ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ল কৃষকের স্বপ্ন

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ল কৃষকের স্বপ্ন

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫২ ৩ জুন ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউপির সানাইল মৌজায় ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ল কৃষকের স্বপ্ন। চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ২০ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। যে সময়ে কৃষক হাসি মুখে ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত থাকার কথা, সে সময়ে তারা ধানক্ষেতে বসে আহাজারি করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ওই চকের ৩৩ জন কৃষকের প্রায় ২৪ থেকে ৩০ একর জমির আধা-পাকা ধান রনি ব্রিকসের বিষাক্ত ধোঁয়ায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তারা এমন তথ্য পেয়েছেন। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে কৃষি অফিস শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করতে পারবেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পূরণে তাদের কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গত সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে রনি ব্রিকস কর্তৃপক্ষ তাদের ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এ সময় ওই ইটভাটার ছেড়ে দেয়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় উত্তর পাশের জমিগুলোর আধা-পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রনি ব্রিকসের বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪টি প্রজেক্টের ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জনাব আলী, আবেদ আলী, আলমগীর ও রতন অভিযোগ করে বলেন, রনি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আমাদের সর্বনাশ হয়েছে। সারা বছরের খাবার ধোঁয়ায় পুড়ে জমিতেই শেষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে  খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ও করছেন তারা। এ দিকে, ধানের পাশাপাশি ওই ধোঁয়ায় আখসহ অন্যান্য ফসলাদি ও নষ্ট হয়েছে।

অভিযুক্ত রনি ব্রিকসের ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে ফসল নষ্ট হয়নি।  আবহাওয়াগত কারণে এ রকম হতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিসার টিপু সুলতান সপন ধান নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অসতর্কভাবে ইটভাটার আগুন নেভানোর কারণে ক্ষতিকর ধোঁয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে সিংগাইরের ইউএনও রুনা লায়লা বলেন, ইটভাটার মালিক অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেবেন। না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ