ইটভাটার শ্রমিককে শিকলে বেঁধে নির্যাতন!

ইটভাটার শ্রমিককে শিকলে বেঁধে নির্যাতন!

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৭ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

শিকলবন্দী ইটভাটা শ্রমিক রাম বসাক

শিকলবন্দী ইটভাটা শ্রমিক রাম বসাক

নাটোরের গুরুদাসপুরের মেসার্স এএসবি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার গোপন কক্ষে এক শ্রমিককে শিকলে বেঁধে তিনদিন ধরে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতনের শিকার ওই শ্রমিকের নাম রাম বসাক। তার অভিযোগ ইটভাটা মালিক আব্দুর রহিম মোল্লার ছেলে আলমগীর মোল্লা ও তার ভাতিজা ছাবলু এ নির্যাতন চালিয়েছেন।

এ ঘটনায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে রাম বসাকের বাবা ছুটু বসাক গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

রাম বসাক জানান, তিনি উপজেলার শাহাপুর গ্রামের আব্দুর রহিম মোল্লার ইটভাটায় মাটি তৈরির কাজ করেন। অভাবে পড়ে বর্ষা মৌসুমে ১৫ হাজার টাকার অগ্রিম শ্রম বিক্রি করে ছিলেন তিনি। তাও সিরাজুল ইসলাম নামে এক সর্দারের মাধ্যমে। চার মাস আগে কাজ শুরু করে ১৫ হাজার টাকা শোধ করেছেন তিনি। কিন্তু সর্দার সিরাজুলসহ কিছু শ্রমিক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে শিকলবন্দী করে নির্যাতন করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুরুদাসপুরের শাহাপুর গ্রামে আব্দুর রহিম মোল্লার মেসার্স এএসবি ব্রিকস নামে একটি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। সেখানেই অগ্রিম বিক্রি করা শ্রম কাজের মাধ্যমে পরিশোধ করছিলেন পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলার ছুটু বসাকের ছেলে রাম বসাক। ওই উপজেলারই শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম এই ইটভাটার শ্রমিক সর্দারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আব্দুর রহিম মোল্লা দাবি করেন, তার ভাটায় কাজ করার জন্য শ্রমিক সর্দার সিরাজুল ইসলাম অগ্রিম ১৫ লাখ টাকা নিয়ে ছিলেন। এরমধ্যে শ্রমিকের কাজ করার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করে পালিয়েছেন। তবে যাকে শেকলে বেঁধে রাখা হয়েছে তিনি শ্রমিক হলেও সর্দারকে ধরতেই তাকে আটকে রাখা হয়েছে।

 রাম বসাকের বাবা ছুটু বসাক অভিযোগ করেন, কাজের জন্য শ্রমিক সর্দারের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। সেই টাকা পরিশোধ হলেও ছেলেকে তিন দিন ধরে শিকলে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়েছে। 

গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ