Alexa ইনজেকশন পুশ করে ধর্ষণ, তুলে রাখতেন ছবি

ইনজেকশন পুশ করে ধর্ষণ, তুলে রাখতেন ছবি

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৪:১৫ ১১ জুলাই ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরের জংশন এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগে নামধারী এক ডাক্তারকে আটক করেছে র‌্যাব।

এক নারীকর্মীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার রাতে তাকে আটক করা হয়। আটক মীর হোসেন লাকসাম পৌরসভার বাইনচাটিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি ওই এলাকার ডিজিটাল হেলথ কেয়ারের মালিক।

মীরের ধর্ষণের কৌশল ছিল ভিন্ন। বছরের পর বছর নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজি ল্যাবে কর্মরত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি। কখনো প্রলোভনে, কখনো চাকরি হারানোর হুমকি দিয়ে কিংবা কাউকে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করে ধর্ষণ করতেন। ধর্ষণের সময় গোপন ক্যামেরায় ছবি তুলে মাসের পর মাস ছবি প্রকাশের হুমকি দিয়ে চালিয়ে গেছেন যত অপকর্ম। তবে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না।

মীর হোসেন ডাক্তার না হয়েও নিজেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দাবি করতেন। স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে ম্যানেজ করে দীর্ঘ চার বছর ধরে নিজেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

কয়েক মাস আগে এক সুন্দরী নারীকর্মীকে নিজের প্যাথলজিতে ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন মীর হোসেন। কিন্তু চাকরির শুরুতেই নানা অজুহাতে ওই নারীর শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করতেন তিনি। এক পর্যায়ে মীর তাকে ইনজেকশন পুশ করে ধর্ষণ করেন। গোপন ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখা আছে- এমন হুমকি দিয়ে ওই নারীকে অন্তত ৩০ বার ধর্ষণ করা হয়। প্রতিবার ধর্ষণের সময় শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করা হতো। ঘটনা প্রকাশ করলে ইন্টারনেটে ছবি ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। তার নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে সোমবার কুমিল্লায় র‌্যাবের কাছে ওই নারী লিখিত অভিযোগ করেন।

র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার এএসপি প্রণব কুমার বলেন, অভিযোগ যাচাই করে এসবের সত্যতা পেয়ে ডিজিটাল হেলথ কেয়ারে অভিযান চালিয়ে ভুয়া ডাক্তার ধর্ষক মীর হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় চেম্বারের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, কন্ডমসহ বিভিন্ন অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ধর্ষণের সব চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, তিনি কোনো ডাক্তার নন, চাকরি দেয়ার নামে ওই চেম্বারে অসংখ্য নারীকর্মীকে ধর্ষণ করেছেন মীর। এরইমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন নারীকর্মীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে বর্তমানে সেখানে কর্মরত এক নারীকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ওই ভুয়া ডাক্তার নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর