ইটভাটায় নেই করোনার প্রভাব

ইটভাটায় নেই করোনার প্রভাব

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:১০ ৩১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৯:২০ ৩১ মার্চ ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কলকারখানায় বন্ধ থাকলেও এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি জামালপুর জেলার ইটভাটাগুলোতে।

জেলার সবগুলো ইটভাটা ঘুরে এমন চিত্র খুঁজে পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে, ভাটায় আগের মতোই কর্মচঞ্চল পরিবেশে আগুন জ্বলছে, চিমনি দিয়ে বের হচ্ছে পুড়া ইটের ধোঁয়া, কাজ করছেন শ্রমিক, হচ্ছে বেচা কেনাও। কোনো কিছুই থেমে নেই। সবকিছুই হচ্ছে আগের মতোই। করোনা স্থবিরতার কোনো প্রভাবই পড়েনি অধিকাংশ ইটের ভাটায়।

ভাটার শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের সহায়তায় এখন পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি। করোনার কারণে কাজ বন্ধ করে দিলে স্ত্রী-ছেলেমেয়ে নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে।  

ডিসি কার্যালয়ের ব্যবসা-বাণিজ্য শাখা সূত্রে জানা যায়, জেলা সদর, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ১০৩টি ইটভাটা রয়েছে। 

আরো জানা যায়, ইটভাটা নির্মাণের আগে পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। যার মেয়াদকাল থাকে এক বছর। তারপর ডিসি’র কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয় তিন বছর মেয়াদি লাইসেন্স। এসব ইটভাটায় প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মরত। যারা রয়েছে করোনা ঝুঁকিতে। 

সোমবার, জেলার মিতালী, মেলান্দহ উপজেলার নবাব, সেভেন স্টার, এমএমএস, জান্নাত, ইসলামপুরের জেকিসহ অন্যান্য ইটভাগাগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাটাগুলোতে কাজ কর্ম চলছে আগের মতোই। প্রতিটি ভাটায় শ্রমিকরা কাজ করছে। করোনার কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। এখানে একসঙ্গে অনেক শ্রমিক পাশাপাশি গাদাগাদি করে কাজ করছেন। দুই একজন ব্যাতিত কারো মুখে নেই মাস্ক। তবে, আনাগোনা কম দেখা গেছে ক্রেতা সাধারণের।

এলাকাবাসীর শঙ্কা, ভাটাগুলোতে কাজ করায় ধুলা বালি ইত্যাদি কারণে এমনিতেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে শ্রমিকরা। বর্তমানে করোনার কারণে তাদের সে ঝুঁকি মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে। অথচ শ্রমিক মালিক কেউই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিচ্ছেন না। তাদের এ গাফিলতির কারণে যে কোনো সময় তারা করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। আর তা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশপাশের এলাকায়।

মিতালী ইটভাটার শ্রমিক কামাল মিয়া জানান, স্যার আমরা গরিব-অসহায় দিনমজুর। দিনে যা আয় রোজগার হয়, তা দিয়েই ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনো রকম সংসার চলে যায়। কাজ না করলে খাওয়াবে কে?

ইসলামপুরের জেকি ভাটার ট্রাকে ইট তোলা শ্রমিক মামুন বলেন, আমাদের ভাটা থেকে মালিকপক্ষ কোনো নিষেধ করেনি। তাছাড়া বসে থাকলে চলে না। কয়েক দিন পর থেকেই তো বৃষ্টি শুরু হবে। তখন আর কাম করা যাবে না। তাই এখন নিয়মিতই কাজ করছি।

এ ব্যাপারে সেভেন স্টার ব্রিকসের মালিক হারুন-রশিদের সঙ্গে কথা বলতে তার ভাটায় গেলে, তার ম্যানেজার বলেন, স্যার ভাটায় নেই, কোথায় আছেন জানি না। তিনি জানান, করোনার কারণে শ্রমিকরা আসছে না ভাটায়। আপাতত সীমিত আকারে শ্রমিকরা কাজ করছে এখানে।

মানবাধিকার কর্মী ও পরিবেশবাদী জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, ইটভাটার কারণ কৃষি জমি উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে দেশের এ সংকটে ভাটা বন্ধ না করায় ভাটায় কাজ করা শ্রমিকদের জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। দ্রুত ইটভাটাগুলো বন্ধের আওতায় আনা উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ