ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করে উধাও অভিযোগকারী

ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করে উধাও অভিযোগকারী

লালমনিরহাট ও হাতীবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ৬ জুলাই ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দোকান বন্ধের নির্ধারিত সময় পার করায় এক দোকানিকে জরিমানা করেন ইউএনও মশিউর রহমান। হাসেম আলী নামে ওই ব্যবসায়ী উল্টো মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ‘হুমকি-ধামকি’ ও ‘জোর করে’ জরিমানা করার অভিযোগ তুলে নিজেই এখন উধাও। 

হাসেম আলীর দেখা করতে গত তিন দিন ধরে একাধিকবার তার বাড়ি গেলেও দেখা মেলেনি। তবে অভিযোগকারীর স্ত্রী বলেন, ইউএনও স্যারের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে তার স্বামীর। আমি ও আমার স্বামী বিষয়টি মীমাংসা চাই। সম্প্রতি সময় স্থানীয় এমপি মোতাহার হোসেনের কাছে এ অভিযোগ দেন ওই ব্যবসায়ী হাসেম আলী। তিনি উপজেলার রসুলগঞ্জের ৭ নম্বর পৌর কোটতলী এলাকার বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২১ জুন সরকার ঘোষিত সময় অনুযায়ী বিকেল চারটার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ বলবৎ ছিল। ওইদিন নির্ধারিত সময়ের ৫ ঘণ্টা পর রাত ৯টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত তদারকিতে বের হন ইউএনও মশিউর রহমান। এ সময় পাটগ্রাম শহরের রেল ক্রসিংয়ের পাশে হাসেম আলীর দোকান খোলা থাকায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম মেনে বিকেল চারটার মধ্যে দোকান বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর চারদিন পর ২৫ জুন আবারো বিকেল চারটার পর দোকান খোলা রাখেন হাসেম। ওইদিন মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকানের সামনে গেলে দোকান খোলা রেখেই পালিয়ে যান হাসেম। 

উপায়ন্তর না পেয়ে ওই দোকানে তালা লাগিয়ে আশপাশের মানুষজনকে বলা হয় ওই দোকান যাতে অনুমতি ছাড়া খোলা না হয়। এর পরদিন সকালে আবার তালা ভেঙে দোকান খোলেন হাসেম। অনুমতি ছাড়া তালা ভেঙে দোকান খোলায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ওই দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে তালা দিয়ে ফিরে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর স্থানীয় এমপির কাছে ইউএনও’র বিরুদ্ধে ‘হুমকি-ধমকি’ ও ‘জোর করে জরিমানা’ আদায়ের লিখিত অভিযোগ করেন হাসেম। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দুই দিনই ওই দোকানিকে জেল-জরিমানার হুমকি দিয়ে জোর করে জরিমানা আদায় করা হয়।

তবে স্থানীয়  বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসেম আলী দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশ না মেনে অনেক রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতেন। রাতে দোকান খোলা রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে জরিমানা করে। জরিমানা করার চার দিন পর আবারো রাতে ওই দোকান খোলা পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের দেখে তিনি ভেতর থেকে শার্টার নামিয়ে ফেলে। শার্টার খুলে তাকে ডাক দিলে বাইরে এসে দৌড় দিয়ে পালিয়ে যান। এ অবস্থায় উপায় না পেয়ে তার দোকানে তালা দেয়। আবার তালা ভেঙে দোকান খোলেন হাসেম। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে দোকান বন্ধ করেন। অনুমতি ছাড়া দোকান না খোলার কথা বলা হলে এবার এমন ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ অভিযোগ তুলেছে ওই দোকানি।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত বলেন, বিভিন্ন বাজারে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি না মানা, নির্ধারিত সময়ের পর দোকানপাট খোলাসহ অকারণে আড্ডা দেয়ার জন্য অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় রাত প্রায় ৯টার সময় শহরের রেল ক্রসিংয়ের পাশে হাসেম আলীর দোকান খোলা থাকে। আমাদের দেখে দোকান থেকে সে পালিয়ে যায়। এর আগে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাতে দোকান খোলা রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তার জরিমানা করে।

অভিযোগের বিষয়ে পাটগ্রামের ইউএনও মশিউর রহমান বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিল। তাকে চাঁদাবাজি করতে নিষেধ ও বিভিন্ন সময় হুঁশিয়ারি প্রদান করায় দোকানিকে ব্যবহার করে এমন মিথ্য ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, সরকারি নির্দেশ মোতাবেক যথাযথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। কাউকে হুমকি-ধামকি দেয়া হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ