ইতালির যে শহরে বীরের বেশে চীনারা

ইতালির যে শহরে বীরের বেশে চীনারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫৭ ২ এপ্রিল ২০২০  

ইতালির প্রাতো শহরের সড়কে মাস্ক পরিহিত ৫৬ বছরের লুকা ঝু। ছবি:- রয়টার্স

ইতালির প্রাতো শহরের সড়কে মাস্ক পরিহিত ৫৬ বছরের লুকা ঝু। ছবি:- রয়টার্স

চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব। ভাইরাসটির সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বেশি আতঙ্কে ইউরোপের দেশ ইতালি। সেখানে যখন মড়কের মতো মানুষ মরছে, ঠিক তখনই দেশটির একটি শহরে দিব্যি বীরের বেশে ঘরে রয়েছেন চীনারা। কারণ তাদের মাঝে নেই করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ বা জীবাণু।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইতালির প্রাতো শহরের ৫০ হাজার চীনা বংশোদ্ভূত মানুষ রয়েছেন। তাদের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। প্রাতোর চীনারা উহানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের সুরক্ষা করেছেন। ঘর থেকে বের না হওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বিষয়টি মেনে চলছেন তারা। গত জানুয়ারির শেষের দিকে লকডাউনে চলে যায় ইতালির প্রাতোতে থাকা চীনা কাপড় ব্যবসায়ীরা। সমাজ বিছিন্ন হওয়ার পর সেখানকার অন্যান্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু চীনারা এখনো নিরাপদ রয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যানুযায়ী, দুই মাস আগে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে চীনা বংশোদ্ভূতদের বিদ্রুপ করা হয়। এ নিয়ে কড়া সমালোচনা করে মানবাধিকার সংগঠনটি।

প্রাতো শহরে শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেনজো বার্তি বলেন, প্রাতোর চীনাদের নিয়ে আতঙ্কিত ছিলাম। তাদের মাধ্যমে ইতালিতে করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা করছিলাম। অথচ তাদের কেউ আক্রান্ত হয়নি।

দেশটির তথ্যানুযায়ী, প্রাতো শহরে বসবাস করা লোকের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ চীনের নাগরিক। চীনা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ফ্রান্সেসকো উহু বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালির অনেক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে অনুরোধ করেছিলাম। তারা বিষয়টিকে পাত্তা দেয়নি। ভাইরাসটি মহামারি আকারে ছড়ানোর বিষয়টি তাদের বিশ্বাস হয়নি।

৪ ফেব্রুয়ারি চীন থেকে ইতালির প্রাতো শহরে ফেরেন চীনা ব্যবসায়ী লুকা ঝু। বাসায় ফিরেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে চলে যান তিনি। দুর্যোগের সময়ে চীনারা রেস্টুরেন্ট বা ক্লাবে যাচ্ছে না। ঘরে থেকে অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হলেই মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইতালিতে এক লাখ ১০ হাজার ৫৭৪ জন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছে ১৩ হাজার ১৫৫ জন। আর আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন চার হাজার ৩৫ জন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ