ইথিওপিয়ায় ব্যাপক সহিংসতায় ৮১ জনের মৃত্যু, সেনা মোতায়েন

ইথিওপিয়ায় ব্যাপক সহিংসতায় ৮১ জনের মৃত্যু, সেনা মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৮ ২ জুলাই ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় জনপ্রিয় এক গায়কের মৃত্যু ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে থাকার অনুভূতিকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতা চলছে। চলমান সহিংস বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৮১ জনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরইমধ্যে রাজধানী আদ্দিস আবাবাসহ পার্শ্ববর্তী ওরোমোতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

গত সোমবার  রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন দেশটির ওরোমো বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হাকালু হান্দিসা। পুলিশ বলছে, দুর্বৃত্তরা পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। ঘটনার পরদিন সকালেই দেশটির রাজধানী এবং ওরোমিয়া অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

দেশের বৃহত্তম নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ওরোমোর সদস্য হাকালালু হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তাতে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পদক্ষেপকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

ওরোমোসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল এবং লাঠি নিয়ে সজ্জিত দলগুলি রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওরোমো বংশোদ্ভূত যুবকদের শহরের অন্য কয়েকটি নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিস্থিতিরে কথা বলেছিল। যেখানে উভয় পক্ষই পুলিশের সাথে তর্ক করেছিল।

ওরোমোর একজন বাসিন্দা বলেন, আমাদের কমিউনিতে একটা মিটিং হয়েছে। আমাদের যা অস্ত্র আছে, তা নিয়ে আমাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আমাদেরকে রক্ষার জন্য আমরা পুলিশের উপর বিশ্বাস করিনা। তাই আমরা নিজেরাই প্রস্তুতি নিয়েছি। এই ওরোমো এথনিক গোষ্ঠীরই সদস্য ছিলেন নিহত শিল্পী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেশ কিছু এলাকায় গোলাগুলির শব্দও পাওয়া গেছে। লাঠি-রামদা হাতে দৃর্বৃত্তদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে অনেক এলাকায়।

ওরোমিয়ার পুলিশ প্রধান বলেন, সহিংস বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ওরোমিয়া স্পেশ্যাল পুলিশ ফোর্সের তিন সদস্যও রয়েছেন।

কিছু এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বলছিলেন। যার মধ্যে একজন পাথরে ভর্তি এক রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলেন, যে পাথরগুলো পুলিশকে লক্ষ করে মারা হয়। 

সঙ্গীতশিল্পী হাকালু হান্দিসা ইথিওপিয়ার তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। দেশটিতে তিন বছরের টানা আন্দোলনের মুখে আগের মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার পদত্যাগের পর পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে অবাধ রাজনীতির নতুন যুগ শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ওই সময় বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ সমাবেশে হাকালুর গান মাইকে বাজাতেন।

বৃহস্পতিবার দেশটির জনপ্রিয় এই শিল্পীর নিজের এলাকা আম্বোতে তার শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, তার শেষকৃত্যকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স ও  এএফপি

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ