Alexa ‘ইভিএমে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই’

‘ইভিএমে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৫ ২৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৫ ২৮ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।

মঙ্গলবার ইসির ৫৮তম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় আসন্ন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রগুলো সিসি টিভির আওতায় আসবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ভোট কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে থেকে সিসি ক্যামেরা আছে সেগুলোকে সচল রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেইসব ক্যামেরার মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করা যায়। তবে কেন্দ্রগুলোর বুথে কোনোভাবেই যাতে সিসি ক্যামেরা না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। 

আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সচিব বলেন, বড় ধরনের কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে- তা নয়। উত্তর-দক্ষিণে দুটি ঘটনা ঘটেছে। এই দুটি ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

ইভিএমে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। যদি কারো আঙুল না থাকে তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ওই ব্যক্তি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এ ধরনের ঘটনায় মাত্র ১ শতাংশ ভোটারদের সনাক্ত করতে পারবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। ১ শতাংশের বেশি হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। আরো বেশি হলে কমিশনের অনুমতি লাগবে। পরবর্তীতে চাইলে এই ইভিএমের তথ্য জানা যাবে। ভোটের তথ্য আমাদের কাছে ডিজিটালি সংরক্ষণ করা থাকে। মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। কেউ ইচ্ছা করলে এ নিয়ে আদালতেও যেতে পারেন। কেউ মামলা করলে আমরা দেখাতে পারব। 

ইভিএম মেশিন আমেরিকা, বৃটেনসহ কয়েকটা দেশের রাষ্টদূতরা দেখে গেছেন। তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সবচেয়ে বড় অংশীজন বিএনপিই ইভিএম নিয়ে সন্তুষ্ট নয়- এই প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন,  তারা তো ইভিএম দেখতে আসে না। আমরা তো ওপেন রেখেছি। যদি তারা না আসেন, আমরা তাদের কিভাবে আনতে পারি। 

বিদ্যমান আচরণবিধি সংশোধন সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল। তখন কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় ছিল। তারা জনগণ ও রাজনীতিকদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলে আচরণ বিধিমালা করেনি। তখন সংলাপ হলেও সেটা অনেকটা রেসট্রিকটেড (নিয়ন্ত্রণ) ছিল। তারা আচরণ বিধিমালাসহ আরো অনেক কিছু চাপিয়ে দেয়। ২০০৯ এবং এখনকার পরিস্থিতি তো এক নয়। এখন গণতান্ত্রিক সরকার,গণতান্ত্রিক পরিবেশ, স্বাধীনভাবে মানুষ কথা বলতে পারে। 

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সাংবাদিকেদের উপরও অনেক  বিধিনিষেধ ছিল। আপনারা কি সেই আচরণ বিধিমালা চান? মানুষের সচেতনা বেড়েছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ রয়েছে। সেই সঙ্গে আচরণ বিধিমালা আধুনিকায়ন হয়েছে। তার মানে এই নয় কাউকে অন্যায় কোনো সুবিধা দেয়া হবে। এটি হালনাগাদ করতে হবে। 

সিটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের নিয়ে বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকদের কোনো কার্ড দেয়ার ব্যাপারে কমিশন থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। যে নীতিমালা আছে সেই অনুযায়ী দিচ্ছি। যারা ইসিতে নিবন্ধিত তাদেরকেই কার্ড দেয়া হবে।

এর আগে ইসির ৫৮তম বৈঠক শেষে সচিব বলেন,শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হলেও তফসিল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি উপ-নির্বাচন নিয়ে আবারো বসবে কমিশন। সেখানে পাঁচটি আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। সেদিন তিনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বাকি দুটি উপ-নির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি পুনরায় বৈঠকে বসবে কমিশন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/এমআরকে/এসএএম