।
 
আমি তাকে বললাম আমাকে পঁচিশ পিস কোরআন শরিফ দিন। আমি আমার কাছের বন্ধুদেরকে কোরআন মাজিদ পড়াব। তাদের সঙ্গে বরাবর এ বিষয়ে কথা হয় কোরআন মাজিদ একটি সন্ত্রাসবাদের ধর্ম। কোরআন মাজিদে হিন্দুদেরকে হত্যা করার আদশে আছে। মাওলানা সাহেব একটি কার্টুনে পঁচিশ পিস কোরআন মাজিদ বেঁধে দিলেন। তারপর তার সঙ্গীকে দিয়ে সেগুলো আমার গাড়িতে তুলে দিলেন। আমি তাকে পয়সা দিতে চাইলাম। তিনি বললেন এগুলো ফ্রি বিতরণের জন্যে। আমি বললাম ঠিক আছে। পরে তো আবার ছাপাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বাধা দিলেন। তারপরও আমি জবরদস্তি করে তার পকেটে পাঁচ হাজার রুপি রেখে দিলাম। 

আহমদ আওয়াহ: তারপর আপনার বন্ধুদেরকে কোরআন মাজিদ পড়তে দিয়েছেন?

মুহাম্মদ ইমরান: হ্যাঁ। অবশ্যই তাদেরকে কোরআন মাজিদ দিয়েছি। জোর দিয়ে পড়িয়েছি। এবং আমিও আরেকবার পড়েছি। কোরআন মাজিদ আমার চোখ খুলে দিয়েছে। তারপর আমি নেটে ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। আমি যতই ইসলাম সম্পর্কে পড়ছিলাম এবং হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সম্পর্কে অবগত হচ্ছিলম ততই আমি আনন্দে আত্মহারা হচ্ছিলাম। ওই সময়টার প্রতিটি দিনই ছিল আমার নতুন অনুসন্ধান ও নতুন প্রাপ্তির দিন। পরে আমি ইউটিউবে হজরতের আলোচনা শুনেছি। মাওলানা তারিক জামিলকেও অনেক শুনেছি। গাজিয়াবাদের একজন মাওলানা সাহেবের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আমাকে হজরতের ফোন নম্বর দেন। একদিন হজরতকে ফোন করি। তিনি তখন মুম্বাই ছিলেন। তিনি ফোনেই আমাকে কালেমা পড়ান।                                  

সম্ভবত বিজয়নগরের একজন মাওলানা সাহেবের সঙ্গে দিল্লির সাহিনবাগে হজরতের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। হজরত পরিবারের লোকদেরকে দাওয়াত দেয়ার প্রতি খুব উৎসাহিত করেছেন। যে একিন  ও বিশ্বাসের সঙ্গে আপনি কালেমা পড়েছেন তাতে আপনাকে আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই ঈমান ছাড়া মুক্তির কোনো পথ নেই। এই কালেমা ছাড়া যে ব্যক্তি পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে তার একমাত্র ঠিকানা নরক। আর আপনার তো মোটেও জানা নেই, হায়াত আর কতদিন বাকি আছে। প্রতিটি শ্বাসই হতে পারে জীবনের সর্বশেষ শ্বাস। তাহলে একবার ভেবে দেখুন, যে মা আপনাকে গর্ভে ধারণ করেছেন, দুধ পান করিয়েছেন, জীবনের বাঁকে বাঁকে অন্তহীন কষ্ট সহ্য করেছেন ঈমানের অভাবে সেই মা যাবেন নরকে আর আমি যাবো স্বর্গে এটা কি কোনো মুসলমান ভাবতে পারে? মুসলমান কেন এমন ব্যক্তিকে তো মানুষও বলা যায় না। যে বাবা জীবনের সকল শক্তি ও আনন্দ বিসর্জন দিয়ে লালন-পালন করেছেন, নিখাঁদ ভালোবাসায় জড়ানো আপন ভাই-বোন স্ত্রী সন্তান তাদেরকে ছেড়ে বেহেশতে যাব, আর তারা নরকে জ্বলবে এটা কী করে হতে পারে। সুতরাং প্রাণ খুলে আল্লাহ তায়ালার কাছে পরিবারের লোকদের জন্য হেদায়েতের দোয়া করুন। আন্তরিক ভালোবাস নিয়ে তাদের সেবা করুন। তাদেরকে দাওয়াত দিন। 

আহমদ আওয়াহ: আপনি কী পরিবারের সকলকে দাওয়াত দিয়েছেন?

মুহাম্মদ ইমরান: জ্বী। মালিকের শোকর। পুরো চেষ্টা করেছি। একমাসের মধ্যেই আমার স্ত্রী সন্তানরা আামার সঙ্গে ইসলাম কবুল করেছেন। আমার ছোটো ভাই ইসলামকে বুঝার চেষ্টা করছে। বলেছে আমি আরেকটু বুঝে নিই। আমার ধারণা ইনশাআল্লাহ আজ অবশ্যই সে কালেমা পড়বে। 

আহমদ আওয়াহ: আব্বু বলছিলেন আপনার আরো দু’জন সঙ্গী এর মধ্যে ইসলাম কবুল করেছেন। 

মুহাম্মদ ইমরান: আলহামদুলিল্লাহ! আমার দু’জন বন্ধু ইসলাম কবুল করেছেন। একজন নভেডায়। আরেকজন দিল্লিতে। তাছাড়া আমার অফিসের তিনজন ছেলেও ইসলাম কবুল করেছে। আরো কয়েকজন ইসলাম সম্পর্কে পড়ালেখা করছে। 

আহমদ আওয়াহ: আপনার মাতা-পিতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে?

মুহাম্মদ ইমরান: আসলে তাদের সঙ্গে এখনো এ বিষয়ে  কথা হয়নি। বলিনি আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমার ছোটো ভাই মুসলমান হয়ে গেলে কথা বলতে সুবিধা হবে। আগামী মাসে আমার মা একমাসের জন্যে আমাদের কাছে আসছেন। আমার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। ওই উপলক্ষেই তার আসা। আশা করি ইনশাআল্লাহ! তিনিও ঈমান গ্রহণ করবেন। আমার বিশ্বাস আল্লাহ তায়ালা আমার দোয়া কবুল করেছেন। এরই মধ্যে আমি এক হাজার হিন্দি অনুবাদ এবং এক হাজার ইংরেজি অনুবাদ কোরআন মাজিদ ছাপিয়েছি। ইনশাআল্লাহ! আমি চাই ব্যাপকভাবে মানুষের মাঝে কোরআন মাজিদ প্রচার করব। আশা করি আমার মতো যারা কোরআন মাজিদকে সন্ত্রাসবাদের গ্রন্থ মনে করত এ গ্রন্থ পড়ার পর তাদেরও চোখ খুলে যাবে। 

আহমদ আওয়াহ: মাশাআল্লাহ! খুব ভালো কথা। আপনার হয়তো জানা আছে আমাদের এখান থেকে আরমোগান নামে একটি মাসিক পত্রিকা বের হয়। আমি ওই পত্রিকার জন্যে আপনার সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। আপনি আমাদের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি?

মুহাম্মদ ইমরান: আমি দু’দিনের মুসলমান। মুসলমানদের উদ্দেশ্যে আমি কী বলব? শুধু হাত জোর করে এইটুকু বলব আমি একবার হজরতের মুখে সেন্টারের পাশ্ববর্তী মসজিদে একটি কথা শুনেছিলাম। ওই কথাটিই বলব। মূলত ওটা আমারই মনের কথা। আমাদের বর্তমান কালটা হলো জ্ঞান ও যুক্তির কাল। মানুষের স্বভাব প্রতিটি কথাকে তারা জ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে বাজিয়ে দেখে। আর যারা জ্ঞানী এবং যুক্তিবাদী তাদের ইসলাম ছাড়া আর কোনো কিছুই তৃপ্ত করতে পারে না। পুরো পৃথিবী এখন শান্তি ও স্বস্তির অন্বেষায় আকুল। আত্মার শান্তি আছে কেবল ইসলামে। অনেক সময় আমাদের কাছে মনে হয় আমাদের চারপাশটা ইসলামের প্রতিকূল। এটা মূলত সত্যের অভাবে। কোনো কিছুর অভাবকে ঠিক প্রতিকূল ভাবা উচিত নয়। আসলে পরিস্থিতিটা ঠিক এমন ধরুন কেউ বলছে প্রচণ্ড গরম পড়েছে। চারদিকে লু হাওয়া বইছে। মানুষ পিপাসার্ত। তৃষ্ণায় মানুষ জীব নাড়াতে পারছে না। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। এ অবস্থাতে কেউ যদি তাদের সামনে বসে বসে শীতল পানি এবং শরবতের আলোচনা করে তাহলে কী সেটা একান্ত বৈরী কথাই হবে না? যদি সম্ভব হয় এই পরিস্থিতিতে আপনি এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির ঠোঁটের সঙ্গে লাগিয়ে তারপর যদি আপনি তাকে পান করাতে নাও চান সে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে পান করবে। আসলে ইসলাম এবং সত্যের অভাবে তৃষ্ণার্ত মানবতা মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার কারণে ইসলামের শত্রু হয়ে উঠেছে। কেউ যখন ইসলামকে যথাযথ পড়বার সুযোগ পায় তখন ওই তৃষ্ণার্ত মুখেই সে ইসলামকে টেনে নিয়ে পান করে। আমি এবং আমার দুই বন্ধু ছিলাম ইসলামের ঠিক এমনই তৃষ্ণার্ত। যখনই ইসলামের হৃদয় ‘শীতল’ করা পানি আমাদের ঠোঁট স্পর্শ করল তখন আমরা জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে পান করে ফেলেছি। আমি বিশ্বাস করি আজ আমরা যদি আমাদের দাওয়াতি দায়িত্ব পালন না করি তাহলে সেটা হবে মানবতার প্রতি চরম অবিচার। তাই পরিবেশকে প্রতিকূল না বলে মানুষের সামনে সত্যিকার ইসলাম তুলে ধরব। এটাই সকলের কাছে আমার মিনতি।   

আহমদ আওয়াহ:  কোনো সন্দেহ নেই। আপনি সত্য কথা বলেছেন। আপনাকে অনেক শুকরিয়া। আসসালামু আলাইকুম।

মুহাম্মদ ইমরান: আপনাকেও অনেক শুকরিয়া। আপনি আমাকে এই মুবারক কাজে শরিক হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

সূত্র: মাসিক আরমোগান, আগস্ট ২০১৯
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: আহমদ আওয়াহ
ভাষান্তর: মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
সংকলন: নুসরাত জাহান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে