Alexa ইতিহাস বিখ্যাত ভাই-বোনের রেষারেষির গল্প

ইতিহাস বিখ্যাত ভাই-বোনের রেষারেষির গল্প

খাদিজা তুল কুবরা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১৬ ৬ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভাই-বোনের সম্পর্ক সর্বদায় অতি মধুর। যেনো একজনের ছায়ায় আরেকজনের বেড়ে ওঠা। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। এমন কিছু নজির আছে যেখানে এই সংজ্ঞাটি ভীষণ পাল্টে দেয়। চলুন জেনে নেই এমন কিছু ইতিহাস বিখ্যাত ভাইবোনের রেষারেষির গল্প-

১। দ্য উইলিয়ামস সিস্টার্স
বিখ্যাত টেনিস তারকা ভেনাস এবং সেরেনা উইলিয়ামসকে আমরা কে বা চিনি না! অথচ এই দুই বোনের মধ্যকার কুন্দলের ব্যাপারটা কিন্তু আমাদের অনেকেরই অজানা। অদ্ভুত শুনালেও সত্যি যে, এই দুই বোনকে কখনো একে অন্যের বিপরীতে খেলতে দেখা যায় না। মাত্র আটবার তারা একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছেন।  খেলা শেষে প্রতিবারই খুব একটা ভালো অনুভূতি হয়নি কারোরই বরং কদাচিৎ বিব্রতকর হয়ে উঠেছিল। দুইবোন প্রতিবারই সহজ সাপ্টে বলে দেন যে, তারা কখোনো একে অন্যের বিপরীতে খেলাটা উপভোগ করেন না। সেরেনা এক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ভেনাস যখন তাকে হারিয়ে দেয় তখন সে রীতিমত হতাশ হয়ে পড়ে। সেরেনা বড় বোন হওয়ার দরুন সে হার তাকে প্রতিবারই ভীষণ রকম পীড়া দেয়। 

কেইন ও এবেল ২। কেইন ও এবেল 
এখান থেকেই মূলত ভাইবোনের মধ্যকার রেষারেষির শুরু। কেইন এবং এবেল ছিলেন এডম এবং ইভ এর দুই পুত্র। কিন্তু নতুন গড়ে উঠা পৃথিবীকে দু’জন দেখতে শুরু করলেন ভিন্নভাবে। যেটি একটি অন্যের পারস্পরিক। বাইবেল মতে, কেইন পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম যে নিজ হাতে ভাই এবেলকে হত্যা করে।

দ্য এন্ড্রইউ সিস্টার্স৩। দ্য এন্ড্রইউ সিস্টার্স
লাভেরনে, ম্যাক্সেনে এবং প্যাটি এই তিন বোনই একই সাথে কাজ করতো ত্রয়ী গানের গ্রুপ নিয়ে এবং প্রতিবার টপ চার্টের শুরুতে থাকতো এই তিন বোনের গান। অথচ কখনো সংবাদ মাধ্যমে একসাথে দেখা যেতো না তাদেরকে। এমনকি অফ স্টেজেও তাদেরকে কখনো কথা বলতেও দেখা যায় নি। পরবর্তী একসময় প্যাটি তিনবোনের সেই গ্রুপটি ছেড়ে অন্য একটি গ্রুপে যোগ দেন, এমনকি দু বোন কে না জানিয়েই। যখন প্যাটির নতুন গ্রুপের গান নিয়ে সমালোচনা হয় তখন বেশ সাবলীলভাবেই লাভেরনে এবং ম্যাক্সেনে উভয়ই এক প্রতিশোধ আনন্দ অনুভব করে।

জন ও জিম হারবাফ৪। জন ও জিম হারবাফ
খেলার মাঠের লড়াই বরাবরি প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ। আর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ন্যাশনাল ফুটবল লীগ (এনএফএল) এর কথা তো বলাই বাহুল্য। ২০১৩ সালের সুপারবলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কোচ ছিলেন দুই সহোদর জন ও জিম হারবাফ। বয়সে তারা কেবল ১৫ মাসের ছোট বড়। তবে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছিলো জনেরই। তবে সে ম্যাচের মূল আকর্ষণ হয়েছিলো ম্যাচ পরবর্তী দুই সহোদরের হ্যান্ডশেকের ঘটনাটি। পরাজিত হওয়ার আক্ষেপে জনের সাথে হ্যান্ডশেক করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন জিম! 

এডলফ ও রুডলফ ডেসলার৫। পুমা এবং এডিডাস 
বিখ্যাত এই দুই ব্র্যান্ডের পেছনের গল্প যে দুই ভাইয়ের রেষারেষির ফসলকে জানতো। জার্মান দুই ভাই এডলফ ও রুডলফ ডেসলার মূলত প্রথম দিকে একসাথে মিলে একটি জুতার দোকান খুলেছিলেন তাদের মায়ের লন্ড্রী রুমে। সে ব্যবসা যখন বেশ সফলভাবে ফুলে উঠতে থাকলো তখন উভয়ের মাঝে দেখা দিতে থাকলো কুন্দলের। যা পরবর্তীতে আরো ব্যবসা সফল দু’টি কোম্পানি পুমা এবং এডিডাসের আবির্ভাব ঘটায়। উভয় কোম্পানিই আজ বিশ্বমঞ্চে তুমুলভাবে জনপ্রিয়। 

অলিভিয়া ও জোয়ান ফোন্টেইন ৬। অলিভিয়া ও জোয়ান ফোন্টেইন 
অলিভিয়া ডি হাভিল্যান্ড এবং জোয়ান ফোন্টেইন এই দুই বোনের উভয়ই সমানভাবে পরিচিত। কারণ এই দু’জনই একাডেমি এ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তাদের ১৯৩০ ও ১৯৪০ এর দিকের সিনেমাগুলোর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। তবে এই দুইবোনের রেষারেষির শুরুটা ভীষণ ছোটোবেলা থেকেই। যখন থেকে মায়ের আদর নিয়ে ভাইবোনের মধ্যে অভিমান জন্ম নেয়। প্রায় ৩০ বছর একে অন্যের সাথে কথা বলেননি এই দুই বোন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস