ইসলামপুরে বন্যা দুর্গত এলাকায় চরম ভোগান্তি

ইসলামপুরে বন্যা দুর্গত এলাকায় চরম ভোগান্তি

আ. সামাদ, ইসলামপুর (জামালপুর)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৯ ৮ আগস্ট ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বন্যার পানির স্রোতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেশিরভাগ রাস্তাঘাট।

ফলে ইসলামপুর সদরসহ ১২টি ইউপি এবং একটি পৌরসভার বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয়ভাবে তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলছে যাতায়াত। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামপুরে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে বিধ্বস্ত বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের ধ্বংসাবশেষ। 

উপজেলার বেশির ভাগ সড়ক ভেঙে বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। টানা দেড় মাস বন্যায় পানির তোড়ে সড়ক লন্ডভন্ড হওয়ায় ইসলামপুর সদরের সঙ্গে বেশিরভাগ ইউপির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যানবাহন চলাচল অচল হয়ে পড়েছে। 

পার্থশী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল, বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, চিনাডুলি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান, এবারের বন্যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

গাইবান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনসারী জানান, ইসলামপুর-ঝগড়ারচর পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটি সচল রাখতে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে ইট-পাথর ফেলে মাটি ভরাট করে দিয়েছেন। টুংরাপাড়া ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। 

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব রাস্তাঘাট মেরামত করে দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সরকারের প্রতি তিনি দাবি জানান। 

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আলামিন, আইমনা ও শহিদুল জানান, এবারের বন্যায় অসংখ্য মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাদের কোনো কাজ কর্ম নেই। অর্থও নেই। তাই তারা কিভাবে বাড়িঘর মেরামত করবেন, কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন তারা জানেন না। 

দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘরবাড়ি মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করে বানভাসিদের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তারা। 

রিকশাচালক আব্দুর রহিম, আলী আজগর, সাইফুল ইসলাম, ছাবেদ আলী জানান, বন্যার পানির তোড়ে অনেক সড়ক লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। রিকশা চালাতে পারছেন না। পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে তাদের। 

রাস্তাঘাট দ্রুত সময়ে মেরামত করে দেয়া হলে কোনোমতো আয়-রোজগার করে বেঁচে থাকতে পারতেন তারা। 

উলিয়া বাজারের সোলাইমান বলেন, উলিয়া থেকে ইসলামপুর উপজেলা সদরে যাতায়াত করা খুবই কঠিন। কখনো নৌকা, কখনো পায়ে হেঁটে আবার কখনো রিকশায় করে আসতে হয়। ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। 

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক বলেন, বন্যার তীব্র স্রোতে উপজেলার বিভিন্ন পাকা সড়কের প্রায় ৯০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে সড়কগুলো মেরামত করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে