ইমেইল যেভাবে এলো, স্বীকৃতি কে পেল?

ইমেইল যেভাবে এলো, স্বীকৃতি কে পেল?

অনন্যা চৈ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৯ ১৫ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৭:৪৯ ১৫ এপ্রিল ২০১৯

ইমেইল খুব ছোট একটি শব্দ। এর পূর্ণ রূপ হল ইলেকট্রিক মেইল। মূলত বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে এই মেইল আদান প্রদান করা হয় বলে তাকে ইলেকট্রিক মেইল নাম দেয়া হয়েছে। আগে এক সময় যখন কম্পিউটার ও স্মার্ট ফোনের আবিষ্কার হয়নি তখন ইমেইল শব্দটির কথা কেউ শুনেনি। তবে এই যুগে এসে, ইমেইল শব্দ শোনা তো দূরে থাক, ইমেইলে কারো আইডি নেই এমন লোক পাওয়া বড়ই মুশকিল।

চলতি পৃথিবীতে ইমেইল থাকা ও এর ব্যবহার জানা অনেকটাই বাধ্যতামূলক। কারণ আগেকার দিনের মতো এখন চিঠির কোনো প্রথা নেই। নেই পাঠানোর প্রভাবও। ইন্টারনেটের এই যুগে মানুষ এখন যোগাযোগ করে ইমেইলের সাহায্যে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কারো কাছে কোন ম্যাসেজ পাঠাতে চাইলে একটি ক্লিকই যথেষ্ট। অনায়াসে সে বার্তা তার কাছে পাঠানো সম্ভব, যদি থাকে একটি ইমেইল আইডি।

তবে যে জিনিসটা আমরা এত সহজে করছি, সেটি কার বদৌলতে? জানেন কী কেউ? অর্থাৎ আজ আমরা সবাই ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ সম্পন্ন করছি, কিন্তু এই ইমেইলটি কে বানিয়েছে, তা খবর নিশ্চয় আমাদের জানা উচিত। হুম, আজ পাঠকদের এটাই জানাবো যে, ইমেইল কে বানিয়েছে?  

ইমেইলের জনক হলেন ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করা শিবা আইয়াদুরাই। ১৯৭৯ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ‘ই-মেইল’ আবিষ্কার করেন তিনি। তার জন্ম ১৯৬৩ সালে, ভারতের মুম্বাইয়ে। এরপর মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে চলে যান আমেরিকায়। সেখানে গিয়ে ইন্টারনেটে যথেষ্ট সময় ব্যয় করতেন এই বিজ্ঞানী। 

এরপর আমেরিকার গিয়ে শিবা নিউ জার্সিতে একটি হাইস্কুলে ভর্তি হন। সেই সময় তার সারাটা দিন কাটত ইন্টারনেটে। সেই সময়েই তিনি ইন্টার-অফিস মেইল সিস্টেমের একটি ইলেকট্রনিক ভার্সন তৈরি করেন। তার নাম তিনি দেন ‘ই-মেইল’। এরপর ১৯৮২ সালে এই আবিষ্কারের কপিরাইট পান। ভারতীয় হলেও বর্তমানে তিনি একজন আমেরিকার নাগরিক। অর্থাৎ সে দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন এই বিজ্ঞানী।

ছোট বেলা থেকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী আইয়াদুরাই শিবা নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোউরেন্ট ইন্সটিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সাইন্স-এর সামার প্রোগ্রামে ভর্তি হন। এরপর নিউ জার্সির লিভিংস্টান হাই স্কুলের স্কলার ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রির হয়ে ইমেইল সিস্টেম নির্মাণের কাজ করেন তিনি। আর এই কাজের জন্য আইয়াদুরাই ১৯৮১ সালে ওয়েস্টিংহাউ সাইন্স ট্যালেন্ট সার্চ অ্যাওয়ার্ড (হাই স্কুল সিনিয়র) পান। পরে তিনি বিশ্বখ্যাত মাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। 

এরপর বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হন এই বিজ্ঞানী। ২০১৮ সালে মাসাচুসেটসে তিনি সিনেট নির্বাচনও করেন। যদিও আইয়াদুরাইয়ের এই আবিষ্কার সমালোচনাকে উপেক্ষা করতে পারেনি। কম্পিউটার প্রযুক্তির ইতিহাসে আরো অনেকেই আছেন, যারা নিজেদের ইমেইলের আবিষ্কারক বলে দাবি করেন। তাদের দাবি ৬০-এর দশক থেকেই ইলেকট্রনিক কায়দায় ডকুমেন্ট আদান প্রদানের প্রথা চালু ছিল। তবে এসব সমালোচনাকে কানে না নিয়ে এই পর্যন্ত কাজ করে চলেছেন আইয়াদুরাই শিবা। 

তবে দুঃখের বিষয় হলো, এই ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে ইতিহাসে স্থান দিতে চায়নি খোদ আমেরিকাও। তারা দাবি উঠিয়েছিল, শুধু ই-মেল নামটির কপিরাইট পেতে পারেন আইয়াদুরাই। বাকিটা অন্যএর ক্রেডিট হতে পারে। কারণ এই ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাকি আরো ১০ বছর আগেই বাজারে এসে গিয়েছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে যায় ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত মার্কিন সংবাদপত্র ‘হাফিংটন পোস্ট’এর একটি রিপোর্টের কারণে। তবে যে যাই বলুক, ইমেইল আবিষ্কার করেছেন শিবা আইয়াদুরাই। আর তার এই আবিষ্কারে আইটি বোদ্ধারা মনে করছেন, প্রযুক্তির হাত যতই দীর্ঘায়িত হোক না কেন ইমেইলের আবেদন সার্বজনীন। এদিকে, অনাড়ম্বর স্বীকৃতির মধ্যদিয়ে প্রায় ৪০ বছর পূর্ণ করতে চলল এই ইমেইল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই