Alexa ইতিহাসের অদ্ভুত সব চিকিৎসা পদ্ধতি!

ইতিহাসের অদ্ভুত সব চিকিৎসা পদ্ধতি!

আঁখি আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২৫ ৫ আগস্ট ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পৃথিবীতে সব মানুষই অসুস্থ হয়। এমন মানুষ কখনোই খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে একবারও অসুস্থ হয়নি। তবে বর্তমানের মতো এতটা উন্নত চিকিৎসা প্রাচীন যুগে ছিল না। এখন যত কঠিন রোগই হোক তা খুব দ্রুত সারিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু অতীতে চিকিৎসা বিজ্ঞান এতটা উন্নত ছিল না আর উন্নত ঔষধও ছিল না।

তখন রোগ ঠিক করার জন্য ডাক্তাররা কি করতো জানেন কি? তারা এমন কিছু আজব ও অদ্ভুত জিনিস ব্যবহার করতো যা আপনি কখোনোই ব্যবহার করতে চাইবেন না। আপনি কি আপনার শরীরের চর্বি কমানোর জন্য ফিতাকৃমি খেতে পারবেন? অবাক হলেও তাই হতো সেই যুগে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক অতীতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে কি করা হতো সেই সম্পর্কে-

মস্তিষ্কের অসুস্থতা
মস্তিষ্কের অসুস্থতা চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটা বড় রোগ। মাত্র কয়েক বছর আগে এই রোগের চিকিৎসা আবিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু আজ থেকে ১০০ কিম্বা ২০০ বছর আগে মস্তিষ্কের অসুস্থতার চিকিৎসা করা অভিশাপের চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা এমন ভাবে করা হতো যে তারা আর বেঁচেই থাকতো না।

১৯৩৬ সালে আমেরিকায় ল্যাবোটমি নামের এই যন্ত্রটি খুব বিখ্যাত ছিল। প্রত্যেক বছর এই যন্ত্রের সাহায্যে ৫০০০ মস্তিষ্কের অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা করা হতো। এই চিকিৎসার  প্রক্রিয়ায় প্রথমে রোগীকে অ্যানেসথেশিয়ার ইনজেকশন দেয়া হতো। তারপরে তাদের চোখের উপরের অংশে ল্যাবোটমি ঢুকিয়ে দেয়া হতো। আর এতে ওই যন্ত্রের কাঁটাওয়ালা অংশ ব্রেন পর্যন্ত পৌঁছে যেত। এটা করা হতো যাতে ব্রেনের যে অংশ খারাপ হয়েছে সেটা ঠিক করা যায়। কিন্তু এতে রোগী ঠিক হতো না বরং রোগী আরো অনেক বেশি পাগল হয়ে যেত। বেশিরভাগ সময় রোগী  কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ করতো। এই চিকিৎসার মাধ্যমে একজন রোগীকেও ঠিক করা যায়নি। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে ল্যাবোটমি নামের এই চিকিৎসা ব্যান করে দেয়া হয় ।

ওজন কমানো
পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের ওজন স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। তারা তাদের ওজন কমাতে কি না করে। কেউ গ্রিন টি খায়, কেউ আবার লেবুর শরবত খায়। কিন্তু ১৮০০  সালের দিকে মানুষকে ওজন কমানোর জন্য একটি ক্যাপসুল খেতে হতো। আর ঐ ক্যাপসুলে ফিতাোকৃমির ডিম থাকতো। আর যখন ঐ ক্যাপসুল পেটের ভেতরে যেত তখন ডিম থেকে ফিতাকৃমি বাহিরে চলে আসতো। আর তারপর থেকেই  ওই ব্যক্তি যা খেত তার ক্যালরি এই ফিতাকৃমি খেয়ে ফেলত। আর এতে করে মানুষ মোটা হতো না।

কিন্তু যখন ফিতাকৃমি পেটে বসে মানুষকে জ্বালাতন করতো, আর তখন সেটা বের করার জন্য আবার ব্যবস্থা নেয়া হতো। ফিতাকৃমিকে পেটের রাক্ষস বলা হয়। আর এটা বের করার জন্য আজ থেকে ২০০ বছর পূর্বে মানুষকে একটা বিশাল আকৃতির ঔষধ খেতে হতো। ঐ ওষুধে ফিতাকৃমিকে মেরে ফেলার বিষ থাকতো।  যে বেক্তি এটা খেয়ে ফেলতে পারতো সেতো বেঁচে যেত কিন্তু যে এটা গিলতে না পারতো তার ধম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতো তখন।  

ডায়েট খাবার
পৃথিবীতে এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো আপনি বেঁচে থাকার জন্য খেতে পারেন। আর এসব খাবারের মধ্যে এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলোতে সকল পরিমাণ নিউট্রেনস রয়েছে। আর এই খাবার গুলো যদি আমরা শুধু বেঁচে থাকার জন্য খাই তার পরেও আমরা সুস্থ থাকতে পারবো। কিন্তু কিছু মানুষ রয়েছে যারা এমন খাবারের খোঁজ করে যেগুলো খেলে তারা চিকন হতে পারবে সঙ্গে সুস্থও থাকতে পারবে।

এই সমস্যা সমাধানে ১৯৩৬ সালে ডক্টর রবার্ট লেন একটা টনিক বানিয়েছিলেন। আর নাম দিয়েছিল দা লাস্ট চান্স ডায়েট। এই ডায়েট কোন জাদু ছিল না, ছিল একটা টনিক। ডক্টর লিনের মতে এটা যদি আপনি প্রত্যেকদিন পান করেন তাহলে আপনার কিছু খাবার প্রয়োজন হবে না। আর আপনি মোটাও হবেন না। কিন্তু এই টনিক এ ছিল প্রোলিন নামক এক প্রকার লিকুইড। এতে খুব কম পরিমাণে নিউট্রেনস থাকে। এটাতে মাত্র ৪০০ ক্যালরি এনার্জি থাকে।

আমরা জানি যে, একজন সুস্থ মানুষকে ২০০০ থেকে ২৫০০ ক্যালোরি কাঞ্জিউম করতে হয়। প্রোলিন নামের লিকুইড মৃত জীবজন্তু থেকে বের করা হতো এমনকি এটা আসলে কোনো কাজেরই ছিল না। কিন্তু ডক্টর রবার্ট এটা বোতলে ভরে বিক্রি করা শুরু করে। এটা দিয়ে ৩০ জন মানুষের মৃত্যু হয়ে যায় তখন। পরবর্তীতে অবশ্য রবার্টকে এতো জন মানুষের মৃত্যুর দায়ে ও এই ফালতু জিনিস বিক্রির জন্যে গ্রেফতার করা হয়।

রেডিয়ামের ব্যবহার
যখন মেরি কিউরি ও তার স্বামী পিয়ের কিউরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেছিল তখন সেটা ১৯০০ শতাব্দীর বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ছিল। তারা রেডিয়াম খুঁজে বের করলো তারপর থেকে রেডিয়ামকে জাদু বলে মনে করা হতো। আর বড় বড় কোম্পানি রেডিয়াম মিলাতে শুরু করলো সব জিনিসে। যেমন টুথপেস্ট চকলেট এমনকি প্যাকেটজাত পানিতেও। তখন তারা রেডিয়ামকে বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও ঘড়িতে লাগাতে শুরু করে এবং সেটা কিনা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করতো। সঙ্গে মানুষ রেডিয়ামের ব্যবহার কসমেটিকেও করতে শুরু করে। মানুষ রেডিয়াম সম্পূর্ণ মুখে লাগাতো আর এতে করে অন্ধকারে সেটি জ্বলজ্বল করতো।

এর সঙ্গে সঙ্গে রেডিয়ামের ব্যবহার erectile dysfunction নামের একটি রোগের চিকিৎসায় করা হয়। পরবর্তীতে মানুষ যখন জানতে পারল রেডিয়ামের রেডিয়েশনের কারণে মানুষের মৃত্যু হতে পারে তারপর থেকে রেডিয়াম ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয় । কিন্তু প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত জিনিসপত্রে রেডিয়ামের ব্যবহার ১৯৬০ সালে বন্ধ হয়। বর্তমানে খেলনা ও ঘড়ি অন্ধকারে উজ্জ্বল করার জন্য রেডিয়ামের পরিবর্তে অন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। যা পরিবেশ বা মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়।

মারকিউরির ব্যবহার
মারকিউরি একটা ভয়ানক পদার্থ। এটি খেলে আপনার মৃত্যু অনিবার্য। যে সকল মাছে মারকিউরি  মাত্রা অনেক বেশি সেগুলো ডাক্তাররা খেতে নিষেধ করে। কিন্তু অনেক বছর পূর্বে মারকিউরি ব্যবহার করা হতো  syphilis নামের রোগের চিকিৎসার জন্য। syphilis এক প্রকার সেক্সুয়াল ট্রান্সমিটাল ডিজিজ। এই রোগের চিকিৎসা না করলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। বর্তমান সময়ে এ রোগ ঠিক করার জন্য প্যানাসলিন ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু ১৩০০- ১৯৫০ সাল পর্যন্ত মানুষজন syphilis রোগকে ঠিক করার জন্য মারকিউরি ব্যবহার করেছে। মানুষজন এটা চামড়ায় লাগাতো ।  ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করাতো। আবার অল্পমাত্রায় খেয়েও ফেলত। কিন্তু এই চিকিৎসা শেষে বেশিরভাগ মানুষ মৃত্যুবরণ করতো। syphilis রোগ ঠিক করার জন্য মারকিউরি কখনোই কাজ করতে পারেনি। তবে এটা ঠিক করার জন্য বর্তমানে মারকিউরাস ক্লোরাইড খানিকটা ব্যবহার করা হয়। এতে খুব অল্প মাত্রায় মারকিউরি ব্যবহার করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ

Best Electronics
Best Electronics